দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যা প্রতিদিনই স্বজনহারাদের কান্নার সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে দুই হাজার ১৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ভর্তির সংখ্যা। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মশাবাহিত এই রোগ কতটা দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই মৃত্যুগুলোর মধ্য দিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৫ জনে। প্রতিটি সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে আছে একেকটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি, যা পরিসংখ্যানের বাইরেও গভীর এক বাস্তবতার জন্ম দেয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে সিটি করপোরেশনের সীমানার বাইরের এলাকাগুলোর মধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে একজন করে এবং খুলনা বিভাগে দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং রাজধানীর গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন বিভাগেও তা বিস্তার লাভ করছে।
সার্বিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৭৩ হাজার ৬৯৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৬ জন রোগী। এই সংখ্যা কিছুটা স্বস্তির হলেও, প্রতিদিন নতুন রোগীর ভর্তি এবং মৃত্যুর ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, বর্ষার পর আর্দ্র আবহাওয়া এবং জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এ অবস্থায় ঘরে ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনগুলোর সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















