কুমিল্লায় মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
পুলিশ সুপার জানান, বাসা থেকে মেসেজ পাঠিয়ে অপ্রতিমকে জঙ্গলে ডেকে নিয়ে যান তার সিনিয়র পরিচিত সাইফুল ইসলাম তুহিন। সেখানে তার কাছ থেকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে অপ্রতিম বাধা দেয়, এতে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়, যাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। সন্ধ্যার পরও না ফেরায় মা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড়ের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় অপ্রতিমের মরদেহ। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিনকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং জানায়, ঘটনায় জড়িত ছিল মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫)ও। পরে ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে মো. কামরুল হাসানের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। এ পর্যন্ত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আটক করা হয়েছে সিয়াম নামে আরেকজনকে, যাচাই-বাছাই চলছে তার বিষয়ে। তুহিনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার সমস্ত আলামত পাওয়া গেছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান। এদিকে স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন এবং একপর্যায়ে শোকাহত মাকে সান্ত্বনাও দিতে যান।
রোববার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ ও গন্ধমতি স্কুল মাঠে দুই দফা জানাজা শেষে কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে দাফন করা হয় অপ্রতিমকে।
শিরোনাম :
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৬:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 1
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ
























