জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চভাড়া

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে গণপরিবহন খাতে ভাড়া সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় এবার বাড়ল লঞ্চভাড়াও। বাসের পর নৌপথের যাত্রীদেরও এখন থেকে বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে। কম দূরত্বের যাত্রায় প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা এবং দীর্ঘ দূরত্বের ক্ষেত্রে ২০ পয়সা হারে নতুন এই ভাড়া কার্যকর হয়েছে।

আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেন নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৈঠকে জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি তোলা হলে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে একই দিনে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়াও বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। মহানগর, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের যুক্তি। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোল—প্রতিটি জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকা, কেরোসিনের দামও একই অর্থাৎ ১৩৫ টাকা। অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৫৫ টাকা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ধাপে ধাপে পরিবহন খাতের বিভিন্ন শাখায় পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রথমে সড়কপথের বাস-মিনিবাস এবং তার পরপরই নৌপথের লঞ্চভাড়া বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত সাধারণ যাত্রীদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাত্রীদের একাংশ। তবে পরিবহন মালিকদের যুক্তি, জ্বালানি খরচ বাড়ায় পরিচালন ব্যয় সামলাতে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া উপায় ছিল না।

নতুন ভাড়া কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর থেকে লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। অনেকেই বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম কমলে ভবিষ্যতে ভাড়া পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত তারিখ ও ঘোষণার ক্রমধারা মূল তথ্যসূত্র অনুযায়ী উপস্থাপন করা হয়েছে; এ বিষয়ে কোনো অতিরিক্ত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ঐশ্বরিয়া রাই ফিরছেন প্যারিসের মঞ্চে

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চভাড়া

আপডেট সময় ০৪:৪৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে গণপরিবহন খাতে ভাড়া সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় এবার বাড়ল লঞ্চভাড়াও। বাসের পর নৌপথের যাত্রীদেরও এখন থেকে বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে। কম দূরত্বের যাত্রায় প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা এবং দীর্ঘ দূরত্বের ক্ষেত্রে ২০ পয়সা হারে নতুন এই ভাড়া কার্যকর হয়েছে।

আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেন নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৈঠকে জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি তোলা হলে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে একই দিনে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়াও বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। মহানগর, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের যুক্তি। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোল—প্রতিটি জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকা, কেরোসিনের দামও একই অর্থাৎ ১৩৫ টাকা। অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৫৫ টাকা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ধাপে ধাপে পরিবহন খাতের বিভিন্ন শাখায় পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রথমে সড়কপথের বাস-মিনিবাস এবং তার পরপরই নৌপথের লঞ্চভাড়া বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত সাধারণ যাত্রীদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাত্রীদের একাংশ। তবে পরিবহন মালিকদের যুক্তি, জ্বালানি খরচ বাড়ায় পরিচালন ব্যয় সামলাতে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া উপায় ছিল না।

নতুন ভাড়া কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর থেকে লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। অনেকেই বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম কমলে ভবিষ্যতে ভাড়া পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত তারিখ ও ঘোষণার ক্রমধারা মূল তথ্যসূত্র অনুযায়ী উপস্থাপন করা হয়েছে; এ বিষয়ে কোনো অতিরিক্ত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Share this news as a Photo Card