শিরোনাম :
এলপিজির দাম বাড়ল,১২ কেজি ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ ইইউ খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা : মাইকেল মিলার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: বৃত্তাকার সড়কের কাজে আসছে গতি নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে ইয়েমেনে সৌদি হামলার প্রস্তুতি দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬০৮ হাসিনা প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া চলমান, সময়সীমা বলা সম্ভব নয়: ত্রিবেদী পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ ভারতের তিন মাসের মধ্যে গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়ার বাস টার্মিনাল চুনকুটিয়ায় মাদক ও দারিদ্র্যের ছায়ায় এক গ্রামে পাঁচ শিশু বিক্রির অভিযোগ রাজধানীর মাদক ব্যবসায় যুক্ত ২৭.৪ শতাংশ ১৫ বছরের শিশু

হাসিনা প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া চলমান, সময়সীমা বলা সম্ভব নয়: ত্রিবেদী

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে আদালত জড়িত থাকায় এর কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬–এর কর্ম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজক।

প্রত্যর্পণ নিয়ে যা বললেন

হাইকমিশনার বলেন, ভারত সরকার বারবারই জানিয়েছে, এ বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া আছে এবং সেটি আইনি ও সুসংগঠিত। তাঁর ভাষায়, প্রক্রিয়াটি এখন চলমান। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে থাকায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’।

ভারতের বিচারব্যবস্থা কার্যকর আছে এবং প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াতেই প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গ দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ‘আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন’—বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো ভারতেও প্রাণবন্ত গণতন্ত্র রয়েছে এবং দেশটির আইনি ব্যবস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

২০২৪ সালের আগস্টের প্রসঙ্গ

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান। সেই পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার। তাঁর দাবি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তখন এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি।’

ঘটনাটি বাংলাদেশের ‘মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ কারণে ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি যেন বিশ্বের কোথাও আর না ঘটে।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ভারতে পৌঁছানোর সময়ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে সেই পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে আসছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে কোথাও যাচ্ছেন।’

ভারতের সামনে তখন কী বিকল্প ছিল, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা যদি বলতাম—না, আমরা তাকে গ্রহণ করব না, অবতরণের অনুমতিও দেব না—তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত, আমি জানি না।’ প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতা মেনে নেওয়াই তাঁদের দায়িত্ব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের আগস্টে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতেই আছেন। বাংলাদেশ তাঁকে ফেরত পাঠাতে একাধিকবার ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ঢাকায় ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি তোলেন। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশের অনুরোধ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজির দাম বাড়ল,১২ কেজি ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাজধানীর মাদক ব্যবসায় যুক্ত ২৭.৪ শতাংশ ১৫ বছরের শিশু

০৩ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হাসিনা প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া চলমান, সময়সীমা বলা সম্ভব নয়: ত্রিবেদী

আপডেট সময় ০৫:৫২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে আদালত জড়িত থাকায় এর কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬–এর কর্ম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজক।

প্রত্যর্পণ নিয়ে যা বললেন

হাইকমিশনার বলেন, ভারত সরকার বারবারই জানিয়েছে, এ বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া আছে এবং সেটি আইনি ও সুসংগঠিত। তাঁর ভাষায়, প্রক্রিয়াটি এখন চলমান। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে থাকায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’।

ভারতের বিচারব্যবস্থা কার্যকর আছে এবং প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াতেই প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গ দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ‘আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন’—বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো ভারতেও প্রাণবন্ত গণতন্ত্র রয়েছে এবং দেশটির আইনি ব্যবস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

২০২৪ সালের আগস্টের প্রসঙ্গ

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান। সেই পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার। তাঁর দাবি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তখন এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি।’

ঘটনাটি বাংলাদেশের ‘মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ কারণে ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি যেন বিশ্বের কোথাও আর না ঘটে।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ভারতে পৌঁছানোর সময়ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে সেই পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে আসছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে কোথাও যাচ্ছেন।’

ভারতের সামনে তখন কী বিকল্প ছিল, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা যদি বলতাম—না, আমরা তাকে গ্রহণ করব না, অবতরণের অনুমতিও দেব না—তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত, আমি জানি না।’ প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতা মেনে নেওয়াই তাঁদের দায়িত্ব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের আগস্টে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতেই আছেন। বাংলাদেশ তাঁকে ফেরত পাঠাতে একাধিকবার ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ঢাকায় ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি তোলেন। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশের অনুরোধ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card