ঢাকা ০২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিরুদ্ধে কতদিন যুদ্ধ চালাতে পারবেন ট্রাম্প?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে আইনি জটিলতার মুখোমুখি পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলিউশন’ অনুযায়ী, আগামী ১ মে’র মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন না পেলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া ট্রাম্পের জন্য আইনতভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কোনো দেশে সামরিক অভিযান শুরু করলে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের (প্রতিনিধি সভা ও সিনেট) অনুমোদন নিতে হয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর নির্ধারিত ৬০ দিন পূর্ণ হচ্ছে আগামী ১ মে। এই সময়ের মধ্যে সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি যৌথ প্রস্তাব সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুমোদন মেলেনি।

কলোরাডো ল স্কুলের আইনের সহযোগী অধ্যাপক মরিয়ম জমশিদি জানান, বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট এই ৬০ দিনের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়ে মোট ৯০ দিন পর্যন্ত করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে লিখিতভাবে কংগ্রেসকে নিশ্চিত করতে হবে, ‘অনিবার্য সামরিক প্রয়োজনীয়তার’ কারণে এই অভিযান চালিয়ে যাওয়া জরুরি। ৯০ দিনের এই সময়সীমা পার হওয়ার পর কংগ্রেস যদি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার অনুমতি না দেয়, তবে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই সেনা প্রত্যাহার বা অভিযান বন্ধ করতে হবে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৯০ দিন পার হওয়ার পর কংগ্রেস যদি প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করতে চায়, তবে তার স্পষ্ট কোনো আইনি পথ নেই। অতীতে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্টই এই ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলিউশনের’ কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছেন। ফলে ট্রাম্পও যদি কংগ্রেসের নির্দেশ উপেক্ষা করে যুদ্ধ চালিয়ে যান, তবে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি সভা ও সিনেটে এই প্রস্তাব পাসের চেষ্টা চলছে। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কায় এই অনুমোদনের বিরোধিতা করছে। ১ মে’র মধ্যে যদি কোনো সুরাহা না হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে হয় সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, অথবা আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে হবে।

সূত্র : খবর আলজাজিরা।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ইরানের বিরুদ্ধে কতদিন যুদ্ধ চালাতে পারবেন ট্রাম্প?

আপডেট সময় ০১:১২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে আইনি জটিলতার মুখোমুখি পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলিউশন’ অনুযায়ী, আগামী ১ মে’র মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন না পেলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া ট্রাম্পের জন্য আইনতভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কোনো দেশে সামরিক অভিযান শুরু করলে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের (প্রতিনিধি সভা ও সিনেট) অনুমোদন নিতে হয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর নির্ধারিত ৬০ দিন পূর্ণ হচ্ছে আগামী ১ মে। এই সময়ের মধ্যে সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি যৌথ প্রস্তাব সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুমোদন মেলেনি।

কলোরাডো ল স্কুলের আইনের সহযোগী অধ্যাপক মরিয়ম জমশিদি জানান, বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট এই ৬০ দিনের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়ে মোট ৯০ দিন পর্যন্ত করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে লিখিতভাবে কংগ্রেসকে নিশ্চিত করতে হবে, ‘অনিবার্য সামরিক প্রয়োজনীয়তার’ কারণে এই অভিযান চালিয়ে যাওয়া জরুরি। ৯০ দিনের এই সময়সীমা পার হওয়ার পর কংগ্রেস যদি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার অনুমতি না দেয়, তবে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই সেনা প্রত্যাহার বা অভিযান বন্ধ করতে হবে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৯০ দিন পার হওয়ার পর কংগ্রেস যদি প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করতে চায়, তবে তার স্পষ্ট কোনো আইনি পথ নেই। অতীতে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্টই এই ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলিউশনের’ কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছেন। ফলে ট্রাম্পও যদি কংগ্রেসের নির্দেশ উপেক্ষা করে যুদ্ধ চালিয়ে যান, তবে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি সভা ও সিনেটে এই প্রস্তাব পাসের চেষ্টা চলছে। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কায় এই অনুমোদনের বিরোধিতা করছে। ১ মে’র মধ্যে যদি কোনো সুরাহা না হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে হয় সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, অথবা আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে হবে।

সূত্র : খবর আলজাজিরা।