মঙ্গলবার রাতে এস্তাদিও মাস মনুমেন্তালে বেনিনের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি প্রীতি হলেও সাধারণ নয়, কারণ লা আলবিসেলেস্তের জার্সিতে এটিই লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে ২১ বছর পর পড়ছে যবনিকা।
প্রজন্মের সেরা, এমনকি তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা বলা হয় যাঁকে, তাঁর বিদায় ঘিরে আগ্রহ থাকাই স্বাভাবিক। শুরুটা অবশ্য ছিল নাটকীয়। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ১৮ নম্বর জার্সি গায়ে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামেন মেসি। মাঠে নামার পর ভিলমোস ভানচাক তাঁর জার্সি টেনে ধরলে হাত পেছনে ছুড়তে গিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের গায়ে আঘাত করেন। ফলে সরাসরি লাল কার্ড, অভিষেক টিকেছিল মাত্র ৪৭ সেকেন্ড। ম্যাচটি আর্জেন্টিনা জিতেছিল ২-১ গোলে।
সেই শুরুর পর কেটেছে দুই দশকের বেশি সময়। ২০২২ সালে কাতারে ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০২১ ও ২০২৪ সালে মেসির হাত ধরেই দলটি কোপা আমেরিকার শিরোপা পায়। বিশ্বকাপে দুবার, ২০১৪ ও ২০২২ সালে, তিনি টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছেন।
তাঁর সঙ্গে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের তিনটি ফাইনালে উঠেছে। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে হারের পর ২০২২ সালে আসে শিরোপা। প্রতিবেদনের মূল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফাইনালে দলটি হেরেছে স্পেনের কাছে।
পরিসংখ্যানেও মেসি অনন্য। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলে তিনি পুরুষ ফুটবলারদের মধ্যে সর্বাধিক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাশে বসেছেন। বিশ্বকাপে তাঁর গোল ২১টি, এর সাতটি ২০২২ সালে, আর আটটি গত গ্রীষ্মের আসরে। জাতীয় দলের হয়ে মোট গোল ১২৫টি, যার ২৫টি এসেছে পেনাল্টি থেকে। এই তালিকায় তিনি দ্বিতীয়, শীর্ষে ১৪৬ গোল নিয়ে রোনালদো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও মেসির, তিনবার।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর হ্যাটট্রিক ১১টি। প্রথমটি ২০১২ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে, সর্বশেষটি ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। ২০২২ সালে এস্তোনিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচে করেছিলেন পাঁচ গোল। আর্জেন্টিনার পুরুষ দলের ইতিহাসে এমন কীর্তি আছে কেবল হুয়ান মারভেজ্জি (১৯৪১) ও হোসে মানুয়েল মোরেনোর (১৯৪২), দুজনেই ইকুয়েডরের বিপক্ষে।
বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামলে জাতীয় দলের হয়ে মেসির ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়াবে ২০৮টি।
ক্রীড়া প্রতিবেদক 




















