তেলের দাম আরও বাড়ল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে লোহিত সাগর সংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা সপ্তম দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের তেলের দামই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ থাকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষ তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান তাদের নতুন প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি এড়িয়ে গেছে যা যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। এই কূটনৈতিক রেষারেষির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয় যা বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে আছে।

লন্ডনের আইসিই ফিউচার এক্সচেঞ্জে আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৪৫ সেন্ট বেড়ে ১০৮ দশমিক ৬৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে আমেরিকান ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৫৮ সেন্ট বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬ দশমিক ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি তেলের দাম বাড়ার পেছনে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বন্ড ইল্ড বৃদ্ধিকেও দায়ী করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারের এই অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণ নেই।

এদিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বাড়ছে যা পরোক্ষভাবে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে।

শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরে অন্তত ছয়টি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার আটকা পড়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম ১১০ থেকে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)।

সূত্র : রয়টার্স

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

তেলের দাম আরও বাড়ল

আপডেট সময় ০১:০০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে লোহিত সাগর সংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা সপ্তম দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের তেলের দামই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ থাকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষ তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান তাদের নতুন প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি এড়িয়ে গেছে যা যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। এই কূটনৈতিক রেষারেষির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয় যা বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে আছে।

লন্ডনের আইসিই ফিউচার এক্সচেঞ্জে আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৪৫ সেন্ট বেড়ে ১০৮ দশমিক ৬৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে আমেরিকান ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৫৮ সেন্ট বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬ দশমিক ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি তেলের দাম বাড়ার পেছনে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বন্ড ইল্ড বৃদ্ধিকেও দায়ী করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারের এই অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণ নেই।

এদিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বাড়ছে যা পরোক্ষভাবে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে।

শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরে অন্তত ছয়টি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার আটকা পড়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম ১১০ থেকে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)।

সূত্র : রয়টার্স

Share this news as a Photo Card