গত ১৪ জুন থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। ভর্তির মাত্র দুই দিনের মাথায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হয়। প্রায় এক মাস ধরে তাঁর হাতে হাতকড়া বাঁধা অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, গলায় নল আর নাকে পাইপ লাগানো অবস্থায় শুয়ে থাকা মিজানুরের হাতে মোটা দড়িসহ হাতকড়া, যদিও একই হাতের আঙুলে অক্সিমিটার লাগানো। মিজানুরের মা জানিয়েছেন, ভর্তির পর দুদিনেই ছেলে মাকে চিনতে পারা বন্ধ করে দেন এবং তাঁর শরীর পুরোপুরি অবশ হয়ে গেছে। স্ত্রী সালমা জাহান বলেন, গত সপ্তাহে চিকিৎসকেরা অবস্থা সংকটাপন্ন জানানোর পরই কেবল পুলিশ হাতকড়া খুলতে রাজি হয়।
মিজানুর রহমান খুন ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলার আসামি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পটুয়াখালী জেলা কমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। এ মাসের শুরুতে কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে একাধিক হাসপাতাল ঘুরিয়ে শেষে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে আনা হয়। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত আটটি মামলায় জামিন পেলেও অসুস্থ অবস্থাতেই আরেকটি মামলায় তাঁকে আদালতে তলব করা হয়েছিল।
আইসিইউর দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই রোগীর পালানোর মতো শারীরিক সামর্থ্যই নেই এবং হাতকড়ার কারণে ক্যানুলা লাগানোসহ চিকিৎসা কার্যক্রমে সমস্যা হয়েছে। তাঁরা একে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বলছেন, ঊর্ধ্বতন নির্দেশ ছাড়া হাতকড়া খোলার এখতিয়ার তাঁদের নেই।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেছেন, চিকিৎসকেরা আপত্তি জানালে হাতকড়া খুলে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কিছু বাস্তব জটিলতা এখনও রয়ে গেছে। তিনি স্বীকার করেছেন, অসুস্থ কোনো ব্যক্তির হাতে হাতকড়া থাকা কারও কাম্য নয়, তবে হাতকড়ার ব্যবহার নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা তৈরি হয়নি।
উল্লেখ্য, চিকিৎসাধীন বন্দীদের হাতকড়া বা ডান্ডাবেড়ি পরানো নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গত বছর সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের হাতকড়া পরা অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু নিয়েও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। ২০১৮ সালে হাইকোর্ট হাতকড়া প্রয়োগে আইনের অপব্যবহার না করার নির্দেশ দিলেও, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে এই চর্চা থামছে না। বেঙ্গল পুলিশ রেগুলেশন অনুযায়ী পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে যতটুকু প্রয়োজন, তার বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ নিষিদ্ধ।
চিকিৎসকেরা বলছেন, বিশেষত আইসিইউতে থাকা মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রে হাতকড়া ব্যবহারের সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 






















