রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি? এই জল্পনার মধ্যেই আজ শনিবার সন্ধ্যায় বসছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। দলীয় সূত্র বলছে, সভার মূল আলোচ্যসূচি হবে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়ন। এর পাশাপাশি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক নানা বিষয়ও আলোচনায় স্থান পাবে বলে জানা গেছে।
বৈঠকটি ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং। গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন তিনি নিজেই। দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্নে আজকের বৈঠকই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সিদ্ধান্তসূচক অধিবেশন।
কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে রাষ্ট্রপতির পদ
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনা চলছে, কে বসবেন বঙ্গভবনের চেয়ারে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মূল্যায়ন হলো, রাষ্ট্রপতির পদ নিছক আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক কোনো বিষয় নয়। বরং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং যেকোনো সংকটকালে রাষ্ট্র পরিচালনায় এই পদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই দলটি অত্যন্ত সতর্কতা ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা কায়সার কামালের সঙ্গে গত মঙ্গলবার সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন, যা প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগস্টেই ভোটের পরিকল্পনা
সরকারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করে চলতি আগস্ট মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছিল, আর আজকের বৈঠকে তা আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে।
দলের শীর্ষ পর্যায়ের একটি অংশের ধারণা, দলীয় প্রার্থী নাকি নির্দলীয় কোনো ব্যক্তিত্বকে সমর্থন দেওয়া হবে—এই প্রশ্নেও আজকের সভায় স্পষ্ট অবস্থান আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের ‘১৮০ দিনের’ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মহাসচিবের আগের বক্তব্য
এর আগে গত ২৬ জুলাই বগুড়ায় এক কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি নির্দলীয় কাউকে প্রার্থী করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকেই। অর্থাৎ তখন থেকেই ইঙ্গিত মিলছিল, স্থায়ী কমিটির আসন্ন কোনো বৈঠক এই প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এখন সবার দৃষ্টি বৈঠকের দিকে
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক রাজনীতি এখন এক ধরনের অপেক্ষার মধ্যে রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের রূপরেখা। এমন প্রেক্ষাপটে আজকের স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে, সেদিকে নজর রাখছে গোটা দেশ। বৈঠক শেষে দলীয় সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

৩০ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

আপডেট সময় ০৩:০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি? এই জল্পনার মধ্যেই আজ শনিবার সন্ধ্যায় বসছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। দলীয় সূত্র বলছে, সভার মূল আলোচ্যসূচি হবে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়ন। এর পাশাপাশি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক নানা বিষয়ও আলোচনায় স্থান পাবে বলে জানা গেছে।
বৈঠকটি ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং। গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন তিনি নিজেই। দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্নে আজকের বৈঠকই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সিদ্ধান্তসূচক অধিবেশন।
কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে রাষ্ট্রপতির পদ
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনা চলছে, কে বসবেন বঙ্গভবনের চেয়ারে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মূল্যায়ন হলো, রাষ্ট্রপতির পদ নিছক আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক কোনো বিষয় নয়। বরং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং যেকোনো সংকটকালে রাষ্ট্র পরিচালনায় এই পদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই দলটি অত্যন্ত সতর্কতা ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা কায়সার কামালের সঙ্গে গত মঙ্গলবার সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন, যা প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগস্টেই ভোটের পরিকল্পনা
সরকারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করে চলতি আগস্ট মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছিল, আর আজকের বৈঠকে তা আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে।
দলের শীর্ষ পর্যায়ের একটি অংশের ধারণা, দলীয় প্রার্থী নাকি নির্দলীয় কোনো ব্যক্তিত্বকে সমর্থন দেওয়া হবে—এই প্রশ্নেও আজকের সভায় স্পষ্ট অবস্থান আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের ‘১৮০ দিনের’ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মহাসচিবের আগের বক্তব্য
এর আগে গত ২৬ জুলাই বগুড়ায় এক কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি নির্দলীয় কাউকে প্রার্থী করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকেই। অর্থাৎ তখন থেকেই ইঙ্গিত মিলছিল, স্থায়ী কমিটির আসন্ন কোনো বৈঠক এই প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এখন সবার দৃষ্টি বৈঠকের দিকে
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক রাজনীতি এখন এক ধরনের অপেক্ষার মধ্যে রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের রূপরেখা। এমন প্রেক্ষাপটে আজকের স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে, সেদিকে নজর রাখছে গোটা দেশ। বৈঠক শেষে দলীয় সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card