শিরোনাম :
দেশকে অর্থনৈতিক-সামাজিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান করা সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশিকে তুলে নেওয়ার পর ২ ভারতীয়কে ধরে আনা হয়, বৈঠকে হস্তান্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা সমগ্র জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা পরিমাপ করা সমীচীন কী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন অন্য কেউ বাড়ায়নি ,মিল্কভিটার দুধের দাম বাড়লো কেন? বাংলা কিউআরে চার্জ শূন্য, ব্যবসায়ীদের জন্য ১০০ কোটির প্রণোদনা শাবনূরের সঙ্গে সালমানের প্রেম? ৩০ বছর পর কী বলছেন সালমানের মা ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের নতুন জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন চাঁদপুরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা সমগ্র জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা পরিমাপ করা সমীচীন কী

এসএসসি পরীক্ষার পর কয়েক মাস মানুষের মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন ঘুরত—রেজাল্ট কেমন হয়েছে? তখন মনে হতো, এই একটি পরীক্ষার ফলাফলই যেন গোটা জীবনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেবে। অথচ আজ এই বয়সে এসে সেই প্রশ্ন আর কেউ করে না। সময়ের স্রোতে সেই দুশ্চিন্তা এখন কেবলই এক পুরনো স্মৃতি।

এসএসসির পালা মিটতেই শুরু হয় এইচএসসির প্রস্তুতি। এরপর আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লড়াই—কোন বিষয়ে পড়া হবে, কোথায় সুযোগ মিলবে, তা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তার পালা। প্রতিটি ধাপেই যেন অপেক্ষা করে থাকে নতুন এক শর্ত, নতুন এক পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর পর ভাবা হয়, এবার বুঝি স্বস্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তবতা তখন অন্য কথা বলে। শোনা যায়, এসএসসি-এইচএসসির ফলাফল কিংবা সিজিপিএ—কোনো কিছুই আসলে গুরুত্বপূর্ণ নয়; আসল পরীক্ষা তো কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সেই কঠিন প্রতিযোগিতা।

এই চক্রটি ভারী অদ্ভুত। প্রতিটি ধাপেই একটি নতুন মানদণ্ড এসে হাজির হয়, আর আগের অর্জনগুলো যেন ম্লান হয়ে যায় নতুন প্রত্যাশার চাপে। তবে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা বলে ভিন্ন কথা। শেষ পর্যন্ত মানুষ আপনার অতীতের ফলাফল নয়, বরং বর্তমান অবস্থানটাই বিচার করে। এমন অসংখ্য দৃষ্টান্ত চোখের সামনে রয়েছে, যেখানে কেউ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরেও পরবর্তী জীবনে সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। আবার এমনও দেখা যায়, সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী কেউ কেউ দীর্ঘদিন কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থেকে যাচ্ছেন।

এর অর্থ এই নয় যে ভালো ফলাফলের কোনো মূল্য নেই। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ভালো অর্জন নিঃসন্দেহে জীবনের কিছু দরজা খুলে দেয়, নতুন সুযোগের পথ তৈরি করে। কিন্তু একটি মাত্র পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে কারও সমগ্র জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা পরিমাপ করা সমীচীন নয়। জীবন একটি দীর্ঘ পথ, যেখানে প্রতিটি বাঁকে নতুন সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে।

তাই অতীতের কোনো ফলাফল নিয়ে আক্ষেপ কিংবা হতাশায় ডুবে থাকার প্রয়োজন নেই। বরং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, সততার পথে অবিচল থাকা এবং সৎ উপার্জনের জন্য নিরলস পরিশ্রম করাই হতে পারে প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি। বাকিটা নির্ভর করে ঊর্ধ্বতন সত্তার ইচ্ছার ওপর। যিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেন, তাঁর জন্য পথ ঠিকই খুলে যায়—হয়তো ভিন্ন সময়ে, ভিন্নভাবে।

