শিরোনাম :
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে গবেষণা ও এআইয়ে জোর দিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী বন্যায় প্লাবিত গাজার ৭০ হাজার তাঁবু, ঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ সড়কে একসঙ্গে প্রাণ হারাচ্ছে পরিবার, ছয় বছরে প্রায় ৩০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন সিলেট টেস্টে হজের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে কঠিন হলো বাংলাদেশের জয়ের পথ সমবায় আন্দোলনকে দুর্নীতিমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সমবায়ের আদর্শে মানুষকে স্বনির্ভর করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী মাদ্রাসায় মুজিববাদ-মওদুদীবাদ চলবে না: সরোয়ার আলমগীর ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুরাও এনআইডি সেবার আওতায় আসবে: ইসি টং দোকান থেকে ক্যাসিনো সম্রাট রুবেল শত কোটি টাকার মালিক! ঘুম ভেঙেই মোবাইল নয়, ভোরের আলোয় খুঁজুন জীবনের সৌন্দর্য

বিশ্বকাপের দেম্বেলে: সমালোচনা পেরিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল উসমান দেম্বেলের ফুটবল জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাতগুলোর একটি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে তাঁকে তুলে নেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। দি মারিয়াকে করা তাঁর ফাউল থেকেই আসে পেনাল্টি, আর সেই গোলেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ড্রেসিংরুমে ফিরেই কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় পুরো দলকে। পরে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল মন্তব্য করেছিলেন, দেম্বেলে যেন “ছোট ছেলের মতো” খেলেছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমও তাঁর পারফরম্যান্সকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনে।
সেই রাতের স্মৃতি দীর্ঘদিন তাড়া করে ফিরেছে দেম্বেলেকে। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, পরদিন সকালে তাঁর মনে হয়েছিল, আর কখনো ফুটবলই দেখতে পারবেন না। এমনকি জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয়ে ভুগেছিলেন তিনি।
তবে সময় বদলেছে, বদলেছেন দেম্বেলেও। সাড়ে তিন বছরের ব্যবধানে তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি শুধু ফ্রান্সের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসাই নন, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কার্যকর ফরোয়ার্ড হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স সেই পরিবর্তনেরই প্রমাণ। ছয় ম্যাচে পাঁচ গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের একমাত্র হ্যাটট্রিকও এসেছে তাঁর পা থেকে। মাঠে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের খেলায় সম্পৃক্ত করতেও দারুণ ভূমিকা রাখছেন এই উইঙ্গার।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে দেম্বেলে ও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই আলোচনা দ্রুতই মিলিয়ে যায়। একে অপরকে গোল বানিয়ে দেওয়া, আক্রমণে বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক আস্থা—সব মিলিয়ে দুজন এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়ংকর জুটিগুলোর একটি।
দেম্বেলেকে নিয়ে অতীতে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তাঁকে স্বার্থপর, উদাসীন কিংবা দলকে এগিয়ে নিতে অক্ষম বলেও মন্তব্য করেছিলেন অনেক বিশ্লেষক। কিন্তু গত দুই বছরে ফ্রান্স ও ক্লাব ফুটবলে তাঁর অবদান সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। এখন তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো দলের ছন্দ তৈরির কাজটিও সমান দক্ষতায় করে যাচ্ছেন।
মাঠের বাইরে দেম্বেলের ব্যক্তিত্বেও খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। তিনি এখনো হাসিখুশি, রসিক এবং আড্ডাপ্রিয়। তবে মাঠে তাঁর সিদ্ধান্ত, পরিণত মানসিকতা এবং দায়িত্ববোধ আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব।
আজ স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও ফ্রান্সের বড় আশা দেম্বেলেকে ঘিরেই। একসময় যাঁকে “ছোট ছেলের মতো” খেলার জন্য সমালোচনা শুনতে হয়েছিল, তিনিই এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্রদের একজন। ব্যর্থতার গভীর অন্ধকার থেকে উঠে এসে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রতিভার প্রকৃত মূল্য তখনই পাওয়া যায়, যখন সেটি অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিলিত হয়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে গবেষণা ও এআইয়ে জোর দিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ঘুম ভেঙেই মোবাইল নয়, ভোরের আলোয় খুঁজুন জীবনের সৌন্দর্য

০৮ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বিশ্বকাপের দেম্বেলে: সমালোচনা পেরিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

আপডেট সময় ০৬:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল উসমান দেম্বেলের ফুটবল জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাতগুলোর একটি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে তাঁকে তুলে নেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। দি মারিয়াকে করা তাঁর ফাউল থেকেই আসে পেনাল্টি, আর সেই গোলেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ড্রেসিংরুমে ফিরেই কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় পুরো দলকে। পরে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল মন্তব্য করেছিলেন, দেম্বেলে যেন “ছোট ছেলের মতো” খেলেছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমও তাঁর পারফরম্যান্সকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনে।
সেই রাতের স্মৃতি দীর্ঘদিন তাড়া করে ফিরেছে দেম্বেলেকে। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, পরদিন সকালে তাঁর মনে হয়েছিল, আর কখনো ফুটবলই দেখতে পারবেন না। এমনকি জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয়ে ভুগেছিলেন তিনি।
তবে সময় বদলেছে, বদলেছেন দেম্বেলেও। সাড়ে তিন বছরের ব্যবধানে তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি শুধু ফ্রান্সের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসাই নন, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কার্যকর ফরোয়ার্ড হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স সেই পরিবর্তনেরই প্রমাণ। ছয় ম্যাচে পাঁচ গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের একমাত্র হ্যাটট্রিকও এসেছে তাঁর পা থেকে। মাঠে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের খেলায় সম্পৃক্ত করতেও দারুণ ভূমিকা রাখছেন এই উইঙ্গার।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে দেম্বেলে ও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই আলোচনা দ্রুতই মিলিয়ে যায়। একে অপরকে গোল বানিয়ে দেওয়া, আক্রমণে বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক আস্থা—সব মিলিয়ে দুজন এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়ংকর জুটিগুলোর একটি।
দেম্বেলেকে নিয়ে অতীতে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তাঁকে স্বার্থপর, উদাসীন কিংবা দলকে এগিয়ে নিতে অক্ষম বলেও মন্তব্য করেছিলেন অনেক বিশ্লেষক। কিন্তু গত দুই বছরে ফ্রান্স ও ক্লাব ফুটবলে তাঁর অবদান সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। এখন তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো দলের ছন্দ তৈরির কাজটিও সমান দক্ষতায় করে যাচ্ছেন।
মাঠের বাইরে দেম্বেলের ব্যক্তিত্বেও খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। তিনি এখনো হাসিখুশি, রসিক এবং আড্ডাপ্রিয়। তবে মাঠে তাঁর সিদ্ধান্ত, পরিণত মানসিকতা এবং দায়িত্ববোধ আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব।
আজ স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও ফ্রান্সের বড় আশা দেম্বেলেকে ঘিরেই। একসময় যাঁকে “ছোট ছেলের মতো” খেলার জন্য সমালোচনা শুনতে হয়েছিল, তিনিই এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্রদের একজন। ব্যর্থতার গভীর অন্ধকার থেকে উঠে এসে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রতিভার প্রকৃত মূল্য তখনই পাওয়া যায়, যখন সেটি অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিলিত হয়।

Share this news as a Photo Card