শিরোনাম :
নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোয়া : বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের জীবনযাত্রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮ হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো রাজধানীর নদী দূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান

বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান

আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে চতুর্থ দফায় শীর্ষ পদে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে ভোটের মাঠে নামার আগেই তাকে পড়তে হয়েছে অভাবনীয় এক সংকটে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্তা সম্প্রতি বিশ্বকাপের আগামী দিনের মুনাফার একাংশ একটি পৃথক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাত দিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার একটি রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। সেই প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয়েছিল এফএফই। প্রস্তাবনায় বলা ছিল, এভাবে সংগৃহীত অর্থের একটি ভাগ সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও বণ্টন করা হবে।
কিন্তু গোপন এই পরিকল্পনার খবর জনসমক্ষে চলে আসার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ফুটবল অঙ্গনজুড়ে। ভেতরে-বাইরে দুই দিক থেকেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। এমনকি সংস্থাটির শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি পর্যন্ত ওঠে। ক্রমবর্ধমান এই চাপের মুখে শেষমেশ পিছু হটতে বাধ্য হয় সংগঠনটি।
জনরোষ সামাল দিতে দ্রুতই নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেয় কর্তৃপক্ষ এবং প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে। পাশাপাশি মরক্কোয় ডাকা হয় একটি জরুরি সভা। সেই বৈঠকে সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা একজোট হয়ে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ফলে পদ হারানোর যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তা থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।
সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম এবং পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা মিলিতভাবে ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের আস্থার কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে যে ভুল-ত্রুটি হয়েছে, তা খোলাখুলিভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে এবং স্বীকার করা হয়েছে যে গোটা প্রক্রিয়াটি আরও সতর্কভাবে সামলানো উচিত ছিল। সদস্য দেশ ও পরিচালনা কাউন্সিলের কাছে চিঠি পাঠিয়ে দুঃখপ্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি এড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
মহাসচিবের এই সমর্থন বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে এক বিশেষ কারণে। কারণ, বিতর্ক তুঙ্গে থাকার সময় তিনি নিজেই কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় গত সপ্তাহের ঘটনাবলিকে “দুঃখজনক ও নিন্দনীয়” আখ্যা দিয়েছিলেন এবং নিজেকে ওই পরিকল্পনা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। তবে এবার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইনফান্তিনোও তার মহাসচিবের প্রতি পাল্টা আস্থা জানিয়েছেন।
বিতর্কের অবসান ঘটাতে সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাণিজ্যিকীকরণের ওই প্রস্তাব এখন পুরোপুরি বাতিল। পুরো ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ অনুভব করছে কর্তৃপক্ষ, এবং ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও যুক্তিসঙ্গত করার অঙ্গীকার করেছে তারা।
এদিকে এই ঘটনার জেরে ইউরোপের প্রথম সারির লিগগুলোর জোট নতুন করে সরব হয়েছে সামগ্রিক শাসন কাঠামো ঢেলে সাজানোর দাবিতে। ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির শীর্ষ লিগসহ একাধিক সংগঠন এই জোটের সদস্য। তাদের ভাষ্য, বাতিল হওয়া প্রস্তাবটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি সামনে এনেছে প্রশাসনিক কাঠামো, ভেতরকার কর্মসংস্কৃতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন।
জোটটির দাবি, ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এখনই দরকার সংস্কার। তারা ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের যে আলোচনা চলছে, তারও বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, একক সিদ্ধান্তে ফুটবলে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ আর দেওয়া চলবে না। যতদিন না কাঠামোগত সংস্কার হচ্ছে, ততদিন নতুন কোনো প্রতিযোগিতা চালু বা বিদ্যমান আসর সম্প্রসারণের যেকোনো প্রস্তাবও তারা নাকচ করে দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান

আপডেট সময় ১২:৫১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে চতুর্থ দফায় শীর্ষ পদে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে ভোটের মাঠে নামার আগেই তাকে পড়তে হয়েছে অভাবনীয় এক সংকটে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্তা সম্প্রতি বিশ্বকাপের আগামী দিনের মুনাফার একাংশ একটি পৃথক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাত দিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার একটি রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। সেই প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয়েছিল এফএফই। প্রস্তাবনায় বলা ছিল, এভাবে সংগৃহীত অর্থের একটি ভাগ সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও বণ্টন করা হবে।
কিন্তু গোপন এই পরিকল্পনার খবর জনসমক্ষে চলে আসার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ফুটবল অঙ্গনজুড়ে। ভেতরে-বাইরে দুই দিক থেকেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। এমনকি সংস্থাটির শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি পর্যন্ত ওঠে। ক্রমবর্ধমান এই চাপের মুখে শেষমেশ পিছু হটতে বাধ্য হয় সংগঠনটি।
জনরোষ সামাল দিতে দ্রুতই নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেয় কর্তৃপক্ষ এবং প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে। পাশাপাশি মরক্কোয় ডাকা হয় একটি জরুরি সভা। সেই বৈঠকে সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা একজোট হয়ে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ফলে পদ হারানোর যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তা থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।
সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম এবং পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা মিলিতভাবে ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের আস্থার কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে যে ভুল-ত্রুটি হয়েছে, তা খোলাখুলিভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে এবং স্বীকার করা হয়েছে যে গোটা প্রক্রিয়াটি আরও সতর্কভাবে সামলানো উচিত ছিল। সদস্য দেশ ও পরিচালনা কাউন্সিলের কাছে চিঠি পাঠিয়ে দুঃখপ্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি এড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
মহাসচিবের এই সমর্থন বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে এক বিশেষ কারণে। কারণ, বিতর্ক তুঙ্গে থাকার সময় তিনি নিজেই কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় গত সপ্তাহের ঘটনাবলিকে “দুঃখজনক ও নিন্দনীয়” আখ্যা দিয়েছিলেন এবং নিজেকে ওই পরিকল্পনা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। তবে এবার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইনফান্তিনোও তার মহাসচিবের প্রতি পাল্টা আস্থা জানিয়েছেন।
বিতর্কের অবসান ঘটাতে সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাণিজ্যিকীকরণের ওই প্রস্তাব এখন পুরোপুরি বাতিল। পুরো ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ অনুভব করছে কর্তৃপক্ষ, এবং ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও যুক্তিসঙ্গত করার অঙ্গীকার করেছে তারা।
এদিকে এই ঘটনার জেরে ইউরোপের প্রথম সারির লিগগুলোর জোট নতুন করে সরব হয়েছে সামগ্রিক শাসন কাঠামো ঢেলে সাজানোর দাবিতে। ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির শীর্ষ লিগসহ একাধিক সংগঠন এই জোটের সদস্য। তাদের ভাষ্য, বাতিল হওয়া প্রস্তাবটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি সামনে এনেছে প্রশাসনিক কাঠামো, ভেতরকার কর্মসংস্কৃতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন।
জোটটির দাবি, ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এখনই দরকার সংস্কার। তারা ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের যে আলোচনা চলছে, তারও বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, একক সিদ্ধান্তে ফুটবলে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ আর দেওয়া চলবে না। যতদিন না কাঠামোগত সংস্কার হচ্ছে, ততদিন নতুন কোনো প্রতিযোগিতা চালু বা বিদ্যমান আসর সম্প্রসারণের যেকোনো প্রস্তাবও তারা নাকচ করে দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।

Share this news as a Photo Card