বন্যার ঝুঁকি কমানো, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ফেনীতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ নামের এই প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করা হয় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর), পরশুরাম উপজেলার মুহুরী ব্রিজ এলাকায়।
ফলক উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর নদী খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। উপস্থিত স্থানীয় মানুষের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকা থেকে সড়কপথে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু। অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ স্থানীয় নেতারা।
প্রকল্পে কী থাকছে
গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমিত ব্যয়ের এই প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন করা হবে। নদীতীর সংরক্ষণ হবে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার আবার খনন করা হবে। এ ছাড়া ২৭টি সেচ অবকাঠামোর পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের কাজও রয়েছে।
প্রকল্পের পরের ধাপে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, খনন ও সংস্কারের কথা ভাবা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় ঠিক করা হয়েছে।
দিনের বাকি কর্মসূচি
সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সূচি অনুযায়ী, দুপুর সোয়া একটার দিকে তিনি ফেনীতে পৌঁছান।
মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের উদ্বোধনের পর ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন। সেখানে ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করার কথা।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট।
বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠের অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরতদের সম্মানী দেওয়া হবে। জানা গেছে, ফুলগাজীতে ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। পুরো জেলায় কৃষক কার্ড পাবেন ৭ হাজার ৬৪৩ জন। ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিত পাবেন সম্মানী। ঢাকায় ফেরার আগে ওই স্থানের জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। ফেনীর কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় তাঁর রাজধানীতে ফিরে যাওয়ার সূচি রয়েছে।
ফুলগাজীর সঙ্গে স্মৃতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ১৯৯১ সাল থেকে এই আসনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











