স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আইজিপি আলী হোসেন ফকির জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। তিনি বলেন, “আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কিছু আলোচনা করেছি। সেখানে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সমন্বয় সেল গঠন, বিভিন্ন জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইজিপি আরও বলেন, দেশজুড়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আমরা শিগগিরই সেটা দিয়ে দেব।”
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি পৃথক সমন্বয় সেল গঠনের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগেও একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বারবার উঠে এসেছে এসব আলোচনায়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরপরই মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র হাতে পেলে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন সহজ হবে। পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থাও করা যাবে। এ কারণেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন চেয়েছে কমিশন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা যেন ভোটের পরিবেশে কোনো প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই ধরনের প্রাক-নির্বাচনী বৈঠকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















