শিরোনাম :
হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো রাজধানীর নদী দূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, ফাঁসকারীদের হুঁশিয়ারি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ

নামাজ কেন ধীরস্থিরভাবে আদায় করতে হবে?

অনলাইন ডেস্ক:
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) একদিন মসজিদে ঢুকলেন, তখন একজন সাহাবি এসে নামাজ আদায় করলেন। তারপর তিনি এসে নবিজিকে (সা.) সালাম করলেন। নবিজি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, আবার গিয়ে নামাজ আদায় করো, তুমি নামাজ আদায় করোনি।

সাহাবি ফিরে গিয়ে আগের মত নামাজ আদায় করে আবার নবিজিকে (সা.) সালাম করলেন। নবিজি আবার বললেন, ফিরে গিয়ে নামাজ আদায় করো, তুমি নামাজ আদায় করোনি। এভাবে তিনবার তিনি তাকে ফিরে গিয়ে নামাজ আদায় করতে বললেন।

সাহাবি বললেন, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি তো এর চেয়ে সুন্দর করে নামাজ আদায় করতে পারি না। আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন।

নবিজি বললেন, যখন তুমি নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাকবির বলবে। তারপর কুরআন থেকে কিছু আয়াত পড়বে যা তোমার জন্য সহজ হয়। তারপর রুকুতে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকু আদায় করবে। তারপর রুকু’ থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। এরপর সিজদা থেকে উঠে স্থিরভাবে বসবে এবং পুনরায় সিজদায় গিয়ে ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। এভাবে পুরো নামাজ আদায় করবে। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এ হাদিস থেকে যে শিক্ষাগুলো আমরা পাই
১. ধীরস্থীরভাবে নামাজ আদায় করা জরুরি। নামাজে তাড়াহুড়া করলে, কোনো রকম রুকু ও সিজদা আদায় করলে নামাজের সওয়াব পাওয়া যায় না। হাদিসে বর্ণিত সাহাবি তাড়াহুড়া করে নামাজ পড়েছিলেন। তাই নবিজি তাকে বলেছেন তার নামাজ হয়নি, তিনি যেন আবার গিয়ে নামাজ পড়েন।

২. রুকু ও সিজদাসহ নামাজের প্রতিটি রোকনে গিয়ে স্থির হতে হবে, ওই রোকনের কেরাত বা তাসবিহগুলো পাঠ করতে হবে। প্রতিটি রোকনে গিয়ে স্থির হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করা জরুরি। কেউ যদি তাড়াহুড়া করতে গিয়ে নামাজের রোকনগুলো যথাযথভাবে আদায় না করে, তাহলে তার নামাজ বাতিল হয়ে যায় এবং পুনরায় আদায় করতে হয়। সাহু সিজদা এ রকম ভুলের মাশুল হয় না। এ কারণে নবিজি (সা.) ওই সাহাবিকে সাহু সিজদা দেওয়ার নির্দেশ না দিয়ে আবার নামাজ আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

৩. কোনো মুসলমানকে নামাজে ভুল করতে দেখলে অপর মুসলমানের কর্তব্য তার ভুল ধরিয়ে দেওয়া। তাকে তার ভুলের ওপর ছেড়ে দেওয়ার সমীচীন নয়। কেউ যদি নামাজের ওয়াজিব আমলে ভুল করে, তাহলে ওই ভুল ধরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব এবং কেউ মুস্তাহাব আমলে ভুল করলে ওই ভুল ধরিয়ে দেওয়া মুস্তাহাব গণ্য হবে। রাসুল (সা.) নামাজে কাউকে ভুল করতে দেখলে ভুল ধরিয়ে দিতেন। সাহাবি ও তাবেঈরাও কাউকে নামাজে ভুল করতে দেখলে ভুল ধরিয়ে দিতেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

আপলোডকারীর তথ্য

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ

০৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নামাজ কেন ধীরস্থিরভাবে আদায় করতে হবে?

আপডেট সময় ০২:০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক:
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) একদিন মসজিদে ঢুকলেন, তখন একজন সাহাবি এসে নামাজ আদায় করলেন। তারপর তিনি এসে নবিজিকে (সা.) সালাম করলেন। নবিজি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, আবার গিয়ে নামাজ আদায় করো, তুমি নামাজ আদায় করোনি।

সাহাবি ফিরে গিয়ে আগের মত নামাজ আদায় করে আবার নবিজিকে (সা.) সালাম করলেন। নবিজি আবার বললেন, ফিরে গিয়ে নামাজ আদায় করো, তুমি নামাজ আদায় করোনি। এভাবে তিনবার তিনি তাকে ফিরে গিয়ে নামাজ আদায় করতে বললেন।

সাহাবি বললেন, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি তো এর চেয়ে সুন্দর করে নামাজ আদায় করতে পারি না। আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন।

নবিজি বললেন, যখন তুমি নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাকবির বলবে। তারপর কুরআন থেকে কিছু আয়াত পড়বে যা তোমার জন্য সহজ হয়। তারপর রুকুতে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকু আদায় করবে। তারপর রুকু’ থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। এরপর সিজদা থেকে উঠে স্থিরভাবে বসবে এবং পুনরায় সিজদায় গিয়ে ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। এভাবে পুরো নামাজ আদায় করবে। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এ হাদিস থেকে যে শিক্ষাগুলো আমরা পাই
১. ধীরস্থীরভাবে নামাজ আদায় করা জরুরি। নামাজে তাড়াহুড়া করলে, কোনো রকম রুকু ও সিজদা আদায় করলে নামাজের সওয়াব পাওয়া যায় না। হাদিসে বর্ণিত সাহাবি তাড়াহুড়া করে নামাজ পড়েছিলেন। তাই নবিজি তাকে বলেছেন তার নামাজ হয়নি, তিনি যেন আবার গিয়ে নামাজ পড়েন।

২. রুকু ও সিজদাসহ নামাজের প্রতিটি রোকনে গিয়ে স্থির হতে হবে, ওই রোকনের কেরাত বা তাসবিহগুলো পাঠ করতে হবে। প্রতিটি রোকনে গিয়ে স্থির হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করা জরুরি। কেউ যদি তাড়াহুড়া করতে গিয়ে নামাজের রোকনগুলো যথাযথভাবে আদায় না করে, তাহলে তার নামাজ বাতিল হয়ে যায় এবং পুনরায় আদায় করতে হয়। সাহু সিজদা এ রকম ভুলের মাশুল হয় না। এ কারণে নবিজি (সা.) ওই সাহাবিকে সাহু সিজদা দেওয়ার নির্দেশ না দিয়ে আবার নামাজ আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

৩. কোনো মুসলমানকে নামাজে ভুল করতে দেখলে অপর মুসলমানের কর্তব্য তার ভুল ধরিয়ে দেওয়া। তাকে তার ভুলের ওপর ছেড়ে দেওয়ার সমীচীন নয়। কেউ যদি নামাজের ওয়াজিব আমলে ভুল করে, তাহলে ওই ভুল ধরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব এবং কেউ মুস্তাহাব আমলে ভুল করলে ওই ভুল ধরিয়ে দেওয়া মুস্তাহাব গণ্য হবে। রাসুল (সা.) নামাজে কাউকে ভুল করতে দেখলে ভুল ধরিয়ে দিতেন। সাহাবি ও তাবেঈরাও কাউকে নামাজে ভুল করতে দেখলে ভুল ধরিয়ে দিতেন।

Share this news as a Photo Card