শিরোনাম :
হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো রাজধানীর নদী দূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, ফাঁসকারীদের হুঁশিয়ারি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার নতুন মোড়

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ইরান-মার্কিন চরম উত্তেজনার মাঝে বিশ্ববাসীর নজর এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে। দেশটিতে চলমান উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার মধ্যেই নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তেহরানে আকস্মিক ফিরে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের একটি অংশ আজ রবিবার রাতেই পুনরায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।

আলোচনার কেন্দ্রে ইসলামাবাদ
গত শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তার প্রতিনিধিদল। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও উত্তেজনা নিরসনে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের দামামা যখন দুই দেশের দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন ইসলামাবাদে এই আলোচনার টেবিলটি শান্তির শেষ আশা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

তেহরানে আকস্মিক ফেরা ও নতুন নির্দেশনা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলের একটি অংশ আলোচনার মাঝপথেই তেহরানে ফিরে গিয়েছিল। এই ফিরে যাওয়াটি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নয়, বরং যুদ্ধ নিরসনের বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যুতে ইরানের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি পরামর্শ করার জন্য ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং নতুন দিক-নির্দেশনা নিয়ে তারা আজ রাতেই আবার আরাগচির সঙ্গে যোগ দেবেন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ইরান পক্ষ থেকে কোনো বড় ধরনের প্রস্তাব বা শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যা যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও গুরুত্ব
পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে এই অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখা ইসলামাবাদের জন্য জরুরি। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে এই আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিও পাকিস্তানের এই ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন। আরাগচির নেতৃত্বাধীন এই প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদে অবস্থান করে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে বরফ গলানোর চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যুদ্ধের মেঘ ও শান্তির প্রত্যাশা
দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে ছায়াযুদ্ধ এবং সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে, তা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। তবে ইসলামাবাদের এই চলমান বৈঠক প্রমাণ করে যে, দুই পক্ষই পর্দার আড়ালে অন্তত একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চাইছে।

আজ রাতে ইরানি প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর আলোচনার টেবিল আরও উত্তপ্ত হতে পারে। তেহরান থেকে আসা ‘নতুন নির্দেশনা’ কী হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। এটি কি কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, নাকি মার্কিন শর্তের বিপরীতে কোনো পাল্টা সমঝোতা—তা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ব সম্প্রদায় এখন তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদের রেড জোনের দিকে, যেখান থেকে আসা একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের তথা বিশ্বের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ

০৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার নতুন মোড়

আপডেট সময় ০১:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ইরান-মার্কিন চরম উত্তেজনার মাঝে বিশ্ববাসীর নজর এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে। দেশটিতে চলমান উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার মধ্যেই নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তেহরানে আকস্মিক ফিরে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের একটি অংশ আজ রবিবার রাতেই পুনরায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।

আলোচনার কেন্দ্রে ইসলামাবাদ
গত শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তার প্রতিনিধিদল। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও উত্তেজনা নিরসনে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের দামামা যখন দুই দেশের দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন ইসলামাবাদে এই আলোচনার টেবিলটি শান্তির শেষ আশা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

তেহরানে আকস্মিক ফেরা ও নতুন নির্দেশনা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলের একটি অংশ আলোচনার মাঝপথেই তেহরানে ফিরে গিয়েছিল। এই ফিরে যাওয়াটি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নয়, বরং যুদ্ধ নিরসনের বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যুতে ইরানের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি পরামর্শ করার জন্য ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং নতুন দিক-নির্দেশনা নিয়ে তারা আজ রাতেই আবার আরাগচির সঙ্গে যোগ দেবেন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ইরান পক্ষ থেকে কোনো বড় ধরনের প্রস্তাব বা শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যা যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও গুরুত্ব
পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে এই অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখা ইসলামাবাদের জন্য জরুরি। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে এই আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিও পাকিস্তানের এই ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন। আরাগচির নেতৃত্বাধীন এই প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদে অবস্থান করে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে বরফ গলানোর চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যুদ্ধের মেঘ ও শান্তির প্রত্যাশা
দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে ছায়াযুদ্ধ এবং সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে, তা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। তবে ইসলামাবাদের এই চলমান বৈঠক প্রমাণ করে যে, দুই পক্ষই পর্দার আড়ালে অন্তত একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চাইছে।

আজ রাতে ইরানি প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর আলোচনার টেবিল আরও উত্তপ্ত হতে পারে। তেহরান থেকে আসা ‘নতুন নির্দেশনা’ কী হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। এটি কি কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, নাকি মার্কিন শর্তের বিপরীতে কোনো পাল্টা সমঝোতা—তা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ব সম্প্রদায় এখন তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদের রেড জোনের দিকে, যেখান থেকে আসা একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের তথা বিশ্বের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি।

Share this news as a Photo Card