শিরোনাম :
দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেন ট্রাম্প, এবার কী হবে? পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো ডিসেম্বরে, বেতন জানুয়ারিতে মুস্তাফিজের বিগ ব্যাশ অভিষেক: ডাক দিল মেলবোর্ন রেনেগেডস গাজীপুরে সংঘর্ষের মাঝে পড়ে তৌফিকের মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন ‘আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি’: আসিফ মজুরি বোর্ডের বৈঠকের দিনেও গাজীপুরে সংঘর্ষ, আন্দোলনের মধ্যে শ্রমিকের মৃত্যু মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, কংগ্রেসে ট্রাম্পের আধিপত্যে ভাঙন এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন কিশোর ইয়ামাল হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সব সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি রাস্তার আন্দোলনের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই, অপচেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজীপুরে সংঘর্ষের মাঝে পড়ে তৌফিকের মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন গার্মেন্টসকর্মী মো. তৌফিক হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে কারা, কেন মারধর করেছে, তা নিয়ে এখন পাওয়া যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য।

প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, আন্দোলনের সময় হামলার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণের চেষ্টা করায় বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের হাতে মারধরের শিকার হন তৌফিক। সেই দাবি অনুযায়ী, সোমবার হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক পেটায়। আহত অবস্থায় আন্দোলনরত শ্রমিকরাই তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নেওয়া হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিনশিন জাপান হাসপাতালে তিনি মারা যান।

তবে ঘটনার সময় তৌফিকের সঙ্গে থাকা সহকর্মী ও বন্ধু মো. সাব্বির হোসেন ভিন্ন কথা বলছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, একটি গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকের মারধরেই তৌফিকের মৃত্যু হয়েছে। ভিডিও ধারণের অভিযোগও তিনি নাকচ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তৌফিকের কাছে স্মার্টফোন ছিল না, সঙ্গে ছিল কেবল একটি বাটন ফোন।

সাব্বিরের বর্ণনায়, দুপুরে খাওয়ার পর কর্মস্থলে ফেরার পথে তাঁরা দুজন একটি গার্মেন্টসের সামনে পৌঁছে দেখেন, দুই পক্ষ পরস্পরের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, ওই কারখানার মালিক কিছু লোক রেখেছিলেন, যারা বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করছিল। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে তাঁরা দুজন মাঝখানে পড়ে যান। ধাওয়া খেয়ে বিক্ষোভকারীরা অন্যদিকে ছুটে গেলে সাব্বিরও রাস্তার ওপারে চলে যান। পেছনে ফিরে তিনি দেখেন, তৌফিক মাটিতে পড়ে আছেন। সাব্বিরের অভিযোগ, ভাড়া করা লোকেরাই তাঁকে মেরেছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও বলেছেন, আন্দোলনের সময় কারখানা পাহারা দিতে অনেক মালিক নিজেদের লোক এনেছিলেন। তাঁদের ধারণা, তাদের মারধরেই তৌফিকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এটি অনুমান, নিশ্চিত তথ্য নয়।

তৌফিক কে ছিলেন

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তিনি ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন; বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তা নিশ্চিত করেছে। বাবার মৃত্যুর পর পড়াশোনা ছেড়ে জীবিকার খোঁজে তিনি গাজীপুরে আসেন। এক বন্ধুর মাধ্যমে চাকরি পান লায়লা গার্মেন্টসে। থাকতেন বাংলাবাজার এলাকার ভাড়া বাসায়। গত কয়েক দিন ধরে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের নানা জায়গায় শ্রমিকদের যে আন্দোলন চলছিল, তাতে তিনি সক্রিয় ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেন ট্রাম্প, এবার কী হবে?

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাস্তার আন্দোলনের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই, অপচেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

০৩ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

গাজীপুরে সংঘর্ষের মাঝে পড়ে তৌফিকের মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন

আপডেট সময় ০১:৪২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন গার্মেন্টসকর্মী মো. তৌফিক হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে কারা, কেন মারধর করেছে, তা নিয়ে এখন পাওয়া যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য।

প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, আন্দোলনের সময় হামলার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণের চেষ্টা করায় বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের হাতে মারধরের শিকার হন তৌফিক। সেই দাবি অনুযায়ী, সোমবার হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক পেটায়। আহত অবস্থায় আন্দোলনরত শ্রমিকরাই তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নেওয়া হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিনশিন জাপান হাসপাতালে তিনি মারা যান।

তবে ঘটনার সময় তৌফিকের সঙ্গে থাকা সহকর্মী ও বন্ধু মো. সাব্বির হোসেন ভিন্ন কথা বলছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, একটি গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকের মারধরেই তৌফিকের মৃত্যু হয়েছে। ভিডিও ধারণের অভিযোগও তিনি নাকচ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তৌফিকের কাছে স্মার্টফোন ছিল না, সঙ্গে ছিল কেবল একটি বাটন ফোন।

সাব্বিরের বর্ণনায়, দুপুরে খাওয়ার পর কর্মস্থলে ফেরার পথে তাঁরা দুজন একটি গার্মেন্টসের সামনে পৌঁছে দেখেন, দুই পক্ষ পরস্পরের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, ওই কারখানার মালিক কিছু লোক রেখেছিলেন, যারা বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করছিল। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে তাঁরা দুজন মাঝখানে পড়ে যান। ধাওয়া খেয়ে বিক্ষোভকারীরা অন্যদিকে ছুটে গেলে সাব্বিরও রাস্তার ওপারে চলে যান। পেছনে ফিরে তিনি দেখেন, তৌফিক মাটিতে পড়ে আছেন। সাব্বিরের অভিযোগ, ভাড়া করা লোকেরাই তাঁকে মেরেছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও বলেছেন, আন্দোলনের সময় কারখানা পাহারা দিতে অনেক মালিক নিজেদের লোক এনেছিলেন। তাঁদের ধারণা, তাদের মারধরেই তৌফিকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এটি অনুমান, নিশ্চিত তথ্য নয়।

তৌফিক কে ছিলেন

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তিনি ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন; বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তা নিশ্চিত করেছে। বাবার মৃত্যুর পর পড়াশোনা ছেড়ে জীবিকার খোঁজে তিনি গাজীপুরে আসেন। এক বন্ধুর মাধ্যমে চাকরি পান লায়লা গার্মেন্টসে। থাকতেন বাংলাবাজার এলাকার ভাড়া বাসায়। গত কয়েক দিন ধরে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের নানা জায়গায় শ্রমিকদের যে আন্দোলন চলছিল, তাতে তিনি সক্রিয় ছিলেন।

Share this news as a Photo Card