ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩টি আসন পাচ্ছে বিরোধী দল। এর মধ্যে ১১টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে জামায়াতে ইসলামী। বাকি দুইটি আসন পাচ্ছে শরিক দলগুলো।
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের এক শীর্ষ নেত্রী জানিয়েছেন আগামী ২১ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন জমা দিবেন তারা। ইতোমধ্যে জামায়াতের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাইবাছাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বাছাইকৃত প্রার্থীদের থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম শিগগিরই ঘোষণা হবে।
এ বিষয়ে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, জামায়াত ১১টি আসন পাচ্ছে। এর মধ্যে একটি আসন দেওয়া হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিবারকে, একটি আসন দেওয়া হচ্ছে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে, একটি জাগপার ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানকে। বাকি আটটি আসন জামায়াতের নারী নেত্রীরা আসছেন।
জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি বলেন, ডা. মাহমুদা আলম মিতুর আসনটি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এনসিপির অপর আসনে কে আসবেন সেটা আমি বলতে পারছি না।
জামায়াতের আট আসন সম্পর্কে নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, জামায়াতের মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ থেকে চারজন পাচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়োন। বাকি চার সাংগঠনিক বিভাগ থেকে চারজনকে মনোনোয়ন দেওয়া হচ্ছে।।
নূরুন নেসা সিদ্দীকা আরও জানান, কর্মপরিষদরে চারজনের বাইরে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে একজন, সিলেট অঞ্চল থেকে এক জন, বগুড়া অঞ্চল থেকে একজন ও ঢাকা অঞ্চল থেকে একজন।
এরই মধ্যে জামায়াতের আটজনকে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে। এ আটজনের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতের মহিলা বিভাগের আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সাবিকুন্নাহার মুন্নী, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজ (ঢাকা অঞ্চল), সিলেট অঞ্চলের জামায়াত নেত্রী সাবেক অধ্যাপক মাহফুজা সিদ্দিকা, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মেরিনা সুলতানা, বগুড়া অঞ্চলের প্রতিনিধি ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ, জামায়াতের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম ও সদস্য নাজমুন্নিছা নিলু।
এছাড়া আলোচনা রয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য সাঈদা রুম্মান, জান্নাতুল কারীম, নাজমুন নাহার, শামীমা বেগম। প্রার্থী হিসেবে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া এবং আলোচনায় থাকা নেত্রীদের সবাই বিভিন্ন সময়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্রীসংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন জামায়াত নেতাদের স্ত্রীরাও।
এর মধ্যে সাবিকুন্নাহার মুন্নী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী, জান্নাতুল কারীম কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুদ্দিন মানিকের স্ত্রী। এছাড়া দলের নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ তাহেরের স্ত্রী ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরীর কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। এমপির স্ত্রীকে মনোনয়ন না দেওয়ার নীতি থাকলেও ছাত্রীসংস্থার সাবেক এ নেত্রীকে প্রয়োজনে যুক্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সংসদে জামায়াত কাদের আনতে চাইছেন এমন প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি বলেন, সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনে বিরোধী দলের সদস্য হিসেবে বিতর্কে পারদর্শী ও সংসদে নেতৃত্ব দিতে পারবে এমন নেত্রীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংসদে বিরোধী দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন, সংসদীয় বিষয়, সংবিধান, আইন, অধ্যাদেশ সম্পর্কে ধারণা আছে এবং বিশেষ করে বিতর্কে পারদর্শী নেত্রীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
নূরুন নেসা সিদ্দীকা আরও জানান, ইতোমধ্যে ডা. মিতু, জাগপা চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান ও একজন জুলাই শহীদের মাকেও মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। ডা. মাহমুদা মিতুকে আসনটি দেওয়ার ব্যাপারে জামায়াতের আমিরের ওয়াদা ছিল। এবারের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা-দক্ষতাকে বিবেচনা করা হয়েছে। দলীয় নীতিমালার বাইরে কাউকে দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত আসনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে সে বিষয়টি এখনো জানা যায়নি। তবে জাতীয় নাগরীক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে রয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারী নারী শক্তির প্রধান মনিরা শারমিন।
নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দলে অনেক যোগ্য লোকও রয়েছে। দল সিদ্ধান্ত নিবে কাকে দিবে। আগামীকাল আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবো। নাম চূড়ান্ত হলে আপনারা জানতে পারবেন।
এদিকে জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া ছয় বছর বয়সী শিশু জাবির ইব্রাহিমের মাকে শহীদ পরিবারের জন্য নির্ধারিত আসনে মনোনয়ন দিতে পারে।
এ বিষয়ে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি জানান, শহীদ পরিবারের রাজনৈতিক মতাদর্শ কি আমরা সেটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। আমরা এমন একজনকে সংসদে নিয়ে আসতে চাই যিনি শহীদদের পক্ষে কথা বলবেন। গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে কথা বলবেন। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। এখানে কিছু শহীদের মা ছিলেন, কোনো কোনো শহীদের স্ত্রী ও বোন ছিলেন। তাদের থেকে একজনকে আমরা চূড়ান্ত করব।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।
জোটভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সরাসরি ভোটে নয়, বরং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যক সংরক্ষিত আসন পায় এবং সেই অনুযায়ী নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়। মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা বরাদ্দকৃত আসনের সমান হলে নির্বাচন কমিশন তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















