দেশে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ একসঙ্গে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে সাত শিশু। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুটি আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গুর চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ নিয়ে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৪০০ জনের মৃত্যু হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৭১ জন। বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ছয় হাজার ৪১৫ জন।
অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের শুরুতে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মারা গেছেন দুজন করে। মার্চ ও এপ্রিলে কারও মৃত্যুর খবর নেই। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর ধীরে ধীরে অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে সেপ্টেম্বরে, ১৪৮ জন।
আগের বছরগুলোর হিসাবও দিয়েছে অধিদপ্তর। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন, মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন, আর মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ২০২৩ সালে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। সে বছর মৃত্যু হয় এক হাজার ৭০৫ জনের।
হামের চিত্র
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশিত হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৯৫ শিশু।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে এক হাজার ১৩৫ শিশু। নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১০৫ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৪০।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৩ শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৩২। এই সময়ে এক হাজার ১২৮ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ছাড়পত্র পেয়েছে এক হাজার ৫৪ শিশু।
১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪। নিশ্চিত রোগী ২৩ হাজার ৫৪১ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট এক লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন। তাদের মধ্যে এক লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
দুটি রোগের পরিসংখ্যানই বলছে, সংক্রমণের চাপ এখনো কমেনি। হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসাসেবার ওপর এর প্রভাব পড়ছে। তবে বিজ্ঞপ্তি দুটিতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কোনো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