জীবনের এই বাস্তবতা মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে যে চাপ ও প্রত্যাশার মুখোমুখি হতে হয়, তা সাময়িক। কিন্তু একজন মানুষের চরিত্র, পরিশ্রম এবং সততা—এই গুণগুলোই দীর্ঘমেয়াদে তাঁর প্রকৃত পরিচয় গড়ে তোলে। তাই তরুণ প্রজন্মের উচিত ফলাফলকে জীবনের একমাত্র মাপকাঠি না ভেবে, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দেশকে অর্থনৈতিক-সামাজিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান করা সরকারের লক্ষ্য

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

চাঁদপুরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা সমগ্র জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা পরিমাপ করা সমীচীন কী

আপডেট সময় ০৬:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষার পর কয়েক মাস মানুষের মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন ঘুরত—রেজাল্ট কেমন হয়েছে? তখন মনে হতো, এই একটি পরীক্ষার ফলাফলই যেন গোটা জীবনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেবে। অথচ আজ এই বয়সে এসে সেই প্রশ্ন আর কেউ করে না। সময়ের স্রোতে সেই দুশ্চিন্তা এখন কেবলই এক পুরনো স্মৃতি।

এসএসসির পালা মিটতেই শুরু হয় এইচএসসির প্রস্তুতি। এরপর আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লড়াই—কোন বিষয়ে পড়া হবে, কোথায় সুযোগ মিলবে, তা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তার পালা। প্রতিটি ধাপেই যেন অপেক্ষা করে থাকে নতুন এক শর্ত, নতুন এক পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর পর ভাবা হয়, এবার বুঝি স্বস্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তবতা তখন অন্য কথা বলে। শোনা যায়, এসএসসি-এইচএসসির ফলাফল কিংবা সিজিপিএ—কোনো কিছুই আসলে গুরুত্বপূর্ণ নয়; আসল পরীক্ষা তো কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সেই কঠিন প্রতিযোগিতা।

এই চক্রটি ভারী অদ্ভুত। প্রতিটি ধাপেই একটি নতুন মানদণ্ড এসে হাজির হয়, আর আগের অর্জনগুলো যেন ম্লান হয়ে যায় নতুন প্রত্যাশার চাপে। তবে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা বলে ভিন্ন কথা। শেষ পর্যন্ত মানুষ আপনার অতীতের ফলাফল নয়, বরং বর্তমান অবস্থানটাই বিচার করে। এমন অসংখ্য দৃষ্টান্ত চোখের সামনে রয়েছে, যেখানে কেউ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরেও পরবর্তী জীবনে সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। আবার এমনও দেখা যায়, সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী কেউ কেউ দীর্ঘদিন কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থেকে যাচ্ছেন।

এর অর্থ এই নয় যে ভালো ফলাফলের কোনো মূল্য নেই। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ভালো অর্জন নিঃসন্দেহে জীবনের কিছু দরজা খুলে দেয়, নতুন সুযোগের পথ তৈরি করে। কিন্তু একটি মাত্র পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে কারও সমগ্র জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা পরিমাপ করা সমীচীন নয়। জীবন একটি দীর্ঘ পথ, যেখানে প্রতিটি বাঁকে নতুন সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে।

তাই অতীতের কোনো ফলাফল নিয়ে আক্ষেপ কিংবা হতাশায় ডুবে থাকার প্রয়োজন নেই। বরং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, সততার পথে অবিচল থাকা এবং সৎ উপার্জনের জন্য নিরলস পরিশ্রম করাই হতে পারে প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি। বাকিটা নির্ভর করে ঊর্ধ্বতন সত্তার ইচ্ছার ওপর। যিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেন, তাঁর জন্য পথ ঠিকই খুলে যায়—হয়তো ভিন্ন সময়ে, ভিন্নভাবে।

জীবনের এই বাস্তবতা মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে যে চাপ ও প্রত্যাশার মুখোমুখি হতে হয়, তা সাময়িক। কিন্তু একজন মানুষের চরিত্র, পরিশ্রম এবং সততা—এই গুণগুলোই দীর্ঘমেয়াদে তাঁর প্রকৃত পরিচয় গড়ে তোলে। তাই তরুণ প্রজন্মের উচিত ফলাফলকে জীবনের একমাত্র মাপকাঠি না ভেবে, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

Share this news as a Photo Card