মার্কিন সামরিক বাহিনীর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার তলানিতে ঠেকছে বলে সম্প্রতি যে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর হাতে যথেষ্ট পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র মজুত রয়েছে এবং সেই সঙ্গে উৎপাদনের গতিও বাড়ানো হচ্ছে অভাবনীয় হারে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, নির্দিষ্ট কিছু ধরনের গোলাবারুদসহ বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মজুত আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অস্ত্র তৈরি করে তা সেনাবাহিনীর কাছে পাঠানো অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক নতুন কারখানা গড়ে তোলা এবং পুরোনো কারখানা সম্প্রসারণের কাজে হাত দিয়েছে।
এই বার্তার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোপনীয় তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যাঁরা এই স্পর্শকাতর তথ্য বাইরে পাচার করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এমন কাজকে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল বলে অভিহিত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তাঁর কথায়, এই ধরনের দেশদ্রোহিতামূলক আচরণে জড়িতদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড নিশ্চিত করতে আদালতের শরণাপন্ন হবে প্রশাসন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে এমন প্রকাশ্য বিবৃতি এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নানা মহলে জল্পনা চলছিল। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক নানা সংকটে জড়িয়ে থাকার কারণে মার্কিন বাহিনীর নির্দিষ্ট কিছু ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ পাচ্ছিল সংশ্লিষ্ট মহলে। এই প্রেক্ষাপটেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো আলোচনায় আসে, যেখানে দাবি করা হয় যে নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্রব্যবস্থার সরবরাহ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের আশঙ্কা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরক্ষা শিল্প এখন যে গতিতে কাজ করছে, তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। নতুন নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খল আরও মজবুত করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, গোপনীয় সামরিক তথ্য ফাঁস হওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে হোয়াইট হাউস। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য জনসমক্ষে চলে আসাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে যাঁরা এই তথ্য বাইরে পাচার করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করতে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে।
সব মিলিয়ে, মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে যেকোনো ধরনের নেতিবাচক প্রচারণাকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে চাইছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রশাসনের কঠোর মনোভাবও এই বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী দিনগুলোতে এই তথ্য ফাঁসের ঘটনার তদন্ত কোন দিকে গড়ায় এবং এর জেরে কারা আইনি জটিলতায় পড়েন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট সবার।
শিরোনাম :
ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, ফাঁসকারীদের হুঁশিয়ারি
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ১২:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- 16
জনপ্রিয় সংবাদ






















