যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণেচ্ছু বহু মানুষের জন্য নতুন এক শর্ত এবার স্থায়ী রূপ নিতে চলেছে। ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসায় দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের এখন থেকে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের এক ফেরতযোগ্য জামানত, যার পোশাকি নাম ‘ভিসা বন্ড’। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই জামানতের পরিমাণ হতে পারে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত। আগামী ৩ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বিধান কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা প্রভাব ফেলবে বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের ওপর।
স্থানীয় সময় গত শুক্রবার মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারে একটি অনলাইন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, যেখানে এই স্থায়ী সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত খসড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সূত্র ধরেই বিষয়টি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নতুন এই নিয়মে বি১ ক্যাটাগরির অর্থাৎ ব্যবসায়িক এবং বি২ ক্যাটাগরির অর্থাৎ পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেই এই জামানতের বিধান প্রযোজ্য হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় দূতাবাসের কনসুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদনের ধরন বিচার করে জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। এই অর্থের অঙ্ক হতে পারে ১০ হাজার, ১৫ হাজার কিংবা সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রতিটি আবেদনকারীর জন্য একই অঙ্কের জামানত বাধ্যতামূলক নয়, বরং পরিস্থিতি বুঝে এই সিদ্ধান্ত নেবেন কর্মকর্তারা।
মূলত এই ব্যবস্থাটি একেবারে নতুন নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় গত বছরের আগস্ট মাসে এক বছর মেয়াদি একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হিসেবে এটি চালু করা হয়েছিল। সেই পাইলট প্রকল্পের ফলাফলকে সফল বলে বিবেচনা করেই এখন একে স্থায়ী রূপ দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে জামানতের সর্বনিম্ন পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ডলার। তবে নতুন স্থায়ী বিধানে সেই নিম্নসীমা তুলে দিয়ে সর্বনিম্ন অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ সার্বিকভাবে জামানতের বোঝা আগের চেয়ে আরও বেড়েছে বলা যায়।
তালিকাভুক্ত ৫০টি দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, এর মধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশ আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরও অনেকে অবৈধভাবে দেশটিতে থেকে যান, প্রচলিত ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ভিসা ওভারস্টে’। এই প্রবণতা রোধ করাই মূল লক্ষ্য বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ।
প্রশাসনের ভাষ্যমতে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের প্রাথমিক ফলাফলেই ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা গেছে। যেসব দেশের নাগরিকদের ওপর এই শর্ত প্রয়োগ হয়েছিল, তাদের মধ্যে নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থানের হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে এসেছে। এই পরিসংখ্যানকেই মূল যুক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে নিয়মটি এবার স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও কম নেই। যদিও জমা দেওয়া এই অর্থ শেষ পর্যন্ত ফেরতযোগ্য, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত ও মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবীরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, বিপুল অঙ্কের এই আর্থিক শর্ত অপেক্ষাকৃত দরিদ্র অঞ্চলের বৈধ ও প্রকৃত ভ্রমণকারীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। সামর্থ্যের অভাবে অনেকেই হয়তো বৈধ কারণেও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ইচ্ছা থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হবেন, যা মানবাধিকারকর্মীদের মতে একধরনের অপ্রত্যক্ষ বৈষম্য তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের নামে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নীতি একদিকে যেমন প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সফলতার দাবি রাখছে, অন্যদিকে তেমনি প্রশ্ন তুলছে বৈশ্বিক ভ্রমণ ন্যায্যতা নিয়েও। আগামী ৩ আগস্ট থেকে এই বিধান কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবে এর প্রভাব ঠিক কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট সবার।
শিরোনাম :
৫০ দেশের নাগরিকদের জন্য স্থায়ী হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড নিয়ম
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০২:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- 6
ট্যাগস
কার্যকর ৩ আগস্ট থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসায় ৫০ দেশের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলারের ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ড
জনপ্রিয় সংবাদ
















