ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হার দিয়ে শুরু টি টোয়েন্টি সিরিজ

তাসকিন ছক্কা মেরেছিলেন ঠিকই। কিন্তু তা স্কোরবোর্ডে যোগ হয়নি। উল্টো তিনি আউট হলেন। কারণ, ছক্কা মারার আগে নিজের পায়ে স্ট্যাম্প ভেঙেছেন তাসকিন। হয়েছেন হিট উইকেটের শিকার। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর বোলাররা চেষ্টার কমতি রাখেননি। কিন্তু, শেষ হাসি হাসা হয়নি বাংলাদেশের। টি-টোয়েন্টিতে ছন্দে থাকা বাংলাদেশের তরী ডুবেছে হঠাৎ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ হেরেছে ১৬ রানে।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে। জবাবে ১৯.৪ ওভারে ১৪৯ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

রান তাড়ায় তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে ঝড়ো শুরু পায় স্বাগতিকরাও। কিন্তু, খেই হারায় খানিক বাদেই। জেইডেন সিলসকে মারতে গিয়ে মিড-অনে রোমারিও শেফার্ডের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন তামিম। বিদায়ের আগে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ৫ বলে ১৫ রান করেন তামিম।

তামিম বিদায় নিলে ফিরে যান অধিনায়ক লিটন দাসও। ৮ বলে ৫ রান করে আকিল হোসেনের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। ২৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদ বাড়ে বাংলাদেশের। দলের অন্যতম ভরসা সাইফ হাসানও আকিলের বলে শেফার্ডকে ক্যাচ দেন। ৭ বলে ৮ রান করেন তিনি। ৩৮ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।

শামীম হোসেন পাটোয়ারীও পারেননি প্রতিরোধ গড়তে। দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে জেসন হোল্ডারের বলে বোল্ড হন। ৪ বলে করেন ১ রান। ৪১ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ রীতিমতো খাদের কিনারে। ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করলেও নুরুল হাসান সোহনের উইকেট হারিয়ে যারপরনাই ধুঁকতে শুরু করে টাইগাররা। খারি পিয়েরের বলে বোল্ড হয়ে ফেরা সোহান করেন ১০ বলে ৫ রান।

৫৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংস মেরামত করতে সংগ্রাম করেছেন তাওহিদ হৃদয়। তবে, টি-টোয়েন্টিসুলভ ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। ২৫ বলে মাত্র ২ চারে করেছেন ২৮ রান। পরের পথটুকু বোলাররা নিজেদের উজাড় করেছেন যতটা সম্ভব। ২৭ বলে তিনটি চার ও এক ছক্কায় ৩৩ রান আসে তানজিম হাসান সাকিবের ব্যাট থেকে। যা ইনিংসের বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। নাসুম আহমেদ তিনটি চার ও এক ছক্কায় ১৩ বলে ২০ রান করেন। তবু, স্বাগতিকরা মাঠ ছেড়েছে পরাজিত হয়েই।

ক্যারিবীয়দের পক্ষে সিলস ও হোল্ডান নেন তিনটি করে উইকেট। দুই উইকেট পান আকিল হোসেন।

বোলিংয়ে পাওয়ার প্লেতে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে বাংলাদেশের বোলাররা। প্রথম ৬ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোন উইকেট না হারিয়ে ৩৫ রান করে। টাইগারদের প্রথম সাফল্য এনে দেন রিশাদ হোসেন। তার লেগস্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হন উইন্ডিজ ওপেনার অ্যালিক আথানেজ। ২৭ বলে ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ৩৪ করেন আথানেজ। ৫৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারীরা।

ওপেনার আতানেজকে হারালেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগোচ্ছিল ঠিকঠাক। বেশিদূর যেতে দেননি তাসকিন আহমেদ। পরপর দুই বলে প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটারকে ফেরান বাংলাদেশি পেসার তাসকিন আহমেদ। আরেক ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংকে তানজিম সাকিবের ক্যাচ বানান তাসকিন। ১৩তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেওয়া কিং ৩৬ বলে ৩৩ করেন। পরের বলে শেরফান রাদারফোর্ডকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন তাসকিন। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই রানের খাতা খোলার আগে বিদায় নেন রাদারফোর্ড। ৮২ রানে তিন উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।

