শিরোনাম :
স্থানীয় নির্বাচনে সেনা নয়, দিনক্ষণ অনেক ‘ফ্যাক্টরের’ ওপর নির্ভর করছে: সিইসি মেয়েদের উপবৃত্তি পুনর্বহাল নিয়ে সমীক্ষার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চালু হলো ‘ঘুষ.সাইট’–দুই দিনে ৮০৪ অভিযোগে ঘুষের অঙ্ক ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা তিন শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ, ৬১ হাজার শ্রমিকের চাকরিহীনতা রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ, যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড ১০ জন খালাস আট অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি সার্ক শক্তিশালী করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুঠোফোনে অবৈধ ঋণ অ্যাপের ভয়ংকর ফাঁদ ইয়াবা সেবনে বাধা একে একে চারজনকে হত্যা: পুলিশ

তালের পিঠা-পুলি খেয়ে বুক জ্বালা? হজমের সমস্যা এড়ানোর সহজ উপায়

ভাদ্র মাস মানেই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে তালের গন্ধ। গাছ থেকে পাকা তাল পেড়ে তার ক্বাথ বা রস বের করে তাতে চালের গুঁড়ো, ময়দা, গুড় বা নারকেল মিশিয়ে তৈরি হয় তালের বড়া, তালের পিঠা, তালের ক্ষীর কিংবা তালের মালপোয়ার মতো নানা মুখরোচক খাবার। গ্রামবাংলার পাশাপাশি শহরের বাজারেও এখন মৌসুমি এসব পদ পাওয়া যায় সহজেই। কিন্তু সমস্যা বাধে তখনই, যখন প্রিয় এই খাবার খাওয়ার পরপরই অনেকে বুক জ্বালাপোড়া বা পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তিতে ভোগেন।
তাল কি আসলেই ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাল নিজে থেকে মোটেও ক্ষতিকর ফল নয়; বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি-এর পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। পরিমিত পরিমাণে তালের রস খেলে তা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও ভূমিকা রাখে।
তাহলে সমস্যা হয় কেন?
মূল সমস্যাটা তাল নয়, বরং তা রান্নার পদ্ধতিতে। তালের ক্বাথের সঙ্গে গুড়, আটা বা ময়দা মিশিয়ে ডুবো তেলে ভেজে তৈরি করা বড়ায় থাকে অতিরিক্ত তেল ও চর্বি, যা হজমপ্রক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে ঠেলে দেয়। এ ছাড়া বেশি চিনি বা গুড়ের ব্যবহারও গ্যাস ও অ্যাসিডিটির অন্যতম কারণ। তালের কাঁচা রস ঠিকমতো জ্বাল না দিলে তার কষা ভাব থেকেও পেটে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার তালের ক্বাথ বেশ ভারী হওয়ায় তা হজম হতে সময় নেয়, তাই রাতে খেলে অস্বস্তি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
সমস্যা এড়াতে করণীয়
তালের রস বের করার পর তা অল্প আঁচে মিনিট দশেক ফুটিয়ে কষ ঝরিয়ে নিলে গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। ময়দার বদলে চালের গুঁড়ো বা সুজি এবং চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করা ভালো। ভাজার পর টিস্যু পেপার বা পাতলা কাপড়ে বড়া রেখে বাড়তি তেল ঝরিয়ে নিলেও উপকার মেলে। খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে ভাজাপোড়া তালের খাবার না খাওয়াই ভালো; বরং দুপুর বা বিকেলের দিকে খাওয়া নিরাপদ। একসঙ্গে অনেকগুলো বড়া না খেয়ে চার-পাঁচটির মধ্যে সীমিত রাখা উচিত। যাঁদের ঘন ঘন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তাঁরা ভাজা বড়ার বদলে তালের পিঠা বা তালের ক্ষীরের মতো তুলনামূলক হালকা পদ বেছে নিতে পারেন, কিংবা কম তেলে তালের রুটিও বানানো যায়।
মৌসুমি এই স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হয়ে একটু সতর্কতার সঙ্গে খেলেই তাল হয়ে উঠতে পারে নিরাপদ ও উপাদেয়— আর পেটের অস্বস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তাও কমে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

