শিরোনাম :
প্রযুক্তি, নারীর অগ্রগতি ও ইউনিভার্সাল কার্ড নিয়ে যা জানালেন প্রধানমন্ত্রী পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন বৈশ্বিক সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় হবে: প্রতিমন্ত্রী আত্মহত্যার প্ররোচনায় এমপি নজরুল চার দিনের রিমান্ডে তেলের দামের ধাক্কায় কাঁচাবাজার, আটা-ময়দার পর চালেও অস্থিরতা সেতুর স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ নিউইয়র্কে দুটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আর্জেন্টিনার স্কোয়াড নেই আলমাদা ও ফয়থ মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকবেন জলবায়ু সংকট,রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ভিন্ন ৫টি করে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

প্রযুক্তি, নারীর অগ্রগতি ও ইউনিভার্সাল কার্ড নিয়ে যা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাষণে তিনি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে নিজের সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, আর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে এই বিজ্ঞান-প্রযুক্তিই। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি দ্রুত হলেও তার সুযোগ এখনও সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী ও বাড়তে থাকা ডিজিটাল সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন। আজকের ডিজিটাল বৈষম্য যাতে আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-কেন্দ্রিক বৈষম্যে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বকে সম্মান করে, তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যেন সব দেশ কাজে লাগাতে পারে, সে জন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
ভাষণের আরেক অংশে প্রধানমন্ত্রী দেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরে নারীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী, আর তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে সরকার নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ এবং ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, যা নারীদের ছোট ব্যবসা ও আয়বর্ধক কাজে যুক্ত হতে সহায়তা করছে।
শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও যে সরকারের লক্ষ্য, সে কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ফ্যামিলি কার্ডকে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, এই আলাদা আলাদা কার্ডগুলোকে একীভূত করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সবশেষে তিনি বলেন, বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না পড়ে এবং সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তি, নারীর অগ্রগতি ও ইউনিভার্সাল কার্ড নিয়ে যা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

প্রযুক্তি, নারীর অগ্রগতি ও ইউনিভার্সাল কার্ড নিয়ে যা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাষণে তিনি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে নিজের সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, আর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে এই বিজ্ঞান-প্রযুক্তিই। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি দ্রুত হলেও তার সুযোগ এখনও সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী ও বাড়তে থাকা ডিজিটাল সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন। আজকের ডিজিটাল বৈষম্য যাতে আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-কেন্দ্রিক বৈষম্যে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বকে সম্মান করে, তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যেন সব দেশ কাজে লাগাতে পারে, সে জন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
ভাষণের আরেক অংশে প্রধানমন্ত্রী দেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরে নারীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী, আর তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে সরকার নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ এবং ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, যা নারীদের ছোট ব্যবসা ও আয়বর্ধক কাজে যুক্ত হতে সহায়তা করছে।
শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও যে সরকারের লক্ষ্য, সে কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ফ্যামিলি কার্ডকে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, এই আলাদা আলাদা কার্ডগুলোকে একীভূত করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সবশেষে তিনি বলেন, বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না পড়ে এবং সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।

Share this news as a Photo Card