শিরোনাম :
নোবেল পুরস্কারের সূচনা ও প্রথম বিজয়ীদের গল্প শুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিতের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার পেল রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন সাংবাদিকদের ওপর হামলা; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি শিশুরা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির বিদায়ী ম্যাচ মঙ্গলবার রাতে, ২১ বছরের অধ্যায়ের ইতি সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনের জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর রক্তের সম্পর্ক নেই, তবু ৭৪ শিশুর ‘মা’ বিলকিছ বানু সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েন করবে তুরস্ক ও পাকিস্তান পথশিশু, ডেঙ্গু, ইউপি নির্বাচন ও ডিজেলের দাম—সমসাময়িক খবরের হালখাতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অর্থহীন: ইরান

নোবেল পুরস্কারের সূচনা ও প্রথম বিজয়ীদের গল্প

১০ ডিসেম্বর: নোবেল পুরস্কারের সূচনা ও প্রথম বিজয়ীদের গল্প

ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় জমে আছে জানা-অজানা অসংখ্য গল্প। কিছু গল্প মনে দাগ কেটে যায়, আবার অনেক গল্প থেকে যায় দৃষ্টির আড়ালে। ১০ ডিসেম্বর তারিখটি তেমনই এক দিন। ১৯০১ সালের এই দিনে প্রথমবারের মতো নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়, আর এর ঠিক পাঁচ বছর আগে, ১৮৯৬ সালের এই তারিখেই মারা যান পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেল।

ডিনামাইটের আবিষ্কারক থেকে পুরস্কারের প্রবর্তক

আলফ্রেড নোবেল ছিলেন সুইডেনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও শিল্পপতি। ডিনামাইট আবিষ্কারের জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তবে তাঁর পরিচয় শুধু এটুকুতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি কবিতা ও নাটকও লিখেছিলেন। শোনা যায়, মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি রুশ, ফরাসি, ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন।

জীবনের একটি বড় সময় তিনি কাটিয়েছেন অস্ত্রপ্রযুক্তির উন্নয়নে, আর সেখান থেকেই গড়েছেন বিপুল সম্পদ। শেষ বয়সে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন অস্ট্রিয়ান শান্তিকর্মী বার্থা ফন সুটনার। অনেকের বিশ্বাস, তাঁর প্রভাবেই নোবেল উইলে শান্তি পুরস্কারের কথা যুক্ত করেন। ১৯০৫ সালে বার্থা নিজেই শান্তিতে নোবেল পান এবং প্রথম নারী হিসেবে এই সম্মান অর্জন করেন।

উইলে নোবেল উল্লেখ করেন, তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে একটি তহবিল গড়া হবে। সেই তহবিল থেকে প্রতিবছর পুরস্কৃত করা হবে তাঁদের, যাঁরা মানবজাতির কল্যাণে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন। তবে উইল নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতা দেখা দেয়। সেসব কাটিয়ে ১৯০১ সালে প্রথমবারের মতো পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।

প্রথম আসরের বিজয়ীরা

শুরুতে পুরস্কার ছিল পাঁচটি শাখায়: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি। প্রথম আসরে শান্তিতে পুরস্কার পান রেড ক্রসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ডুনান্ট। চিকিৎসায় সম্মানিত হন এমিল ভন বেহরিং।

পরে এই তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোবেল ফাউন্ডেশনকে একটি অনুদান দেয় এবং ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার’ চালু করে। এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘ব্যাংক অব সুইডেন প্রাইস’। মূল পাঁচটি শাখার বাইরে হলেও এটি নোবেল পুরস্কার হিসেবেই বিবেচিত হয়।

কীভাবে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়

প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

প্রথম ধাপ মনোনয়ন। নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে পারেন। সাধারণ মানুষ নিজের পছন্দের কাউকে সরাসরি মনোনয়ন দিতে পারেন না।

দ্বিতীয় ধাপে প্রতিটি পুরস্কারের দায়িত্বে থাকা কমিটি মনোনীতদের কাজ ও অবদান যাচাই করে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়।

তৃতীয় ধাপে চূড়ান্ত নির্বাচন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিজয়ী ঠিক করে:

  • পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও অর্থনীতি: রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস
  • চিকিৎসা বা শারীরবিজ্ঞান: সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট
  • সাহিত্য: সুইডিশ একাডেমি
  • শান্তি: নরওয়ের নোবেল কমিটি

সাধারণত অক্টোবর মাসে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

পুরস্কার বিতরণের দিন

প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর, অর্থাৎ নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে, বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও অর্থনীতির অনুষ্ঠান হয় সুইডেনের স্টকহোম কনসার্ট হলে। সেখানে বিজয়ীরা পুরস্কার নেন সুইডেনের রাজার হাত থেকে। শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের রাজধানী অসলোতে, যেখানে নরওয়েজীয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

স্টকহোমের অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় সিটি হলে বসে জাঁকজমকপূর্ণ ভোজসভা। সেখানে প্রায় এক হাজার অতিথি উপস্থিত থাকেন। ভোজের তালিকা মাসখানেক নয়, কয়েক মাস আগে থেকে ঠিক করা হয়, তবে সবার কাছে গোপন রাখা হয়। অতিথিদের সামনে খাবার পরিবেশনের সময়ই তা প্রকাশ পায়। প্রায় ২০০ জন ওয়েটার এই আয়োজনে অংশ নেন।

শান্তি কেন নরওয়েতে

সব পুরস্কার সুইডেনে দেওয়া হলেও শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়েতে। নোবেল কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। ধারণা করা হয়, তিনি যখন উইল লিখেছিলেন, তখন নরওয়ে ও সুইডেন একই ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯০৫ সালে সেই ইউনিয়ন ভেঙে যায়।

