শিরোনাম :
পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ কে এই খাইরুল দেওয়ান ? শুক্রবার সারা ভারতে জুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির ভেনিস উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও বিতর্কের জেরে জামাত নেতা গাজী নজরুলকে বহিষ্কার, ইসি-স্পিকারকে চিঠি শাহজাদপুরে ১৫৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ মোদির সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বকাপের দেম্বেলে: সমালোচনা পেরিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল উসমান দেম্বেলের ফুটবল জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাতগুলোর একটি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে তাঁকে তুলে নেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। দি মারিয়াকে করা তাঁর ফাউল থেকেই আসে পেনাল্টি, আর সেই গোলেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ড্রেসিংরুমে ফিরেই কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় পুরো দলকে। পরে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল মন্তব্য করেছিলেন, দেম্বেলে যেন “ছোট ছেলের মতো” খেলেছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমও তাঁর পারফরম্যান্সকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনে।
সেই রাতের স্মৃতি দীর্ঘদিন তাড়া করে ফিরেছে দেম্বেলেকে। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, পরদিন সকালে তাঁর মনে হয়েছিল, আর কখনো ফুটবলই দেখতে পারবেন না। এমনকি জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয়ে ভুগেছিলেন তিনি।
তবে সময় বদলেছে, বদলেছেন দেম্বেলেও। সাড়ে তিন বছরের ব্যবধানে তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি শুধু ফ্রান্সের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসাই নন, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কার্যকর ফরোয়ার্ড হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স সেই পরিবর্তনেরই প্রমাণ। ছয় ম্যাচে পাঁচ গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের একমাত্র হ্যাটট্রিকও এসেছে তাঁর পা থেকে। মাঠে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের খেলায় সম্পৃক্ত করতেও দারুণ ভূমিকা রাখছেন এই উইঙ্গার।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে দেম্বেলে ও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই আলোচনা দ্রুতই মিলিয়ে যায়। একে অপরকে গোল বানিয়ে দেওয়া, আক্রমণে বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক আস্থা—সব মিলিয়ে দুজন এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়ংকর জুটিগুলোর একটি।
দেম্বেলেকে নিয়ে অতীতে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তাঁকে স্বার্থপর, উদাসীন কিংবা দলকে এগিয়ে নিতে অক্ষম বলেও মন্তব্য করেছিলেন অনেক বিশ্লেষক। কিন্তু গত দুই বছরে ফ্রান্স ও ক্লাব ফুটবলে তাঁর অবদান সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। এখন তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো দলের ছন্দ তৈরির কাজটিও সমান দক্ষতায় করে যাচ্ছেন।
মাঠের বাইরে দেম্বেলের ব্যক্তিত্বেও খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। তিনি এখনো হাসিখুশি, রসিক এবং আড্ডাপ্রিয়। তবে মাঠে তাঁর সিদ্ধান্ত, পরিণত মানসিকতা এবং দায়িত্ববোধ আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব।
আজ স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও ফ্রান্সের বড় আশা দেম্বেলেকে ঘিরেই। একসময় যাঁকে “ছোট ছেলের মতো” খেলার জন্য সমালোচনা শুনতে হয়েছিল, তিনিই এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্রদের একজন। ব্যর্থতার গভীর অন্ধকার থেকে উঠে এসে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রতিভার প্রকৃত মূল্য তখনই পাওয়া যায়, যখন সেটি অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিলিত হয়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বিশ্বকাপের দেম্বেলে: সমালোচনা পেরিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

আপডেট সময় ০৬:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল উসমান দেম্বেলের ফুটবল জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাতগুলোর একটি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে তাঁকে তুলে নেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। দি মারিয়াকে করা তাঁর ফাউল থেকেই আসে পেনাল্টি, আর সেই গোলেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ড্রেসিংরুমে ফিরেই কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় পুরো দলকে। পরে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল মন্তব্য করেছিলেন, দেম্বেলে যেন “ছোট ছেলের মতো” খেলেছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমও তাঁর পারফরম্যান্সকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনে।
সেই রাতের স্মৃতি দীর্ঘদিন তাড়া করে ফিরেছে দেম্বেলেকে। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, পরদিন সকালে তাঁর মনে হয়েছিল, আর কখনো ফুটবলই দেখতে পারবেন না। এমনকি জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয়ে ভুগেছিলেন তিনি।
তবে সময় বদলেছে, বদলেছেন দেম্বেলেও। সাড়ে তিন বছরের ব্যবধানে তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি শুধু ফ্রান্সের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসাই নন, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কার্যকর ফরোয়ার্ড হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স সেই পরিবর্তনেরই প্রমাণ। ছয় ম্যাচে পাঁচ গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের একমাত্র হ্যাটট্রিকও এসেছে তাঁর পা থেকে। মাঠে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের খেলায় সম্পৃক্ত করতেও দারুণ ভূমিকা রাখছেন এই উইঙ্গার।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে দেম্বেলে ও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই আলোচনা দ্রুতই মিলিয়ে যায়। একে অপরকে গোল বানিয়ে দেওয়া, আক্রমণে বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক আস্থা—সব মিলিয়ে দুজন এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়ংকর জুটিগুলোর একটি।
দেম্বেলেকে নিয়ে অতীতে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তাঁকে স্বার্থপর, উদাসীন কিংবা দলকে এগিয়ে নিতে অক্ষম বলেও মন্তব্য করেছিলেন অনেক বিশ্লেষক। কিন্তু গত দুই বছরে ফ্রান্স ও ক্লাব ফুটবলে তাঁর অবদান সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। এখন তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো দলের ছন্দ তৈরির কাজটিও সমান দক্ষতায় করে যাচ্ছেন।
মাঠের বাইরে দেম্বেলের ব্যক্তিত্বেও খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। তিনি এখনো হাসিখুশি, রসিক এবং আড্ডাপ্রিয়। তবে মাঠে তাঁর সিদ্ধান্ত, পরিণত মানসিকতা এবং দায়িত্ববোধ আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব।
আজ স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও ফ্রান্সের বড় আশা দেম্বেলেকে ঘিরেই। একসময় যাঁকে “ছোট ছেলের মতো” খেলার জন্য সমালোচনা শুনতে হয়েছিল, তিনিই এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্রদের একজন। ব্যর্থতার গভীর অন্ধকার থেকে উঠে এসে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রতিভার প্রকৃত মূল্য তখনই পাওয়া যায়, যখন সেটি অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিলিত হয়।

Share this news as a Photo Card