শিরোনাম :

পাঁচ আগস্টের নেপথ্য কাহিনি জানালেন মির্জা ফখরুল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেদিন সকালে তিনি নিজ বাসভবনেই ছিলেন এবং আগে থেকেই ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ধারাবাহিকভাবে চলছিল। বেলা বারোটার দিকে তৎকালীন সেনাপ্রধান তাঁকে টেলিফোনে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে চান তিনি। এরপর গাড়ি পাঠিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সেনাসদরে নিয়ে যাওয়া হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, সেনাসদরে পৌঁছে তিনি দেখতে পান জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের নেতারা আগেই উপস্থিত। আলোচনায় সাংগঠনিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার প্রস্তাব ওঠে, যদিও প্রাথমিকভাবে জাতীয় সরকার গঠনের কথাও আলোচনায় এসেছিল। তবে দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে আগেই আলাপ করে তাঁরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে মত দেন। সেনাপ্রধানের ভূমিকাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে নিতে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর আসার মুহূর্তটিকে দীর্ঘ সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে প্রায় অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা বলে অভিহিত করেন তিনি।
পরে বঙ্গভবনে যাওয়ার পথে জনতার ঢল ঠেলে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন একজন আইন বিশেষজ্ঞ। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের প্রশ্নে অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নাম ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত হয়েছিল বলে তিনি নিশ্চিত করেন, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে নয়।
আন্দোলনের কর্মসূচি এক দিন এগিয়ে আনার পেছনে নিজেদের ভূমিকা স্বীকার করে মির্জা ফখরুল জানান, কর্মসূচি পিছিয়ে দিলে তা ব্যর্থ হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন তিনি। আন্দোলনের সময় ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়মিত রাত-দিন যোগাযোগ রাখার কথাও জানান তিনি, পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গেও গোপনে বৈঠক অব্যাহত ছিল বলে উল্লেখ করেন।
গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন ফ্যাসিবাদবিরোধী গণজাগরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুযোগ তৈরি হওয়াকে। তবে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থা রাতারাতি বদলানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি হতাশা প্রকাশ করলেও দাবি করেন, দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিরলসভাবে প্রশাসনিক সংস্কারে কাজ করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি এই সরকারের সাফল্য। সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও দলটি ভিন্ন কৌশলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশে দক্ষিণপন্থী উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে, যাতে আওয়ামী লীগ ও উগ্রপন্থীদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। সবশেষে জাতীয় রাজনীতিতে পারস্পরিক সহনশীলতা ও পুনর্মিলনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে সবাই মিলে এগিয়ে গেলেই কেবল একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

০১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পাঁচ আগস্টের নেপথ্য কাহিনি জানালেন মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ১১:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেদিন সকালে তিনি নিজ বাসভবনেই ছিলেন এবং আগে থেকেই ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ধারাবাহিকভাবে চলছিল। বেলা বারোটার দিকে তৎকালীন সেনাপ্রধান তাঁকে টেলিফোনে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে চান তিনি। এরপর গাড়ি পাঠিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সেনাসদরে নিয়ে যাওয়া হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, সেনাসদরে পৌঁছে তিনি দেখতে পান জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের নেতারা আগেই উপস্থিত। আলোচনায় সাংগঠনিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার প্রস্তাব ওঠে, যদিও প্রাথমিকভাবে জাতীয় সরকার গঠনের কথাও আলোচনায় এসেছিল। তবে দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে আগেই আলাপ করে তাঁরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে মত দেন। সেনাপ্রধানের ভূমিকাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে নিতে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর আসার মুহূর্তটিকে দীর্ঘ সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে প্রায় অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা বলে অভিহিত করেন তিনি।
পরে বঙ্গভবনে যাওয়ার পথে জনতার ঢল ঠেলে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন একজন আইন বিশেষজ্ঞ। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের প্রশ্নে অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নাম ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত হয়েছিল বলে তিনি নিশ্চিত করেন, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে নয়।
আন্দোলনের কর্মসূচি এক দিন এগিয়ে আনার পেছনে নিজেদের ভূমিকা স্বীকার করে মির্জা ফখরুল জানান, কর্মসূচি পিছিয়ে দিলে তা ব্যর্থ হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন তিনি। আন্দোলনের সময় ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়মিত রাত-দিন যোগাযোগ রাখার কথাও জানান তিনি, পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গেও গোপনে বৈঠক অব্যাহত ছিল বলে উল্লেখ করেন।
গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন ফ্যাসিবাদবিরোধী গণজাগরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুযোগ তৈরি হওয়াকে। তবে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থা রাতারাতি বদলানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি হতাশা প্রকাশ করলেও দাবি করেন, দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিরলসভাবে প্রশাসনিক সংস্কারে কাজ করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি এই সরকারের সাফল্য। সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও দলটি ভিন্ন কৌশলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশে দক্ষিণপন্থী উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে, যাতে আওয়ামী লীগ ও উগ্রপন্থীদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। সবশেষে জাতীয় রাজনীতিতে পারস্পরিক সহনশীলতা ও পুনর্মিলনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে সবাই মিলে এগিয়ে গেলেই কেবল একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

Share this news as a Photo Card