শিরোনাম :
মুস্তাফিজের বিগ ব্যাশ অভিষেক: ডাক দিল মেলবোর্ন রেনেগেডস গাজীপুরে সংঘর্ষের মাঝে পড়ে তৌফিকের মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন ‘আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি’: আসিফ মজুরি বোর্ডের বৈঠকের দিনেও গাজীপুরে সংঘর্ষ, আন্দোলনের মধ্যে শ্রমিকের মৃত্যু মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, কংগ্রেসে ট্রাম্পের আধিপত্যে ভাঙন এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন কিশোর ইয়ামাল হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সব সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি রাস্তার আন্দোলনের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই, অপচেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সৌদিতে হুথি হামলার শঙ্কায় আক্রান্ত এশিয়ান কাপ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, কংগ্রেসে ট্রাম্পের আধিপত্যে ভাঙন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করেছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। একই সঙ্গে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে দলটি। এর ফলে ওয়াশিংটনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙার পথ খুলে গেল।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) আল জাজিরার নির্বাচনি ফলাফলের লাইভ ট্র্যাকারে এই সর্বশেষ চিত্র উঠে এসেছে। ট্র্যাকার অনুযায়ী, ১০০ আসনের সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৫২টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। রিপাবলিকানদের ঝুলিতে এখন পর্যন্ত জমা পড়েছে ৪০টি আসন। বাকি আসনগুলোর গণনা বা ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষা চলছে।

সিনেটের হিসাব

এ বছর সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। যেসব আসনে এবার নির্বাচন হয়নি, তার ৩৪টি ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত আর ৩১টি রিপাবলিকান-সমর্থিত। নিয়ন্ত্রণ পেতে কোনো দলকে অন্তত ৫১টি আসন নিশ্চিত করতে হয়। সকালের দিকে আল জাজিরার হালনাগাদ তথ্যেই দেখা গিয়েছিল, ডেমোক্র্যাটরা ৫১টি আসনে জয় পেয়েছে এবং আরও দুটিতে এগিয়ে আছে। তখন রিপাবলিকানদের জয় ছিল ৩৯টিতে, এগিয়ে ছিল ৬টিতে, আর একটি আসনের ফল তখনো বাকি ছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যা ৫২তে পৌঁছেছে।

ভোটগ্রহণ শেষের পর গণনার শুরুর দিকে প্রথম ফল আসে ভার্জিনিয়া থেকে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

জর্জিয়ায় অসফের জয়

জর্জিয়ার সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট জন অসফ। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে হারিয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। অসফ ২০২১ সাল থেকে সিনেটর। কলিন্স প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

জর্জিয়ার লড়াইটি এবার আলাদা করে নজর কেড়েছে। প্রচারের সময় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শের ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কলিন্স তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। অসফ তাঁর প্রচারে জোর দিয়েছিলেন জীবনযাত্রার ব্যয়সাশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারের জবাবদিহির ওপর।

সাউথ ক্যারোলাইনা ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্য

সিএনএনের ডিসিশন ডেস্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অন্তত দুটি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবে। তার একটি সাউথ ক্যারোলাইনায়। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ডার্লিন গ্রাহামকে হারাতে চলেছেন বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের চিত্র

প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই এবার ভোট হয়েছে। এখানে নিয়ন্ত্রণ পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসনে জিততে হয়।

আল জাজিরার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ১৮৪টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং আরও ৯৩টিতে এগিয়ে আছে। রিপাবলিকানদের জয় ১১০টি আসনে, এগিয়ে আছে ৫৮টিতে। ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন কার্যত আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়। এর আগের এক হালনাগাদে ছিল ভিন্ন চিত্র। তখন ডেমোক্র্যাটদের জয় ছিল ১০২টি আসনে, রিপাবলিকানদের ৬০টিতে, আর ৮৭টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি ছিল।

সিএনএনের ডিসিশন ডেস্কের পূর্বাভাস, নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ডেমোক্রেটিক পার্টির আগামী দুই বছরের বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের পথ তৈরি হলো।

ইতিহাসের নতুন পাতা

এবারের নির্বাচনে কয়েকটি ঐতিহাসিক ফলের পূর্বাভাসও এসেছে। সিএনএনের ডিসিশন ডেস্ক বলছে, জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হতে যাচ্ছেন। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য বায়রন ডোনাল্ডস পরবর্তী গভর্নর হতে চলেছেন। পূর্বাভাস সত্যি হলে তিনি হবেন ওই অঙ্গরাজ্যের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ শীর্ষ নেতা। এবার ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে।

মিশিগানের টুয়েলভথ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে পঞ্চমবারের মতো জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট রাশিদা তালিব। দেশটির ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ফিলিস্তিনি-আমেরিকান কংগ্রেস সদস্য। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপার ও গ্রিন পার্টির ব্রেন্ডা স্যান্ডার্সকে বিপুল ভোটে হারিয়েছেন।

গণনায় সময় লাগার কারণ

যুক্তরাষ্ট্রে সব অঙ্গরাজ্যে একসঙ্গে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হয় না। স্থানীয় সময় অনুযায়ী ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। কোনো কোনো অঙ্গরাজ্যে কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেশির ভাগ ভোটের গণনা হয়ে যায়। আবার কোথাও ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোটের ব্যালট গুনতে বেশি সময় লাগে। মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যে ফল জানতে দেরি হতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে বিজয়ী ঘোষণা করতেও সময় লাগে। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন লাগতে পারে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণের হিসাবে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও ও টেক্সাসের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আগেই ধারণা করা হচ্ছিল।

প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের দুই কক্ষই ছিল রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নীতি, অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার বিরুদ্ধে আমেরিকানদের ক্ষোভই সিনেটের এই বড় উলটপালটের কারণ। তাঁদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদের বাকি সময়ে আইনি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ওয়াশিংটনকে কংগ্রেসে বড় বাধার মুখে পড়তে হবে।

সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন, এপি ও সিবিসি নিউজ

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

মুস্তাফিজের বিগ ব্যাশ অভিষেক: ডাক দিল মেলবোর্ন রেনেগেডস

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সৌদিতে হুথি হামলার শঙ্কায় আক্রান্ত এশিয়ান কাপ

০৩ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, কংগ্রেসে ট্রাম্পের আধিপত্যে ভাঙন

আপডেট সময় ১১:৪৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করেছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। একই সঙ্গে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে দলটি। এর ফলে ওয়াশিংটনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙার পথ খুলে গেল।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) আল জাজিরার নির্বাচনি ফলাফলের লাইভ ট্র্যাকারে এই সর্বশেষ চিত্র উঠে এসেছে। ট্র্যাকার অনুযায়ী, ১০০ আসনের সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৫২টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। রিপাবলিকানদের ঝুলিতে এখন পর্যন্ত জমা পড়েছে ৪০টি আসন। বাকি আসনগুলোর গণনা বা ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষা চলছে।

সিনেটের হিসাব

এ বছর সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। যেসব আসনে এবার নির্বাচন হয়নি, তার ৩৪টি ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত আর ৩১টি রিপাবলিকান-সমর্থিত। নিয়ন্ত্রণ পেতে কোনো দলকে অন্তত ৫১টি আসন নিশ্চিত করতে হয়। সকালের দিকে আল জাজিরার হালনাগাদ তথ্যেই দেখা গিয়েছিল, ডেমোক্র্যাটরা ৫১টি আসনে জয় পেয়েছে এবং আরও দুটিতে এগিয়ে আছে। তখন রিপাবলিকানদের জয় ছিল ৩৯টিতে, এগিয়ে ছিল ৬টিতে, আর একটি আসনের ফল তখনো বাকি ছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যা ৫২তে পৌঁছেছে।

ভোটগ্রহণ শেষের পর গণনার শুরুর দিকে প্রথম ফল আসে ভার্জিনিয়া থেকে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

জর্জিয়ায় অসফের জয়

জর্জিয়ার সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট জন অসফ। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে হারিয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। অসফ ২০২১ সাল থেকে সিনেটর। কলিন্স প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

জর্জিয়ার লড়াইটি এবার আলাদা করে নজর কেড়েছে। প্রচারের সময় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শের ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কলিন্স তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। অসফ তাঁর প্রচারে জোর দিয়েছিলেন জীবনযাত্রার ব্যয়সাশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারের জবাবদিহির ওপর।

সাউথ ক্যারোলাইনা ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্য

সিএনএনের ডিসিশন ডেস্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অন্তত দুটি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবে। তার একটি সাউথ ক্যারোলাইনায়। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ডার্লিন গ্রাহামকে হারাতে চলেছেন বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের চিত্র

প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই এবার ভোট হয়েছে। এখানে নিয়ন্ত্রণ পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসনে জিততে হয়।

আল জাজিরার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ১৮৪টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং আরও ৯৩টিতে এগিয়ে আছে। রিপাবলিকানদের জয় ১১০টি আসনে, এগিয়ে আছে ৫৮টিতে। ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন কার্যত আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়। এর আগের এক হালনাগাদে ছিল ভিন্ন চিত্র। তখন ডেমোক্র্যাটদের জয় ছিল ১০২টি আসনে, রিপাবলিকানদের ৬০টিতে, আর ৮৭টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি ছিল।

সিএনএনের ডিসিশন ডেস্কের পূর্বাভাস, নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ডেমোক্রেটিক পার্টির আগামী দুই বছরের বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের পথ তৈরি হলো।

ইতিহাসের নতুন পাতা

এবারের নির্বাচনে কয়েকটি ঐতিহাসিক ফলের পূর্বাভাসও এসেছে। সিএনএনের ডিসিশন ডেস্ক বলছে, জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হতে যাচ্ছেন। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য বায়রন ডোনাল্ডস পরবর্তী গভর্নর হতে চলেছেন। পূর্বাভাস সত্যি হলে তিনি হবেন ওই অঙ্গরাজ্যের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ শীর্ষ নেতা। এবার ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে।

মিশিগানের টুয়েলভথ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে পঞ্চমবারের মতো জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট রাশিদা তালিব। দেশটির ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ফিলিস্তিনি-আমেরিকান কংগ্রেস সদস্য। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপার ও গ্রিন পার্টির ব্রেন্ডা স্যান্ডার্সকে বিপুল ভোটে হারিয়েছেন।

গণনায় সময় লাগার কারণ

যুক্তরাষ্ট্রে সব অঙ্গরাজ্যে একসঙ্গে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হয় না। স্থানীয় সময় অনুযায়ী ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। কোনো কোনো অঙ্গরাজ্যে কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেশির ভাগ ভোটের গণনা হয়ে যায়। আবার কোথাও ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোটের ব্যালট গুনতে বেশি সময় লাগে। মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যে ফল জানতে দেরি হতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে বিজয়ী ঘোষণা করতেও সময় লাগে। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন লাগতে পারে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণের হিসাবে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও ও টেক্সাসের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আগেই ধারণা করা হচ্ছিল।

প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের দুই কক্ষই ছিল রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নীতি, অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার বিরুদ্ধে আমেরিকানদের ক্ষোভই সিনেটের এই বড় উলটপালটের কারণ। তাঁদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদের বাকি সময়ে আইনি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ওয়াশিংটনকে কংগ্রেসে বড় বাধার মুখে পড়তে হবে।

সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন, এপি ও সিবিসি নিউজ

Share this news as a Photo Card