শিরোনাম :

চলন্ত ট্রেনে পাথর: দায়ী কারা, সমাধান কী

বাংলাদেশে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা কমছে না। এতে যাত্রীরা দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন, হাড় ভাঙছে, এমনকি প্রাণহানিও ঘটছে। রেলওয়ে পুলিশের ভাষ্যমতে, এসব ঘটনার সিংহভাগে জড়িত স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোররা। তবে সড়কপথে যাত্রী বাড়াতে কিছু পরিবহন ব্যবসায়ী লোক ভাড়া করে পাথর ছোড়াচ্ছেন—এমন অভিযোগও পুলিশের কাছে এসেছে।
রেলওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজি জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টিকে নিছক ছেলেমানুষি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রথমবার কোনো শিশু ধরা পড়লে অভিভাবককে ডেকে মুচলেকা নেওয়া হবে; একই ঘটনা ফের ঘটলে অভিভাবকের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো সিরাজগঞ্জে দ্রুতযান এক্সপ্রেসে ছোড়া পাথরে ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেনের ডান চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়া। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার চোখের নিচের হাড় ভেঙেছে এবং দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই। এর আগে পারাবত এক্সপ্রেসে এক শিশু যাত্রীর পেটে পাথরের আঘাত লাগে, একই ট্রেনে আঘাত পান এক চিকিৎসকও। চট্টগ্রামের শাটল ট্রেনে লোকোমাস্টার মাথায় আঘাত পান, আর কক্সবাজার এক্সপ্রেসে দুই যাত্রীর একজনের দাঁত ভেঙে যায়।
পাথর নিক্ষেপের ঘটনার কোনো কেন্দ্রীয় ও যাচাইকৃত তথ্যভান্ডার না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন। রেলওয়ে সূত্র বলছে, গত এক বছরে অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন, আর গত পাঁচ বছরে প্রায় দুই হাজার ট্রেনে পাথর ছোড়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, গত এক দশকে অন্তত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এই কারণে।
জিল্লুর রহমান জানান, ১২ বছরের কম বয়সীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুযোগ সীমিত, তবে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে শিশু আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও মসজিদে চলছে সচেতনতামূলক প্রচারণা।
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান মনে করেন, বিষয়টিকে শুধু অসচেতনতা হিসেবে না দেখে কোনো গোষ্ঠী রেলকে অজনপ্রিয় করতে চাইছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথে দূরবর্তী দৃশ্য ধারণে সক্ষম ক্যামেরা বসানোর পরামর্শ দেন।
এদিকে দেশের প্রায় ৫০০ যাত্রীবাহী ট্রেনের বিপরীতে রেলওয়ে পুলিশের জনবল মাত্র ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০, যেখানে প্রয়োজন অন্তত ৫ হাজার। ফলে অর্ধেক ট্রেনে নিরাপত্তা মোতায়েন করাই এখন সম্ভব হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার, শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

০১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

চলন্ত ট্রেনে পাথর: দায়ী কারা, সমাধান কী

আপডেট সময় ০৬:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা কমছে না। এতে যাত্রীরা দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন, হাড় ভাঙছে, এমনকি প্রাণহানিও ঘটছে। রেলওয়ে পুলিশের ভাষ্যমতে, এসব ঘটনার সিংহভাগে জড়িত স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোররা। তবে সড়কপথে যাত্রী বাড়াতে কিছু পরিবহন ব্যবসায়ী লোক ভাড়া করে পাথর ছোড়াচ্ছেন—এমন অভিযোগও পুলিশের কাছে এসেছে।
রেলওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজি জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টিকে নিছক ছেলেমানুষি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রথমবার কোনো শিশু ধরা পড়লে অভিভাবককে ডেকে মুচলেকা নেওয়া হবে; একই ঘটনা ফের ঘটলে অভিভাবকের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো সিরাজগঞ্জে দ্রুতযান এক্সপ্রেসে ছোড়া পাথরে ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেনের ডান চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়া। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার চোখের নিচের হাড় ভেঙেছে এবং দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই। এর আগে পারাবত এক্সপ্রেসে এক শিশু যাত্রীর পেটে পাথরের আঘাত লাগে, একই ট্রেনে আঘাত পান এক চিকিৎসকও। চট্টগ্রামের শাটল ট্রেনে লোকোমাস্টার মাথায় আঘাত পান, আর কক্সবাজার এক্সপ্রেসে দুই যাত্রীর একজনের দাঁত ভেঙে যায়।
পাথর নিক্ষেপের ঘটনার কোনো কেন্দ্রীয় ও যাচাইকৃত তথ্যভান্ডার না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন। রেলওয়ে সূত্র বলছে, গত এক বছরে অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন, আর গত পাঁচ বছরে প্রায় দুই হাজার ট্রেনে পাথর ছোড়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, গত এক দশকে অন্তত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এই কারণে।
জিল্লুর রহমান জানান, ১২ বছরের কম বয়সীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুযোগ সীমিত, তবে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে শিশু আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও মসজিদে চলছে সচেতনতামূলক প্রচারণা।
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান মনে করেন, বিষয়টিকে শুধু অসচেতনতা হিসেবে না দেখে কোনো গোষ্ঠী রেলকে অজনপ্রিয় করতে চাইছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথে দূরবর্তী দৃশ্য ধারণে সক্ষম ক্যামেরা বসানোর পরামর্শ দেন।
এদিকে দেশের প্রায় ৫০০ যাত্রীবাহী ট্রেনের বিপরীতে রেলওয়ে পুলিশের জনবল মাত্র ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০, যেখানে প্রয়োজন অন্তত ৫ হাজার। ফলে অর্ধেক ট্রেনে নিরাপত্তা মোতায়েন করাই এখন সম্ভব হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card