পরের পথটুকু দলকে টেনে নেন শাই হোপ ও রভম্যান পাওয়েল। চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৮৩ রানের জুটি গড়নে দুজন। ক্যারিবীয় অধিনায়ক হোপ একটি চার ও চারটি ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ৪৬ রানে। তুলে নেন হোপ। একটি চার ও চারটি ছক্কায় পাওয়েল অপরাজিত ২৮ বলে ৪৪ রানে। এরমধ্যে তানজিম সাকিবের করা শেষ ওভারে তিনটি ছক্কাসহ তোলেন ২২ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন দুটি এবং রিশাদ হোসেন নেন এক উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ২০ ওভারে ১৬৫/৩ (আথানেজ ৩৪, কিং ৩৩, হোপ ৪৬*, রাদারফোর্ড ০, পাওয়েল ৪৪*; নাসুম ৪-০-১৫-০, তাসকিন ৪-০-৩৬-২, সাকিব ৪-০- ৪৭-০, মুস্তাফিজ ৪-০-২৪-০, রিশাদ ৪-০-৪০-১)

বাংলাদেশ : ১৯.৪ ওভারে ১৪৯/১০ (সাইফ ৮, তামিম ১৫, লিটন ৫, হৃদয় ২৮, শামীম ১, সোহান ৫, সাকিব ৩৩, নাসুম ২০, রিশাদ ৬, তাসকিন ১০, মুস্তাফিজ ১১*; আকিল ৪-০-২২-২, সিলস ৪-০-৩২-৩, পিয়েরে ৪-০-৩৩-১, হোল্ডার ৪-০-৩১-৩, শেফার্ড ৩.৪-০-২৯-১)

ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৬ রানে জয়ী।

টেস্টে অধিনায়কত্ব করা যে কোন ক্রিকেটারের অনেক বড় পাওয়া : লিটন দাস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

হার দিয়ে শুরু টি টোয়েন্টি সিরিজ

আপডেট সময় ১০:২৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

তাসকিন ছক্কা মেরেছিলেন ঠিকই। কিন্তু তা স্কোরবোর্ডে যোগ হয়নি। উল্টো তিনি আউট হলেন। কারণ, ছক্কা মারার আগে নিজের পায়ে স্ট্যাম্প ভেঙেছেন তাসকিন। হয়েছেন হিট উইকেটের শিকার। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর বোলাররা চেষ্টার কমতি রাখেননি। কিন্তু, শেষ হাসি হাসা হয়নি বাংলাদেশের। টি-টোয়েন্টিতে ছন্দে থাকা বাংলাদেশের তরী ডুবেছে হঠাৎ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ হেরেছে ১৬ রানে।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে। জবাবে ১৯.৪ ওভারে ১৪৯ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

রান তাড়ায় তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে ঝড়ো শুরু পায় স্বাগতিকরাও। কিন্তু, খেই হারায় খানিক বাদেই। জেইডেন সিলসকে মারতে গিয়ে মিড-অনে রোমারিও শেফার্ডের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন তামিম। বিদায়ের আগে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ৫ বলে ১৫ রান করেন তামিম।

তামিম বিদায় নিলে ফিরে যান অধিনায়ক লিটন দাসও। ৮ বলে ৫ রান করে আকিল হোসেনের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। ২৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদ বাড়ে বাংলাদেশের। দলের অন্যতম ভরসা সাইফ হাসানও আকিলের বলে শেফার্ডকে ক্যাচ দেন। ৭ বলে ৮ রান করেন তিনি। ৩৮ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।

শামীম হোসেন পাটোয়ারীও পারেননি প্রতিরোধ গড়তে। দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে জেসন হোল্ডারের বলে বোল্ড হন। ৪ বলে করেন ১ রান। ৪১ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ রীতিমতো খাদের কিনারে। ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করলেও নুরুল হাসান সোহনের উইকেট হারিয়ে যারপরনাই ধুঁকতে শুরু করে টাইগাররা। খারি পিয়েরের বলে বোল্ড হয়ে ফেরা সোহান করেন ১০ বলে ৫ রান।

