শিরোনাম :
না খেলেই সেমিতে ভারত-পাকিস্তান ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানে তেলের দাম বৃদ্ধি জাতিসংঘে ইরানের বার্তার সঙ্গে ‘বাহুবলী’র লড়াইয়ের দৃশ্য, ভাইরাল রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান মডেল মসজিদ নীতিমালা প্রকাশ,কর্মরত জনবলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নয় যুক্তরাজ্যে মার্কিনিদের ব্যবহার করা বিমান ঘাঁটিতে ‘বিস্ফোরক’ আতঙ্ক চাঁদাবাজি-দখলবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ : টিআইবি ডেঙ্গুতে দেশজুড়ে উদ্বেগ, একদিনে ভর্তির নতুন রেকর্ড ভারত-নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ৭০ জ্বালানি সংকট কাটিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে: জ্বালানি মন্ত্রী

মডেল মসজিদ নীতিমালা প্রকাশ,কর্মরত জনবলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়

নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, জনসচেতনতা ও সামাজিক কল্যাণের কেন্দ্র হিসেবে দেশের মডেল মসজিদগুলো পরিচালনার নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ নামের এই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনটি জারি হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, এনডিসি। প্রজ্ঞাপনে মডেল মসজিদের ব্যবস্থাপনা, জনবল নিয়োগ, বেতন-ভাতা ও সম্মানী, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্মানী ও বেতন-ভাতা

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মডেল মসজিদে কর্মরত পেশ ইমামকে মাসে ২০ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ১৫ হাজার টাকা এবং খাদিমকে ১২ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া যেতে পারে। খতিব ও নিরাপত্তা প্রহরীর সম্মানী ঠিক হবে চুক্তির ভিত্তিতে।

যেসব মডেল মসজিদের আর্থিক সক্ষমতা আছে, সেগুলোর কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত গ্রেডে বেতন-ভাতা দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ইমামের জন্য গ্রেড-১০, মুয়াজ্জিনের জন্য গ্রেড-১৬ এবং খাদিমের জন্য গ্রেড-১৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিব ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদ এখানেও চুক্তিভিত্তিক থাকছে।

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে উৎসব ভাতার বিধানও রাখা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৭-এ উল্লিখিত জনবলকে সংশ্লিষ্ট ঈদের আগের মাসের সম্মানীর সমপরিমাণ উৎসব ভাতা দেওয়া যেতে পারে।

দায়িত্ব ও আচরণবিধি

নীতিমালায় খতিবসহ মডেল মসজিদের জনবলকে মসজিদের আমানতদার হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বস্ততা, সততা, পরহেজগারি ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁদের কাজ করতে হবে। তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন না। অনুমোদিত ছুটি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনাও রয়েছে।

ধর্মীয় শিক্ষা ও আয়োজন

মডেল মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি রাখার বিধান যুক্ত হয়েছে। মসজিদে পবিত্র কোরআন শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, হিফজখানা এবং শিশুদের মক্তব শিক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বের তালিকায় আছে জুমার নামাজ, প্রাক-খুতবা ও খুতবা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, দুই ঈদের নামাজ এবং জানাজার নামাজের আয়োজন। রমজান মাসে তারাবিহর জন্য হাফেজ নিয়োগ ও তাঁদের আবাসনের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

শিরক, বিদআত, অপসংস্কৃতি, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস, পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, গুজব ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ নানা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রাক-খুতবা ও খুতবার আয়োজন করতে হবে।

আয়-ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা

নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদের পবিত্রতা, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংস্কার, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং বাজেট তৈরির দায়িত্বও কমিটির। আয়-ব্যয়ের হিসাব, নগদ অর্থ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির ভারও থাকছে তাদের ওপর।

সভার কার্যবিবরণী ও হাজিরা সংরক্ষণ, বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা এবং আয়বর্ধক কার্যক্রম গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। মসজিদের সব আয় সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সরকার ঘোষিত বিশেষ দিবসে দোয়া, মোনাজাত ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্বও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

না খেলেই সেমিতে ভারত-পাকিস্তান

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

জ্বালানি সংকট কাটিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে: জ্বালানি মন্ত্রী

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মডেল মসজিদ নীতিমালা প্রকাশ,কর্মরত জনবলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়

আপডেট সময় ০১:১৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, জনসচেতনতা ও সামাজিক কল্যাণের কেন্দ্র হিসেবে দেশের মডেল মসজিদগুলো পরিচালনার নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ নামের এই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনটি জারি হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, এনডিসি। প্রজ্ঞাপনে মডেল মসজিদের ব্যবস্থাপনা, জনবল নিয়োগ, বেতন-ভাতা ও সম্মানী, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্মানী ও বেতন-ভাতা

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মডেল মসজিদে কর্মরত পেশ ইমামকে মাসে ২০ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ১৫ হাজার টাকা এবং খাদিমকে ১২ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া যেতে পারে। খতিব ও নিরাপত্তা প্রহরীর সম্মানী ঠিক হবে চুক্তির ভিত্তিতে।

যেসব মডেল মসজিদের আর্থিক সক্ষমতা আছে, সেগুলোর কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত গ্রেডে বেতন-ভাতা দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ইমামের জন্য গ্রেড-১০, মুয়াজ্জিনের জন্য গ্রেড-১৬ এবং খাদিমের জন্য গ্রেড-১৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিব ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদ এখানেও চুক্তিভিত্তিক থাকছে।

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে উৎসব ভাতার বিধানও রাখা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৭-এ উল্লিখিত জনবলকে সংশ্লিষ্ট ঈদের আগের মাসের সম্মানীর সমপরিমাণ উৎসব ভাতা দেওয়া যেতে পারে।

দায়িত্ব ও আচরণবিধি

নীতিমালায় খতিবসহ মডেল মসজিদের জনবলকে মসজিদের আমানতদার হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বস্ততা, সততা, পরহেজগারি ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁদের কাজ করতে হবে। তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন না। অনুমোদিত ছুটি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনাও রয়েছে।

ধর্মীয় শিক্ষা ও আয়োজন

মডেল মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি রাখার বিধান যুক্ত হয়েছে। মসজিদে পবিত্র কোরআন শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, হিফজখানা এবং শিশুদের মক্তব শিক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বের তালিকায় আছে জুমার নামাজ, প্রাক-খুতবা ও খুতবা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, দুই ঈদের নামাজ এবং জানাজার নামাজের আয়োজন। রমজান মাসে তারাবিহর জন্য হাফেজ নিয়োগ ও তাঁদের আবাসনের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

শিরক, বিদআত, অপসংস্কৃতি, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস, পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, গুজব ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ নানা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রাক-খুতবা ও খুতবার আয়োজন করতে হবে।

আয়-ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা

নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদের পবিত্রতা, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংস্কার, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং বাজেট তৈরির দায়িত্বও কমিটির। আয়-ব্যয়ের হিসাব, নগদ অর্থ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির ভারও থাকছে তাদের ওপর।

সভার কার্যবিবরণী ও হাজিরা সংরক্ষণ, বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা এবং আয়বর্ধক কার্যক্রম গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। মসজিদের সব আয় সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সরকার ঘোষিত বিশেষ দিবসে দোয়া, মোনাজাত ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্বও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card