শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ছেলেকে জিম্মি করে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: অভিযুক্তদের বাড়িঘর ভাঙচুর ফার্মগেটের মসজিদ থেকে আটক ৫ জঙ্গি কারাগারে কালোটাকা ও মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবিতে আইনি নোটিশ সরকারি হাসপাতালের সামনে ক্লিনিকের অনুমোদন নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ককটেল ফাটিয়ে সংকট তৈরি সম্ভব নয়, বললেন উপদেষ্টা জাহেদ প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির তেলের পর নতুন চাপ বাসভাড়া কি.মি. এ বাড়ল ১৭ পয়সা জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক উপস্থিতি রাশিয়ায় নির্বাচনে পুতিনের দলের রেকর্ড ভূমিধস জয় সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল, নতুন রেকর্ড হল্যান্ডের

২৩ দিনেই ছয় মাসের ডেঙ্গু রেকর্ড ছাড়াল চট্টগ্রাম

বর্ষা শুরু হতেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে মোট ২৯৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেখানে জুলাই মাসের প্রথম ২৩ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৬ জন। ফলে মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ছয় মাসের সংক্রমণের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, টানা বৃষ্টিপাত, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এবং এডিস মশার দ্রুত বংশবিস্তারই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এ সময়ে মারা গেছেন দুজন। আক্রান্তদের মধ্যে নগরের বাসিন্দা ২৬০ জন, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৬২ জন এবং অন্যান্য জেলার ১৩২ জন। চলতি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩০৫ রোগীর মধ্যে ১৮৪ জনই নগরের বাইরের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের খবর এসেছে সীতাকুণ্ড থেকে, যেখানে রোগীর সংখ্যা ৬৪। এছাড়া লোহাগাড়া, রাউজান, পটিয়া, মীরসরাই, বাঁশখালী ও সাতকানিয়াসহ একাধিক উপজেলায় সংক্রমণ বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এবার ডেঙ্গুর উপসর্গেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তাই জ্বর বা শারীরিক অসুস্থতাকে অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপে চট্টগ্রাম নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডেই এডিস মশার উপস্থিতি মিলেছে। এর মধ্যে উত্তর কাট্টলী, পাহাড়তলী, আলকরণ, পশ্চিম ও দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ বালুচরা, পাথরঘাটা এবং আন্দরকিল্লাকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জরিপে শনাক্ত হওয়া মশার বেশির ভাগই এডিস ইজিপটাই, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ২০৫ জন স্প্রে কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন। ডেঙ্গুর হটস্পট এলাকায় ৬০ সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষিত দল লার্ভিসাইড ও ফগিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশে তিন দিনের বেশি পানি জমে না রাখার আহ্বান জানিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহে ছেলেকে জিম্মি করে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: অভিযুক্তদের বাড়িঘর ভাঙচুর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল, নতুন রেকর্ড হল্যান্ডের

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

২৩ দিনেই ছয় মাসের ডেঙ্গু রেকর্ড ছাড়াল চট্টগ্রাম

আপডেট সময় ০২:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বর্ষা শুরু হতেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে মোট ২৯৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেখানে জুলাই মাসের প্রথম ২৩ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৬ জন। ফলে মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ছয় মাসের সংক্রমণের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, টানা বৃষ্টিপাত, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এবং এডিস মশার দ্রুত বংশবিস্তারই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এ সময়ে মারা গেছেন দুজন। আক্রান্তদের মধ্যে নগরের বাসিন্দা ২৬০ জন, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৬২ জন এবং অন্যান্য জেলার ১৩২ জন। চলতি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩০৫ রোগীর মধ্যে ১৮৪ জনই নগরের বাইরের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের খবর এসেছে সীতাকুণ্ড থেকে, যেখানে রোগীর সংখ্যা ৬৪। এছাড়া লোহাগাড়া, রাউজান, পটিয়া, মীরসরাই, বাঁশখালী ও সাতকানিয়াসহ একাধিক উপজেলায় সংক্রমণ বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এবার ডেঙ্গুর উপসর্গেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তাই জ্বর বা শারীরিক অসুস্থতাকে অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপে চট্টগ্রাম নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডেই এডিস মশার উপস্থিতি মিলেছে। এর মধ্যে উত্তর কাট্টলী, পাহাড়তলী, আলকরণ, পশ্চিম ও দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ বালুচরা, পাথরঘাটা এবং আন্দরকিল্লাকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জরিপে শনাক্ত হওয়া মশার বেশির ভাগই এডিস ইজিপটাই, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ২০৫ জন স্প্রে কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন। ডেঙ্গুর হটস্পট এলাকায় ৬০ সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষিত দল লার্ভিসাইড ও ফগিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশে তিন দিনের বেশি পানি জমে না রাখার আহ্বান জানিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

Share this news as a Photo Card