বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভেদ বা রক্তপাত সৃষ্টি করা উচিত নয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় রেখে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির অডিটরিয়ামে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল ঢাকা আইনজীবী সমিতি।
আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ধর্ম মানুষের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার জায়গা, ইহকাল ও পরকালের বিষয়। এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে টেনে এনে মানুষের রক্তপাত ঘটানো উচিত নয়। সাম্প্রদায়িকতাকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনীতি কিংবা ধর্ম নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবসা করারও বিপক্ষে মত দেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের দেশ। প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্যের ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন। সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থানের ভিত্তিতে একটি সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মকাহিনির প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, এ কাহিনি থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়। যত শক্তিশালীই হোক না কেন, অন্যায় ও নিষ্ঠুরতার পরিণতি থেকে কেউ রক্ষা পেতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ন্যায়, সততা ও মানবিকতাই প্রধান বিষয় হওয়া উচিত। আদালতে একজন আইনজীবীর পরিচয় তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ে নয়; তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করেন একজন আইনজীবী হিসেবেই। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির চেতনা ধারণ করার তাগিদ দেন তিনি।
আইনমন্ত্রীর ভাষায়, আগামী প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য ভূমি হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের সবার ওপরই বর্তায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, মহানগর দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন স্তরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির নেতা ও সাধারণ সদস্যরা।
এস কে চন্দন, ঢাকা 



















