বুথফেরত সমীক্ষা

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন : পাল্লা বিজেপির দিকে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের যবনিকা পতনের পর এখন সবার নজর ৪ মে-র দিকে। তবে আনুষ্ঠানিক ফলাফল আসার আগেই বুথফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়। অধিকাংশ জাতীয় ও আঞ্চলিক সমীক্ষাকারী সংস্থার দাবি, এবার পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং বিজেপি ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ স্পর্শ করতে চলেছে। তবে কয়েকটি সমীক্ষা আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকেই এগিয়ে রেখেছে। সব মিলিয়ে ইঙ্গিত স্পষ্ট— লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে।

জাদুর সংখ্যা ১৪৮: কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও এবারের চিত্রটা ভিন্ন।

  • ম্যাট্রিজ় ও চাণক্য স্ট্র্যাটেজি: এই দুই সংস্থার মতে বিজেপি নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতায় আসছে। ম্যাট্রিজ় বলছে বিজেপি পাবে ১৪৬-১৬১ আসন, আর চাণক্য দিচ্ছে ১৫০-১৬০ আসন। তৃণমূলের ঝুলিতে ১২৫-১৪০টির বেশি আসন দেখছে না তারা।

  • পি-মার্ক ও প্রজা পোল: এই দুই সংস্থা বিজেপিকে অনেক বেশি এগিয়ে রেখেছে। প্রজা পোলের মতে বিজেপি ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন পেয়ে বড় জয় পেতে পারে।

  • তৃণমূলের আশা যেখানে: ‘পিপল্‌স পাল্‌স’ এবং ‘জনমত পোল্‌স’ অবশ্য সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলছে। জনমত পোল্‌সের দাবি, তৃণমূল ১৯৫-২০৫টি আসন পেয়ে অনায়াসে নবান্ন দখল করবে। পিপল্‌স পাল্‌স দিচ্ছে ১৭৮-১৮৯ আসন।

বাম-কংগ্রেসের করুণ দশা?

বুথফেরত সমীক্ষার প্রায় সবকটিতেই বাম ও কংগ্রেসের অবস্থা শোচনীয় দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ সংস্থা তাদের আসন সংখ্যা ‘শূন্য’ থেকে ‘এক’ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। তবে পোল ডায়েরি এবং জেভিসি-র মতে, বাম-কংগ্রেস জোট বা অন্যান্যরা ৫ থেকে ১০টি আসন পেতে পারে, যা শেষ মুহূর্তে কিং-মেকারের ভূমিকা পালনে সহায়ক হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ‘সক্রিয়তা’ ও মমতার ক্ষোভ

ভোট চলাকালীন আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি নিয়ে উত্তপ্ত ছিল এবারের নির্বাচন। বিশেষ করে রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া বদলি প্রক্রিয়া বুধবার রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপকে পক্ষপাতমূলক বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকারের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে, যা প্রচলিত রীতির পরিপন্থী। তৃণমূলের দাবি, বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা।

নজিরবিহীন ভোটদানের হার

এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর দেখা গিয়েছে ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ ভোটদানের হার সাধারণত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, আবার কখনো কখনো তা শাসকদলের শক্তিশালী সংগঠনের প্রতিফলনও হতে পারে। ৪ মে ব্যালট বাক্স খুললেই পরিষ্কার হবে— কার মাথায় উঠবে বাংলার মুকুট।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বুথফেরত সমীক্ষা

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন : পাল্লা বিজেপির দিকে

আপডেট সময় ০১:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের যবনিকা পতনের পর এখন সবার নজর ৪ মে-র দিকে। তবে আনুষ্ঠানিক ফলাফল আসার আগেই বুথফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়। অধিকাংশ জাতীয় ও আঞ্চলিক সমীক্ষাকারী সংস্থার দাবি, এবার পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং বিজেপি ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ স্পর্শ করতে চলেছে। তবে কয়েকটি সমীক্ষা আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকেই এগিয়ে রেখেছে। সব মিলিয়ে ইঙ্গিত স্পষ্ট— লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে।

জাদুর সংখ্যা ১৪৮: কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও এবারের চিত্রটা ভিন্ন।

  • ম্যাট্রিজ় ও চাণক্য স্ট্র্যাটেজি: এই দুই সংস্থার মতে বিজেপি নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতায় আসছে। ম্যাট্রিজ় বলছে বিজেপি পাবে ১৪৬-১৬১ আসন, আর চাণক্য দিচ্ছে ১৫০-১৬০ আসন। তৃণমূলের ঝুলিতে ১২৫-১৪০টির বেশি আসন দেখছে না তারা।

  • পি-মার্ক ও প্রজা পোল: এই দুই সংস্থা বিজেপিকে অনেক বেশি এগিয়ে রেখেছে। প্রজা পোলের মতে বিজেপি ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন পেয়ে বড় জয় পেতে পারে।

  • তৃণমূলের আশা যেখানে: ‘পিপল্‌স পাল্‌স’ এবং ‘জনমত পোল্‌স’ অবশ্য সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলছে। জনমত পোল্‌সের দাবি, তৃণমূল ১৯৫-২০৫টি আসন পেয়ে অনায়াসে নবান্ন দখল করবে। পিপল্‌স পাল্‌স দিচ্ছে ১৭৮-১৮৯ আসন।

বাম-কংগ্রেসের করুণ দশা?

বুথফেরত সমীক্ষার প্রায় সবকটিতেই বাম ও কংগ্রেসের অবস্থা শোচনীয় দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ সংস্থা তাদের আসন সংখ্যা ‘শূন্য’ থেকে ‘এক’ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। তবে পোল ডায়েরি এবং জেভিসি-র মতে, বাম-কংগ্রেস জোট বা অন্যান্যরা ৫ থেকে ১০টি আসন পেতে পারে, যা শেষ মুহূর্তে কিং-মেকারের ভূমিকা পালনে সহায়ক হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ‘সক্রিয়তা’ ও মমতার ক্ষোভ

ভোট চলাকালীন আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি নিয়ে উত্তপ্ত ছিল এবারের নির্বাচন। বিশেষ করে রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া বদলি প্রক্রিয়া বুধবার রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপকে পক্ষপাতমূলক বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকারের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে, যা প্রচলিত রীতির পরিপন্থী। তৃণমূলের দাবি, বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা।

নজিরবিহীন ভোটদানের হার

এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর দেখা গিয়েছে ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ ভোটদানের হার সাধারণত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, আবার কখনো কখনো তা শাসকদলের শক্তিশালী সংগঠনের প্রতিফলনও হতে পারে। ৪ মে ব্যালট বাক্স খুললেই পরিষ্কার হবে— কার মাথায় উঠবে বাংলার মুকুট।

Share this news as a Photo Card