আপন ছোট ভাই আমির হোসেন কালা’র ৪০ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে বড়ভাই এস. এম. আব্দুল লতিফ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার অন্তর্গত সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ০৮নং ওয়ার্ডের রশিদপুর গ্রামের পূর্ব পাড়ায়।
জানা গেছে, আব্দুল লতিফ ২০২২ সালে আট শতক জায়গার উপর ‘দারুল হাদিস সালাফিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা’ নামে একটি কওমী প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা করা হয় একই জেলার কামারখন্দ উপজেলার জামতৈলের নিবাসী সাবেক এএসপি আব্দুর রাজ্জাককে। আব্দুল লতিফ নিজে হন এর সেক্রেটারি ও প্রিন্সিপাল। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদ্রাসার সাথে ছোটভাই আমির হোসেন কালা’র ৪০ শতাংশ জমি মাদ্রাসার নামে নেওয়ার জন্য নানা রকম জোরজবরদস্তি করতে থাকেন। এসময় আমির হোসেন জমি মাদ্রাসার নামে লিখে দেওয়ার জন্য নানা রকম চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এছাড়া মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য কোন রাস্তা না থাকায় ছোটভাই আমির হোসেনের জমির উপর দিয়ে বড় রাস্তা করার জন্য জমি ছেড়ে দিতে বলে। আমির হোসেন তখন বড় রাস্তার জন্য জায়গা না ছেড়ে পায়ে হাঁটার জন্য জন্য প্রায় চার শতক জমি ছেড়ে দিয়ে রাস্তার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু আব্দুল লতিফ তাতে সন্তুুষ্ট না হয়ে বরং গাড়ী চলার জন্য রাস্তা এবং মাদ্রাসার সাথে ৪০ শতক জমি মাদ্রাসার নামে লিখে দেওয়ার জন্য নানাভাবে জুলুম ও অত্যাচার করতে থাকেন। এই অত্যাচারের অংশ হিসেবে গত ২০২৩ সালে একবার আব্দুল লতিফ ছোটভাই আমির হোসেন কালাকে ধরে নিয়ে নিজে বাড়িতে বেঁধে রাখে এবং বলে জমি লিখে দেওয়ার জন্য। আমির হোসেন তাতে রাজি না হলে আব্দুল লতিফ তার ভাই আতাউর রহমান ও তার ছেলে তুফান মিলে তাকে বেধরক মারপিট করে। এ পর্যায়ে আব্দুল লতিফ আমির হোসেনের চোখে মরিচের গুড়া ঢুকিয়ে দেয়। এ সময় তার তীব্র চিৎচকারে আরেক বড়ভাই আবু হারেজ শেখ বাঁধা দিতে গেলে আব্দুল লতিফ তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধরের হুমকি দেয়। চোখে মরিচের গুড়া দেওয়ার ফলে আমির হোসেনের চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর এখনও তার চোখ পুরোপুরি ঠিক হয়নি। শুধু তাই না, জমি দখল করতে না পেরে আমি হোসেনের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে জেল খাটায় আব্দুল লতিফ। সর্বশেষ গত ১১/০৯/২০২৬ইং তারিখে আমির হোসেন তার জমির ড্রেনের আগাছা পরিস্কার করতে গেলে আব্দুল লতিফ মাদ্রাসার তিনজন শিক্ষককে সাথে নিয়ে দেশিয় ও বেআইনী অস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা করে। এতে তিনি শারীরিকভাবে মারাত্মক জঘমপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে আব্দুল লতিফ বিভিন্নজনের কাছে বলে বেড়াচ্ছেন যে, আমি ওর নামে মামলা করবো, প্রয়োজনে খুন করে জেলে যাব।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুল লতিফ একজন বদমেজাজী লোক হিসেবে পরিচিত। তিনি মাদ্রাসার নামে গ্রামে গ্রামে চাঁদাবাজি করছেন বলেও অনেকে অভিযোগ করেন। এলাকাবাসী জানান, মাত্র ৮ শতক জায়গার উপর কীভাবে একটি মাদ্রাসা সরকার অনুমোদন করে, তাও তাদের বোধগম্য নয়।
গ্রামবাসীর অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানান, আমির হোসেন একজন নম্র ও ভদ্র ব্যক্তি হিসেবে সমাজে পরিচিত। পক্ষান্তরে তার ভাই আব্দুল লতিফ একজন বদরাগী, কুচক্রী ও স্বার্থলোভী ব্যক্তি। তিনি অন্যায়ভাবে ছোটভাইয়ের উপর জুলুম করছেন, একাধিকবার জেল খাটিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উভয়ের বড়ভাই আবু হারেজ শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আব্দুল লতিফ তার মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে সাথে নিয়ে ১১/৯/২০২৬ইং তারিখে আমির হোসেনকে মারধর করেছে। শুনেছি আব্দুল লতিফ নাকি আমির হোসেনের নামে মামলা দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
আব্দুল লতিফের কাছে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সম্পর্কে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ওসি আসলাম আলী বলেন, উল্লেখিত বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















