শিরোনাম :
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে গবেষণা ও এআইয়ে জোর দিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী বন্যায় প্লাবিত গাজার ৭০ হাজার তাঁবু, ঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ সড়কে একসঙ্গে প্রাণ হারাচ্ছে পরিবার, ছয় বছরে প্রায় ৩০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন সিলেট টেস্টে হজের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে কঠিন হলো বাংলাদেশের জয়ের পথ সমবায় আন্দোলনকে দুর্নীতিমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সমবায়ের আদর্শে মানুষকে স্বনির্ভর করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী মাদ্রাসায় মুজিববাদ-মওদুদীবাদ চলবে না: সরোয়ার আলমগীর ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুরাও এনআইডি সেবার আওতায় আসবে: ইসি টং দোকান থেকে ক্যাসিনো সম্রাট রুবেল শত কোটি টাকার মালিক! ঘুম ভেঙেই মোবাইল নয়, ভোরের আলোয় খুঁজুন জীবনের সৌন্দর্য

রংপুরে ছেঁয়ে গেছে চায়না দুয়ারী জাল

রংপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চায়না দুয়ারী নামের বিশেষ ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। খুব সহজে বেশি মাছ ধরার এই ফাঁদ ব্যবহারে ভবিষ্যতে দেশি প্রজাতির মাছ অস্তিত্বসংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল বুধবার মমিনপুর ইউনিয়নের তিস্তা সেচ ক্যানেলে দেখা গেছে প্রতি ২শত গজ দূরে দূরে বসানো হয়েছে চায়না দুয়ারী জাল। কেউ জাল বসানোর আয়োজন করছেন। জানা গেছে, মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের পর এবার ভয়ংকর চায়না দুয়ারী নামক ফাঁদে দেশীয় প্রজাতির সব মাছ ধরা পড়ছে। সহজেই সব ধরনের মাছ ধরা পড়ে এ জন্য অনেকেই অধিক মূল্যে কিনে ব্যাপক ব্যবহার করতে শুরু করেছেন এ জাল। এ ধরনের ক্ষতিকর ফাঁদ ব্যবহার বন্ধে মৎস্য বিভাগের সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযান চালিয়েও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

 দেশীয় প্রজাতির মাছ সূক্ষ্ম এ জালের ফাঁদে ধরা পড়ছে। বিশেষ করে মাছের প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা চিংড়ি, পুঁটি, ট্যাংরা, কই, শিং, বেলে, বোয়াল, শোল, টাকিসহ দেশি প্রজাতির সব মাছ চায়না দুয়ারী নামক জালে নিধন হচ্ছে। এতে ক্রমেই মাছশূন্য হয়ে পড়ছে সদরের নদ-নদী ও খাল-বিল।

 স্থানীয়রা জানান, চায়না দুয়ারী জাল সাধারণত এক থেকে দেড় ফুট উচ্চতা এবং ৫০ থেকে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ক্ষুদ্র ফাঁসবিশিষ্ট ঢলুক আকৃতির হয়ে থাকে। লোহার চারটি রড ও রডের রিং দিয়ে খোঁপ খোঁপ আকারে বক্স তৈরি করে চারপাশ সূক্ষ্ম জাল দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হয়। এই ফাঁদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, নদীর তলদেশে লম্বালম্বিভাবে লেগে থাকে। ফলে কোনো ধরনের খাদ্যদ্রব্য ছাড়াই দুদিক থেকেই মাছ ঢুকে আটকা পড়ে। তবে কেউ কেউ অতিরিক্ত মাছের আশায় ঘ্রাণ জাতীয় মাছের খাবার দিয়ে থাকে। একটি চায়না দুয়ারীর দাম (মানভেদে) ৪-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আরজ আলী নামের একজন বলেন, ‘চায়না দুয়ারী দিয়ে মাছ ধরা ঠিক না, তারপরও জীবিকার তাগিদে মাছ ধরছি।

 সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মখদুমী এ ব্যাপারে বলেন, ‘চায়না দুয়ারি’ নামে ভয়ংকর এ জাল দিয়ে মাছ ধরা এখনি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে আমাদের খাল বিলে দেশীয় মাছ পাওয়া যাবে না। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অবৈধ এ জাল বন্ধে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে গবেষণা ও এআইয়ে জোর দিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ঘুম ভেঙেই মোবাইল নয়, ভোরের আলোয় খুঁজুন জীবনের সৌন্দর্য

০৮ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রংপুরে ছেঁয়ে গেছে চায়না দুয়ারী জাল

আপডেট সময় ০১:৫১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৪

রংপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চায়না দুয়ারী নামের বিশেষ ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। খুব সহজে বেশি মাছ ধরার এই ফাঁদ ব্যবহারে ভবিষ্যতে দেশি প্রজাতির মাছ অস্তিত্বসংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল বুধবার মমিনপুর ইউনিয়নের তিস্তা সেচ ক্যানেলে দেখা গেছে প্রতি ২শত গজ দূরে দূরে বসানো হয়েছে চায়না দুয়ারী জাল। কেউ জাল বসানোর আয়োজন করছেন। জানা গেছে, মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের পর এবার ভয়ংকর চায়না দুয়ারী নামক ফাঁদে দেশীয় প্রজাতির সব মাছ ধরা পড়ছে। সহজেই সব ধরনের মাছ ধরা পড়ে এ জন্য অনেকেই অধিক মূল্যে কিনে ব্যাপক ব্যবহার করতে শুরু করেছেন এ জাল। এ ধরনের ক্ষতিকর ফাঁদ ব্যবহার বন্ধে মৎস্য বিভাগের সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযান চালিয়েও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

 দেশীয় প্রজাতির মাছ সূক্ষ্ম এ জালের ফাঁদে ধরা পড়ছে। বিশেষ করে মাছের প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা চিংড়ি, পুঁটি, ট্যাংরা, কই, শিং, বেলে, বোয়াল, শোল, টাকিসহ দেশি প্রজাতির সব মাছ চায়না দুয়ারী নামক জালে নিধন হচ্ছে। এতে ক্রমেই মাছশূন্য হয়ে পড়ছে সদরের নদ-নদী ও খাল-বিল।

 স্থানীয়রা জানান, চায়না দুয়ারী জাল সাধারণত এক থেকে দেড় ফুট উচ্চতা এবং ৫০ থেকে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ক্ষুদ্র ফাঁসবিশিষ্ট ঢলুক আকৃতির হয়ে থাকে। লোহার চারটি রড ও রডের রিং দিয়ে খোঁপ খোঁপ আকারে বক্স তৈরি করে চারপাশ সূক্ষ্ম জাল দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হয়। এই ফাঁদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, নদীর তলদেশে লম্বালম্বিভাবে লেগে থাকে। ফলে কোনো ধরনের খাদ্যদ্রব্য ছাড়াই দুদিক থেকেই মাছ ঢুকে আটকা পড়ে। তবে কেউ কেউ অতিরিক্ত মাছের আশায় ঘ্রাণ জাতীয় মাছের খাবার দিয়ে থাকে। একটি চায়না দুয়ারীর দাম (মানভেদে) ৪-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আরজ আলী নামের একজন বলেন, ‘চায়না দুয়ারী দিয়ে মাছ ধরা ঠিক না, তারপরও জীবিকার তাগিদে মাছ ধরছি।

 সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মখদুমী এ ব্যাপারে বলেন, ‘চায়না দুয়ারি’ নামে ভয়ংকর এ জাল দিয়ে মাছ ধরা এখনি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে আমাদের খাল বিলে দেশীয় মাছ পাওয়া যাবে না। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অবৈধ এ জাল বন্ধে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

Share this news as a Photo Card