প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের বৈঠক ঢাকায়

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের প্রসঙ্গ, যা দুই পক্ষের কাছেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে জানা গেছে।
এর আগের দিন, শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন মার্কিন এই দূত। শিবির পরিদর্শনকালে তিনি রোহিঙ্গাদের বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার সুযোগ পান এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়শিবিরে কাটানো রোহিঙ্গারা নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন বলে জানা যায়।
তিন দিনের সরকারি সফরে গত ৩০ জুলাই ঢাকায় পৌঁছান হোয়াইট হাউসের এই প্রতিনিধি। তার এই সফরকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঢাকা সফরের অংশ হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন, যেখানে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশেষ দূতের এই সফর সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ, যেখানে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশা করে আসছে বাংলাদেশ। প্রায় এক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ব মোড়লদের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এক কূটনীতিকের সরাসরি শিবির পরিদর্শন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বিষয়টিকে নতুন গুরুত্ব দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সফরকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল যথেষ্ট কড়া। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বৈঠক শেষে বিস্তারিত বিবৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আসন্ন দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও বাড়তে পারে। বিশেষত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আরও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সার্জিও গরের এই সফর কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এই সফরের মধ্য দিয়ে অনেকটাই স্পষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ২৩-২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে শি জিনপিং

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের বৈঠক ঢাকায়

আপডেট সময় ১১:৪১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের প্রসঙ্গ, যা দুই পক্ষের কাছেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে জানা গেছে।
এর আগের দিন, শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন মার্কিন এই দূত। শিবির পরিদর্শনকালে তিনি রোহিঙ্গাদের বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার সুযোগ পান এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়শিবিরে কাটানো রোহিঙ্গারা নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন বলে জানা যায়।
তিন দিনের সরকারি সফরে গত ৩০ জুলাই ঢাকায় পৌঁছান হোয়াইট হাউসের এই প্রতিনিধি। তার এই সফরকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঢাকা সফরের অংশ হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন, যেখানে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশেষ দূতের এই সফর সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ, যেখানে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশা করে আসছে বাংলাদেশ। প্রায় এক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ব মোড়লদের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এক কূটনীতিকের সরাসরি শিবির পরিদর্শন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বিষয়টিকে নতুন গুরুত্ব দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সফরকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল যথেষ্ট কড়া। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বৈঠক শেষে বিস্তারিত বিবৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আসন্ন দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও বাড়তে পারে। বিশেষত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আরও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সার্জিও গরের এই সফর কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এই সফরের মধ্য দিয়ে অনেকটাই স্পষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card