শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির চেষ্টা, কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন ওপেনিংয়ে ওলটপালট, শেষ বিকেলে হৃদয়-মুশফিকের প্রতিরোধ সংবিধানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য: বিদ্যুৎমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে : প্রধানমন্ত্রী এআই যেন বেকারত্ব আরও জটিল না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারিয়ে ইরান যুদ্ধের দায় আংশিক মানলেন ট্রাম্প মোংলায় নতুন শিল্পকারখানা গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ‘ফিউচার মেকার্স’ জিতে নিল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর

জরুরি সেবায় জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহার

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীগুলোর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ জাতীয় সংসদে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এই ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত দুই দিন আগে থেকেই কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে নিশ্চিত করেছেন।

সংসদ সদস্যের উদ্বেগ ও প্রধানমন্ত্রীর তড়িৎ ব্যবস্থা
অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়িগুলোর জ্বালানি সংকটের কারণে নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পুলিশের টহল ও জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের তেলের সীমাবদ্ধতা থাকায় মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।

সংসদ সদস্যের এই উদ্বেগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সংসদ সদস্য যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সরকার তা আগেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে এবং বিষয়টি এরই মধ্যে অ্যাড্রেস (সমাধান) করা হয়েছে। আমরা বুঝতে পারছি যে, জননিরাপত্তা এবং জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই।”

যেসব বাহিনীর ওপর থেকে বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, জনস্বার্থে নিয়োজিত কয়েকটি বিশেষ বাহিনীর তেলের কোটা বা রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “পুলিশসহ ইমার্জেন্সি বাহিনী যারা আছে—বিশেষ করে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার ব্রিগেড—তাদের ওপর জ্বালানি তেলের যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা দুই দিন আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে নিয়োজিত যানবাহনে তেলের কোনো অভাব থাকতে পারবে না।”

নিরাপত্তা ও জনজীবন স্বাভাবিক করার প্রয়াস
সরকারপ্রধান জানান, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক বেশি তৎপর থাকতে হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং আপৎকালীন সেবা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের সার্বক্ষণিক সচল থাকা প্রয়োজন। জ্বালানির সীমাবদ্ধতার কারণে যেন কোনো মুমূর্ষু রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় বা অপরাধ দমনে পুলিশের টহলে যেন ঘাটতি না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই এই রেশনিং তুলে দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে এরই মধ্যে ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে যাতে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারে। আশা করছি, এখন থেকে জরুরি সেবা পেতে জনগণের আর কোনো ভোগান্তি হবে না।”

জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বিভিন্ন খাতে সাশ্রয়ী হওয়ার নীতি গ্রহণ করা হলেও, সরকার মনে করছে যে জরুরি সেবা এই সাশ্রয়ী নীতির আওতামুক্ত থাকা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন উপস্থিত সংসদ সদস্যরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে পুলিশের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম আরও দ্রুততর হবে।

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর এই বলিষ্ঠ ঘোষণা প্রমাণ করে যে, সরকার জননিরাপত্তা ও জরুরি নাগরিক সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা টহল জোরদার এবং দ্রুততম সময়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির চেষ্টা, কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর

০৫ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

জরুরি সেবায় জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহার

আপডেট সময় ০৫:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীগুলোর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ জাতীয় সংসদে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এই ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত দুই দিন আগে থেকেই কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে নিশ্চিত করেছেন।

সংসদ সদস্যের উদ্বেগ ও প্রধানমন্ত্রীর তড়িৎ ব্যবস্থা
অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়িগুলোর জ্বালানি সংকটের কারণে নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পুলিশের টহল ও জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের তেলের সীমাবদ্ধতা থাকায় মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।

সংসদ সদস্যের এই উদ্বেগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সংসদ সদস্য যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সরকার তা আগেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে এবং বিষয়টি এরই মধ্যে অ্যাড্রেস (সমাধান) করা হয়েছে। আমরা বুঝতে পারছি যে, জননিরাপত্তা এবং জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই।”

যেসব বাহিনীর ওপর থেকে বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, জনস্বার্থে নিয়োজিত কয়েকটি বিশেষ বাহিনীর তেলের কোটা বা রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “পুলিশসহ ইমার্জেন্সি বাহিনী যারা আছে—বিশেষ করে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার ব্রিগেড—তাদের ওপর জ্বালানি তেলের যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা দুই দিন আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে নিয়োজিত যানবাহনে তেলের কোনো অভাব থাকতে পারবে না।”

নিরাপত্তা ও জনজীবন স্বাভাবিক করার প্রয়াস
সরকারপ্রধান জানান, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক বেশি তৎপর থাকতে হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং আপৎকালীন সেবা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের সার্বক্ষণিক সচল থাকা প্রয়োজন। জ্বালানির সীমাবদ্ধতার কারণে যেন কোনো মুমূর্ষু রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় বা অপরাধ দমনে পুলিশের টহলে যেন ঘাটতি না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই এই রেশনিং তুলে দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে এরই মধ্যে ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে যাতে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারে। আশা করছি, এখন থেকে জরুরি সেবা পেতে জনগণের আর কোনো ভোগান্তি হবে না।”

জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বিভিন্ন খাতে সাশ্রয়ী হওয়ার নীতি গ্রহণ করা হলেও, সরকার মনে করছে যে জরুরি সেবা এই সাশ্রয়ী নীতির আওতামুক্ত থাকা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন উপস্থিত সংসদ সদস্যরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে পুলিশের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম আরও দ্রুততর হবে।

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর এই বলিষ্ঠ ঘোষণা প্রমাণ করে যে, সরকার জননিরাপত্তা ও জরুরি নাগরিক সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা টহল জোরদার এবং দ্রুততম সময়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

Share this news as a Photo Card