আইয়ুব বাচ্চুর কালজয়ী গানগুলো নিয়ে সাজানো ট্রিবিউট প্রকল্প ‘উত্তরাধিকার’-এর কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশিত গানগুলো ঘিরে শ্রোতা-ভক্তদের একাংশের তীব্র সমালোচনা ও আপত্তির মুখে এ সিদ্ধান্ত নিলেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১৬ আগস্ট, আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে যাত্রা শুরু করে ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্প। পরিকল্পনা ছিল, রকস্টারের জনপ্রিয় বিশটি গান নতুন সংগীতায়োজনে শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরা হবে। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সাতটি গান প্রকাশও পেয়েছে। কিন্তু নতুন আয়োজনের ধরন নিয়ে শুরু থেকেই বাচ্চুভক্তদের একাংশের মনে দানা বাঁধে অসন্তোষ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে বসে জরুরি বৈঠক। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত অংশীজনরা দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্তে পৌঁছান—ইতোমধ্যে প্রকাশিত চারটি গান প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে, আর বাকি অপ্রকাশিত গানগুলোর প্রকাশও থাকবে স্থগিত।
এলআরবির সদস্য শামীম আহমেদ বলেন, ‘বস (আইয়ুব বাচ্চু) সবার কাছে একটা আবেগের ব্যাপার। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির এভাবে অবমূল্যায়ন হতে পারে না, এ ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। শিগগিরই বসের পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে একটি প্যানেল করা হবে। তারপর গানগুলো সবাই ঠিকঠাক মনে করলে তখনই প্রকাশ করা হবে।’
প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তারও।
তবে এই সিদ্ধান্তে আক্ষেপ ঝরেছে ‘উত্তরাধিকার’-এর সঙ্গে যুক্ত শিল্পী-কলাকুশলীদের কণ্ঠে। তাঁদের ভাষ্য, আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকেই তাঁর গানগুলো নতুন করে পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এর পেছনে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁদের মতে, গান পছন্দ না হলে সমালোচনার অধিকার সবার আছে, তবে আইয়ুব বাচ্চুর গান অন্য কেউ গাইতে পারবেন না—এমন মানসিকতাকে তাঁরা উগ্রবাদী মনোভাব হিসেবেই দেখছেন।
প্রকল্পের আওতায় প্রকাশিত সাতটি গানের মধ্যে রয়েছে বাপ্পা মজুমদারের কণ্ঠে নতুন সংগীতায়োজনে ‘রুপালি গিটার’, সোনার বাংলা সার্কাসের পরিবেশনায় ‘গতকাল রাতে’, কানিজ সুবর্ণার কণ্ঠে ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, জয় শাহরিয়ারের গাওয়া ‘কষ্ট কাকে বলে’, পলাশের কণ্ঠে ‘আপন কেহ নাই’, অটামনাল মুনের গাওয়া ‘হকার’ এবং অদিত রহমানের কণ্ঠে ‘ঘুমন্ত শহরে’।
সমালোচনার ঢেউয়ে আপাতত থমকে গেছে ‘উত্তরাধিকার’-এর পরবর্তী গান প্রকাশের কার্যক্রম। আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের মতামতের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে প্রকল্পটির গান প্রকাশ হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পা সুত্রধর,ঢাকা 









