সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্ত তুহিনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের মায়ের একটি আইফোন। বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন তুহিনের মা নিজেই।
তার দাবি অনুযায়ী, আইফোনটি তুহিনের ঘরের বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, সাদা পোশাকে একদল পুলিশ সদস্য তুহিনকে সঙ্গে নিয়ে তার ঘরে তল্লাশি চালান, এবং তখনই একটি কালো শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে ফোনটি পাওয়া যায়। এই বিবরণ এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার দিনের বিবরণ দিতে গিয়ে তুহিনের মা বলেন, গত শুক্রবার জুমার নামাজ ও খাওয়া-দাওয়া শেষে তুহিন বাসা থেকে বের হন এবং বিকেলে ফিরে আসেন। তার দাবি, সন্ধ্যার কিছু সময় পর তুহিন আবার বের হন এবং রাত ৯টার দিকে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। এই তথ্যও পুরোপুরি তার বক্তব্যের ভিত্তিতে, স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি।
পুলিশের ভাষ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা গিয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখতে পাওয়ার পর তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আনাস নামে আরেকজনকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সবশেষে ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তার মায়ের আইফোনটি এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ; এটি উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
নিহত অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্তকরণ ও দ্রুত বিচারের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন এবং ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার হুঁশিয়ারি দেন।
স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ ও মুঠোফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















