শিরোনাম :
হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো রাজধানীর নদী দূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, ফাঁসকারীদের হুঁশিয়ারি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ

হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮

দেশে হামের প্রকোপ থামছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ হিসাব বলছে, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮১৮ জনের শরীরে রোগটির লক্ষণ ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই মৃত্যুগুলোর মধ্যে চারটি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, আর বাকি দুটি সিলেট বিভাগে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত—প্রায় পাঁচ মাসে—সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬০। এর মধ্যে সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৬ জন, বাকি ৭৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে রোগের উপসর্গ নিয়ে।
আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিনই। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে নতুন করে ৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, আর উপসর্গ দেখা গেছে আরও ৭৩৩ জনের মধ্যে। এই হিসাবে গত পাঁচ মাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৬ হাজার ৭৪০-এ, আর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন হয়েছেন এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জন।
হাসপাতালে ভর্তির চিত্রও উদ্বেগজনক। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট এক লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন। তবে স্বস্তির খবর হলো, এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ১১ হাজার ৮৫৭ জন, অর্থাৎ ভর্তি হওয়া রোগীদের সিংহভাগই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
চলতি মাসের শুরু থেকেই এই রোগে শিশুমৃত্যুর ধারাবাহিকতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এর আগের দিনগুলোতেও একের পর এক শিশুর মৃত্যুর খবর এসেছে—কোনো দিন পাঁচজন, কোনো দিন দুজন করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে বোঝা যায়, মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, বরং প্রতিদিনই নতুন করে যুক্ত হচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা।
চিকিৎসকদের মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবেই মূলত শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষত অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা হামের জটিলতায় বেশি ঝুঁকিতে থাকে, যা মৃত্যুর হার বাড়িয়ে তুলছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার তাগিদ দিচ্ছেন, শিশুদের সময়মতো এমআর টিকা (হাম-রুবেলা) দেওয়ার পাশাপাশি জ্বর-ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার।
এদিকে চিকিৎসার ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে অনেক পরিবারে। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, হামে আক্রান্ত সন্তানের চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে ঋণের বোঝা কাঁধে নিতে হচ্ছে বহু পরিবারকে। বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই ব্যয় বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে, যা রোগ মোকাবিলার পাশাপাশি অতিরিক্ত মানসিক ও অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য রাখতে বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে শিশুদের মধ্যে জ্বর, র‍্যাশ বা কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়। বিলম্বে চিকিৎসা শুরু হলে জটিলতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ

০৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮

আপডেট সময় ০৫:৫২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

দেশে হামের প্রকোপ থামছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ হিসাব বলছে, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮১৮ জনের শরীরে রোগটির লক্ষণ ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই মৃত্যুগুলোর মধ্যে চারটি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, আর বাকি দুটি সিলেট বিভাগে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত—প্রায় পাঁচ মাসে—সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬০। এর মধ্যে সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৬ জন, বাকি ৭৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে রোগের উপসর্গ নিয়ে।
আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিনই। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে নতুন করে ৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, আর উপসর্গ দেখা গেছে আরও ৭৩৩ জনের মধ্যে। এই হিসাবে গত পাঁচ মাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৬ হাজার ৭৪০-এ, আর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন হয়েছেন এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জন।
হাসপাতালে ভর্তির চিত্রও উদ্বেগজনক। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট এক লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন। তবে স্বস্তির খবর হলো, এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ১১ হাজার ৮৫৭ জন, অর্থাৎ ভর্তি হওয়া রোগীদের সিংহভাগই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
চলতি মাসের শুরু থেকেই এই রোগে শিশুমৃত্যুর ধারাবাহিকতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এর আগের দিনগুলোতেও একের পর এক শিশুর মৃত্যুর খবর এসেছে—কোনো দিন পাঁচজন, কোনো দিন দুজন করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে বোঝা যায়, মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, বরং প্রতিদিনই নতুন করে যুক্ত হচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা।
চিকিৎসকদের মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবেই মূলত শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষত অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা হামের জটিলতায় বেশি ঝুঁকিতে থাকে, যা মৃত্যুর হার বাড়িয়ে তুলছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার তাগিদ দিচ্ছেন, শিশুদের সময়মতো এমআর টিকা (হাম-রুবেলা) দেওয়ার পাশাপাশি জ্বর-ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার।
এদিকে চিকিৎসার ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে অনেক পরিবারে। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, হামে আক্রান্ত সন্তানের চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে ঋণের বোঝা কাঁধে নিতে হচ্ছে বহু পরিবারকে। বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই ব্যয় বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে, যা রোগ মোকাবিলার পাশাপাশি অতিরিক্ত মানসিক ও অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য রাখতে বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে শিশুদের মধ্যে জ্বর, র‍্যাশ বা কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়। বিলম্বে চিকিৎসা শুরু হলে জটিলতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card