বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে ফিক্সিং বিতর্ক নতুন কিছু নয়। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই এই কালো ছায়া বারবার ফিরে এসেছে, এমনকি একবার তা এতটাই গভীর হয়েছিল যে দেশের একমাত্র এই ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরটি সাময়িকভাবে বন্ধও করে দিতে হয়েছিল। সাম্প্রতিক কয়েকটি আসরেও পুরোনো এই অভিযোগ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, যার জেরে চরম সমালোচনার মুখে পড়ে ক্রিকেট বোর্ড।
ক্রিকেটের সবুজ গালিচা থেকে ফিক্সিংয়ের এই কালিমা মুছে ফেলার লক্ষ্যে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয় বোর্ডের কাছে। এরপর বোর্ডের দুর্নীতি দমন ইউনিট তথা আকুর প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের সুপারিশ অনুযায়ী ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছিল।
তবে থেমে থাকেনি অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বাধীন এই তদন্ত। ক্রমাগত অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পথে এবার উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য—খোদ বোর্ডের একজন পরিচালকের নামই জড়িয়ে গেছে এই ফিক্সিং জালে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিপিএলের ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িত থাকা আরও তিনজনের নাম প্রকাশ করেছে বোর্ড, যা ক্রিকেটাঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নতুন করে প্রকাশিত তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, যিনি ২০২৫-২৬ মেয়াদের বোর্ড কমিটির একজন পরিচালক এবং একইসঙ্গে অডিট কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তালিকায় থাকা বাকি দুজন হলেন সিকিউরিটি অফিসার জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক এক কাউন্সিলর তথা অডিট কমিটির সদস্য রাকিবুল ইসলাম সানি।
বোর্ডের ভেতর থেকেই এমন নাম উঠে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে বিপিএলকে ঘিরে যে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হয়েছিল, এই ঘটনা তাকে আরও গভীর করে তুলল বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে অ্যালেক্স মার্শালের তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান থাকায় আগামী দিনে আরও নাম প্রকাশিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফিক্সিং প্রতিরোধে বোর্ড কতটা কঠোর অবস্থান নিতে পারে, তা এখন নির্ভর করছে এই তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের ওপর। ততদিন পর্যন্ত বিপিএলের ভাবমূর্তি রক্ষার প্রশ্নটি ঝুলে রইল অনিশ্চয়তার মধ্যেই।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 









