নতুন পে-স্কেল প্রস্তুত, ঘোষণা যেকোনো সময়: মুখ্য সচিব

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং তা যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
মুখ্য সচিব বলেন, দীর্ঘ এগারো বছর ধরে বেতন কাঠামো হালনাগাদ না হওয়ায় প্রায় আঠারো লাখ সরকারি চাকরিজীবী ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে ভুগছেন। তিনি স্বীকার করেন যে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ জনগণের জন্য কিছুটা কষ্টদায়ক হতে পারে, তবু সরকারি কর্মীদের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সময়ে অর্থনীতিই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে সরকার।
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মুখ্য সচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অতীতে বিকল্প জ্বালানি উৎস তৈরিতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধানে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সরবরাহ ব্যবস্থা বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চ্যানেল গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে দেশের আমদানি নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় থাকা মন্ত্রিসভা রদবদলের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুখ্য সচিব বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এ নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
উল্লেখ্য, নতুন পে-স্কেল নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও দাবি-দাওয়া চলছিল। কল্যাণ সমিতিগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার নতুন করে বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা যায়। পাঁচ মন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য।
সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন এই বেতন কাঠামো সংশোধনের জন্য। মূল্যস্ফীতির চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেতনভুক্ত এই জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত হওয়ার এই ঘোষণা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ঠিক কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি মুখ্য সচিব। প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত সুখবর জানতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যেখানে জ্বালানি সরবরাহ বৈচিত্র্যকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূখণ্ড ঘোষণা ট্রাম্পের

১৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নতুন পে-স্কেল প্রস্তুত, ঘোষণা যেকোনো সময়: মুখ্য সচিব

আপডেট সময় ০১:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং তা যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
মুখ্য সচিব বলেন, দীর্ঘ এগারো বছর ধরে বেতন কাঠামো হালনাগাদ না হওয়ায় প্রায় আঠারো লাখ সরকারি চাকরিজীবী ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে ভুগছেন। তিনি স্বীকার করেন যে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ জনগণের জন্য কিছুটা কষ্টদায়ক হতে পারে, তবু সরকারি কর্মীদের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সময়ে অর্থনীতিই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে সরকার।
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মুখ্য সচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অতীতে বিকল্প জ্বালানি উৎস তৈরিতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধানে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সরবরাহ ব্যবস্থা বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চ্যানেল গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে দেশের আমদানি নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় থাকা মন্ত্রিসভা রদবদলের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুখ্য সচিব বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এ নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
উল্লেখ্য, নতুন পে-স্কেল নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও দাবি-দাওয়া চলছিল। কল্যাণ সমিতিগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার নতুন করে বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা যায়। পাঁচ মন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য।
সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন এই বেতন কাঠামো সংশোধনের জন্য। মূল্যস্ফীতির চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেতনভুক্ত এই জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত হওয়ার এই ঘোষণা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ঠিক কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি মুখ্য সচিব। প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত সুখবর জানতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যেখানে জ্বালানি সরবরাহ বৈচিত্র্যকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card