জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে নির্মিত জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে আজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সকালে এই জাদুঘরের দ্বার উন্মোচন করেন এবং একে দেশের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, শুধু জুলাই আন্দোলন নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক সংগ্রামের চিত্রই ফুটে উঠেছে এই জাদুঘরে, যা আগামী দিনের প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও ন্যায়বিচারের প্রতি অনুপ্রাণিত করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে বিতাড়িত স্বৈরাচারী চক্রের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করবে। তিনি একে জাতির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও সাহসিকতাকে ইতিহাসে স্থায়ীভাবে ধরে রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস বলে আখ্যায়িত করেন। তার ভাষায়, এই দিনটি জাতির ইতিহাসে একটি মাইলফলক এবং আন্দোলনে প্রাণ হারানো সকল শহীদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে সদ্য বিদায়ী শাসনামলের সমালোচনা করে বলেন, সেই সময় গুম ও খুনের ঘটনাকে যেন স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল। তিনি মন্তব্য করেন, ইতিহাসই সাক্ষী যে বিতাড়িত ওই শাসকগোষ্ঠী কখনোই দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মেনে নিতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়। এই আন্দোলনের প্রকৃত নায়ক দেশের সাধারণ গণতন্ত্রকামী মানুষ। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সেই যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ছিল সেই অর্জিত স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই।
সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী নিজে জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত নানা প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন, যেখানে শহীদদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে সংঘটিত নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন স্মারকের মাধ্যমে। জাদুঘর পরিদর্শন শেষে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শিরোনামের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যেখানে আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকদের মধ্যে জাদুঘরটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই জাদুঘর শুধু একটি স্মারক স্থাপনা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের সত্য তুলে ধরার একটি জীবন্ত মাধ্যম হয়ে উঠবে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিগগিরই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, যাতে দেশের মানুষ নিজ চোখে দেখতে পারেন সেই সময়ের ঐতিহাসিক দলিল ও নিদর্শনসমূহ।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধু অতীতের ঘটনাবলি স্মরণ করিয়ে দেবে না, বরং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে তুলবে বলে মনে করছেন অনেকে

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

হাম চিকিৎসায় ঋণে জর্জরিত দেশের অধিকাংশ পরিবার

০৪ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় ১১:১৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে নির্মিত জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে আজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সকালে এই জাদুঘরের দ্বার উন্মোচন করেন এবং একে দেশের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, শুধু জুলাই আন্দোলন নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক সংগ্রামের চিত্রই ফুটে উঠেছে এই জাদুঘরে, যা আগামী দিনের প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও ন্যায়বিচারের প্রতি অনুপ্রাণিত করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে বিতাড়িত স্বৈরাচারী চক্রের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করবে। তিনি একে জাতির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও সাহসিকতাকে ইতিহাসে স্থায়ীভাবে ধরে রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস বলে আখ্যায়িত করেন। তার ভাষায়, এই দিনটি জাতির ইতিহাসে একটি মাইলফলক এবং আন্দোলনে প্রাণ হারানো সকল শহীদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে সদ্য বিদায়ী শাসনামলের সমালোচনা করে বলেন, সেই সময় গুম ও খুনের ঘটনাকে যেন স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল। তিনি মন্তব্য করেন, ইতিহাসই সাক্ষী যে বিতাড়িত ওই শাসকগোষ্ঠী কখনোই দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মেনে নিতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়। এই আন্দোলনের প্রকৃত নায়ক দেশের সাধারণ গণতন্ত্রকামী মানুষ। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সেই যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ছিল সেই অর্জিত স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই।
সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী নিজে জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত নানা প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন, যেখানে শহীদদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে সংঘটিত নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন স্মারকের মাধ্যমে। জাদুঘর পরিদর্শন শেষে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শিরোনামের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যেখানে আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকদের মধ্যে জাদুঘরটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই জাদুঘর শুধু একটি স্মারক স্থাপনা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের সত্য তুলে ধরার একটি জীবন্ত মাধ্যম হয়ে উঠবে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিগগিরই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, যাতে দেশের মানুষ নিজ চোখে দেখতে পারেন সেই সময়ের ঐতিহাসিক দলিল ও নিদর্শনসমূহ।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধু অতীতের ঘটনাবলি স্মরণ করিয়ে দেবে না, বরং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে তুলবে বলে মনে করছেন অনেকে

Share this news as a Photo Card