৫৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংস মেরামত করতে সংগ্রাম করেছেন তাওহিদ হৃদয়। তবে, টি-টোয়েন্টিসুলভ ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। ২৫ বলে মাত্র ২ চারে করেছেন ২৮ রান। পরের পথটুকু বোলাররা নিজেদের উজাড় করেছেন যতটা সম্ভব। ২৭ বলে তিনটি চার ও এক ছক্কায় ৩৩ রান আসে তানজিম হাসান সাকিবের ব্যাট থেকে। যা ইনিংসের বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। নাসুম আহমেদ তিনটি চার ও এক ছক্কায় ১৩ বলে ২০ রান করেন। তবু, স্বাগতিকরা মাঠ ছেড়েছে পরাজিত হয়েই।

ক্যারিবীয়দের পক্ষে সিলস ও হোল্ডান নেন তিনটি করে উইকেট। দুই উইকেট পান আকিল হোসেন।

বোলিংয়ে পাওয়ার প্লেতে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে বাংলাদেশের বোলাররা। প্রথম ৬ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোন উইকেট না হারিয়ে ৩৫ রান করে। টাইগারদের প্রথম সাফল্য এনে দেন রিশাদ হোসেন। তার লেগস্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হন উইন্ডিজ ওপেনার অ্যালিক আথানেজ। ২৭ বলে ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ৩৪ করেন আথানেজ। ৫৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারীরা।

ওপেনার আতানেজকে হারালেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগোচ্ছিল ঠিকঠাক। বেশিদূর যেতে দেননি তাসকিন আহমেদ। পরপর দুই বলে প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটারকে ফেরান বাংলাদেশি পেসার তাসকিন আহমেদ। আরেক ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংকে তানজিম সাকিবের ক্যাচ বানান তাসকিন। ১৩তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেওয়া কিং ৩৬ বলে ৩৩ করেন। পরের বলে শেরফান রাদারফোর্ডকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন তাসকিন। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই রানের খাতা খোলার আগে বিদায় নেন রাদারফোর্ড। ৮২ রানে তিন উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।

পরের পথটুকু দলকে টেনে নেন শাই হোপ ও রভম্যান পাওয়েল। চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৮৩ রানের জুটি গড়নে দুজন। ক্যারিবীয় অধিনায়ক হোপ একটি চার ও চারটি ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ৪৬ রানে। তুলে নেন হোপ। একটি চার ও চারটি ছক্কায় পাওয়েল অপরাজিত ২৮ বলে ৪৪ রানে। এরমধ্যে তানজিম সাকিবের করা শেষ ওভারে তিনটি ছক্কাসহ তোলেন ২২ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন দুটি এবং রিশাদ হোসেন নেন এক উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ২০ ওভারে ১৬৫/৩ (আথানেজ ৩৪, কিং ৩৩, হোপ ৪৬*, রাদারফোর্ড ০, পাওয়েল ৪৪*; নাসুম ৪-০-১৫-০, তাসকিন ৪-০-৩৬-২, সাকিব ৪-০- ৪৭-০, মুস্তাফিজ ৪-০-২৪-০, রিশাদ ৪-০-৪০-১)

বাংলাদেশ : ১৯.৪ ওভারে ১৪৯/১০ (সাইফ ৮, তামিম ১৫, লিটন ৫, হৃদয় ২৮, শামীম ১, সোহান ৫, সাকিব ৩৩, নাসুম ২০, রিশাদ ৬, তাসকিন ১০, মুস্তাফিজ ১১*; আকিল ৪-০-২২-২, সিলস ৪-০-৩২-৩, পিয়েরে ৪-০-৩৩-১, হোল্ডার ৪-০-৩১-৩, শেফার্ড ৩.৪-০-২৯-১)

ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৬ রানে জয়ী।

টেস্টে অধিনায়কত্ব করা যে কোন ক্রিকেটারের অনেক বড় পাওয়া : লিটন দাস