একই দিনের আরেকটি ঘটনা

নোবেল পুরস্কারের বাইরেও ১০ ডিসেম্বরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা আছে। ১৮৬৮ সালের এই দিনে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদের সামনের সড়কে প্রথম চালু হয় ট্রাফিক বাতি।

 

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

“শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত”—এই প্রতিপাদ্যে সিরাজগঞ্জে শিশু দিবস উদযাপন 

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অর্থহীন: ইরান

০৬ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নোবেল পুরস্কারের সূচনা ও প্রথম বিজয়ীদের গল্প

আপডেট সময় ০৪:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

১০ ডিসেম্বর: নোবেল পুরস্কারের সূচনা ও প্রথম বিজয়ীদের গল্প

ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় জমে আছে জানা-অজানা অসংখ্য গল্প। কিছু গল্প মনে দাগ কেটে যায়, আবার অনেক গল্প থেকে যায় দৃষ্টির আড়ালে। ১০ ডিসেম্বর তারিখটি তেমনই এক দিন। ১৯০১ সালের এই দিনে প্রথমবারের মতো নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়, আর এর ঠিক পাঁচ বছর আগে, ১৮৯৬ সালের এই তারিখেই মারা যান পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেল।

ডিনামাইটের আবিষ্কারক থেকে পুরস্কারের প্রবর্তক

আলফ্রেড নোবেল ছিলেন সুইডেনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও শিল্পপতি। ডিনামাইট আবিষ্কারের জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তবে তাঁর পরিচয় শুধু এটুকুতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি কবিতা ও নাটকও লিখেছিলেন। শোনা যায়, মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি রুশ, ফরাসি, ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন।

জীবনের একটি বড় সময় তিনি কাটিয়েছেন অস্ত্রপ্রযুক্তির উন্নয়নে, আর সেখান থেকেই গড়েছেন বিপুল সম্পদ। শেষ বয়সে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন অস্ট্রিয়ান শান্তিকর্মী বার্থা ফন সুটনার। অনেকের বিশ্বাস, তাঁর প্রভাবেই নোবেল উইলে শান্তি পুরস্কারের কথা যুক্ত করেন। ১৯০৫ সালে বার্থা নিজেই শান্তিতে নোবেল পান এবং প্রথম নারী হিসেবে এই সম্মান অর্জন করেন।

উইলে নোবেল উল্লেখ করেন, তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে একটি তহবিল গড়া হবে। সেই তহবিল থেকে প্রতিবছর পুরস্কৃত করা হবে তাঁদের, যাঁরা মানবজাতির কল্যাণে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন। তবে উইল নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতা দেখা দেয়। সেসব কাটিয়ে ১৯০১ সালে প্রথমবারের মতো পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।

প্রথম আসরের বিজয়ীরা

শুরুতে পুরস্কার ছিল পাঁচটি শাখায়: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি। প্রথম আসরে শান্তিতে পুরস্কার পান রেড ক্রসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ডুনান্ট। চিকিৎসায় সম্মানিত হন এমিল ভন বেহরিং।

পরে এই তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোবেল ফাউন্ডেশনকে একটি অনুদান দেয় এবং ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার’ চালু করে। এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘ব্যাংক অব সুইডেন প্রাইস’। মূল পাঁচটি শাখার বাইরে হলেও এটি নোবেল পুরস্কার হিসেবেই বিবেচিত হয়।

কীভাবে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়

প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

প্রথম ধাপ মনোনয়ন। নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে পারেন। সাধারণ মানুষ নিজের পছন্দের কাউকে সরাসরি মনোনয়ন দিতে পারেন না।

দ্বিতীয় ধাপে প্রতিটি পুরস্কারের দায়িত্বে থাকা কমিটি মনোনীতদের কাজ ও অবদান যাচাই করে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়।

তৃতীয় ধাপে চূড়ান্ত নির্বাচন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিজয়ী ঠিক করে:

  • পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও অর্থনীতি: রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস
  • চিকিৎসা বা শারীরবিজ্ঞান: সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট
  • সাহিত্য: সুইডিশ একাডেমি
  • শান্তি: নরওয়ের নোবেল কমিটি

সাধারণত অক্টোবর মাসে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

পুরস্কার বিতরণের দিন

প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর, অর্থাৎ নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে, বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও অর্থনীতির অনুষ্ঠান হয় সুইডেনের স্টকহোম কনসার্ট হলে। সেখানে বিজয়ীরা পুরস্কার নেন সুইডেনের রাজার হাত থেকে। শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের রাজধানী অসলোতে, যেখানে নরওয়েজীয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

স্টকহোমের অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় সিটি হলে বসে জাঁকজমকপূর্ণ ভোজসভা। সেখানে প্রায় এক হাজার অতিথি উপস্থিত থাকেন। ভোজের তালিকা মাসখানেক নয়, কয়েক মাস আগে থেকে ঠিক করা হয়, তবে সবার কাছে গোপন রাখা হয়। অতিথিদের সামনে খাবার পরিবেশনের সময়ই তা প্রকাশ পায়। প্রায় ২০০ জন ওয়েটার এই আয়োজনে অংশ নেন।

শান্তি কেন নরওয়েতে

সব পুরস্কার সুইডেনে দেওয়া হলেও শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়েতে। নোবেল কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। ধারণা করা হয়, তিনি যখন উইল লিখেছিলেন, তখন নরওয়ে ও সুইডেন একই ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯০৫ সালে সেই ইউনিয়ন ভেঙে যায়।

একই দিনের আরেকটি ঘটনা

নোবেল পুরস্কারের বাইরেও ১০ ডিসেম্বরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা আছে। ১৮৬৮ সালের এই দিনে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদের সামনের সড়কে প্রথম চালু হয় ট্রাফিক বাতি।

 

Share this news as a Photo Card