তালের পিঠা-পুলি খেয়ে বুক জ্বালা? হজমের সমস্যা এড়ানোর সহজ উপায়

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইয়াবা সেবনে বাধা একে একে চারজনকে হত্যা: পুলিশ

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

তালের পিঠা-পুলি খেয়ে বুক জ্বালা? হজমের সমস্যা এড়ানোর সহজ উপায়

আপডেট সময় ০৭:১৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ভাদ্র মাস মানেই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে তালের গন্ধ। গাছ থেকে পাকা তাল পেড়ে তার ক্বাথ বা রস বের করে তাতে চালের গুঁড়ো, ময়দা, গুড় বা নারকেল মিশিয়ে তৈরি হয় তালের বড়া, তালের পিঠা, তালের ক্ষীর কিংবা তালের মালপোয়ার মতো নানা মুখরোচক খাবার। গ্রামবাংলার পাশাপাশি শহরের বাজারেও এখন মৌসুমি এসব পদ পাওয়া যায় সহজেই। কিন্তু সমস্যা বাধে তখনই, যখন প্রিয় এই খাবার খাওয়ার পরপরই অনেকে বুক জ্বালাপোড়া বা পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তিতে ভোগেন।
তাল কি আসলেই ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাল নিজে থেকে মোটেও ক্ষতিকর ফল নয়; বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি-এর পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। পরিমিত পরিমাণে তালের রস খেলে তা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও ভূমিকা রাখে।
তাহলে সমস্যা হয় কেন?
মূল সমস্যাটা তাল নয়, বরং তা রান্নার পদ্ধতিতে। তালের ক্বাথের সঙ্গে গুড়, আটা বা ময়দা মিশিয়ে ডুবো তেলে ভেজে তৈরি করা বড়ায় থাকে অতিরিক্ত তেল ও চর্বি, যা হজমপ্রক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে ঠেলে দেয়। এ ছাড়া বেশি চিনি বা গুড়ের ব্যবহারও গ্যাস ও অ্যাসিডিটির অন্যতম কারণ। তালের কাঁচা রস ঠিকমতো জ্বাল না দিলে তার কষা ভাব থেকেও পেটে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার তালের ক্বাথ বেশ ভারী হওয়ায় তা হজম হতে সময় নেয়, তাই রাতে খেলে অস্বস্তি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
সমস্যা এড়াতে করণীয়
তালের রস বের করার পর তা অল্প আঁচে মিনিট দশেক ফুটিয়ে কষ ঝরিয়ে নিলে গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। ময়দার বদলে চালের গুঁড়ো বা সুজি এবং চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করা ভালো। ভাজার পর টিস্যু পেপার বা পাতলা কাপড়ে বড়া রেখে বাড়তি তেল ঝরিয়ে নিলেও উপকার মেলে। খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে ভাজাপোড়া তালের খাবার না খাওয়াই ভালো; বরং দুপুর বা বিকেলের দিকে খাওয়া নিরাপদ। একসঙ্গে অনেকগুলো বড়া না খেয়ে চার-পাঁচটির মধ্যে সীমিত রাখা উচিত। যাঁদের ঘন ঘন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তাঁরা ভাজা বড়ার বদলে তালের পিঠা বা তালের ক্ষীরের মতো তুলনামূলক হালকা পদ বেছে নিতে পারেন, কিংবা কম তেলে তালের রুটিও বানানো যায়।
মৌসুমি এই স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হয়ে একটু সতর্কতার সঙ্গে খেলেই তাল হয়ে উঠতে পারে নিরাপদ ও উপাদেয়— আর পেটের অস্বস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তাও কমে।

Share this news as a Photo Card