রক্তচাপজনিত সমস্যা এখন আর কেবল বয়স্কদের রোগ নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ দশটি রোগের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। চিকিৎসকদের ভাষ্যে, তরুণ ও কর্মজীবী নারীদের মধ্যে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। এর মধ্যে বিশ থেকে ত্রিশ বছর বয়সি নারীদের একটি বড় অংশ নিজেরাই জানেন না যে তাঁরা এই সমস্যায় ভুগছেন। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের অভাব, দুশ্চিন্তা আর শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন তাঁরা।
কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন
রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, চোখে অন্ধকার দেখা কিংবা হাত-পায়ের পেশিতে টান ধরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চ রক্তচাপকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়— প্রাইমারি বা এসেনশিয়াল এবং সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন। এর মধ্যে প্রাইমারি ধরনটিই বেশি দেখা যায়, যার নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ চিহ্নিত করা কঠিন। একজন সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ ধরা হয় ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি। এই মাত্রা ১৪০/৯০ ছাড়িয়ে গেলেই তাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নিয়ন্ত্রণের উপায় কী
চিকিৎসকদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাই প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ। শরীরের ওজন বাড়তে থাকলে রক্তচাপের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন তাঁরা। ভাজাপোড়া, প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরাও।
দ্রুত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শ্বাসের ব্যায়ামকেও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শান্ত হয়ে বসে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া, কিছুক্ষণ ধরে রাখা এবং আস্তে আস্তে ছেড়ে দেওয়ার এই পদ্ধতি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং হৃৎস্পন্দনের গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। প্রতিদিন তিন সেট করে এই অনুশীলন করলে উপকার পাওয়া যায় বলে জানান তাঁরা।
এ ছাড়া যোগব্যায়ামের কিছু মুদ্রা— যেমন প্রাণমুদ্রা ও অপানমুদ্রা— অনুশীলনের পরামর্শও দিচ্ছেন কেউ কেউ, যদিও এসব পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনও সীমিত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা হলো, উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সচেতন হলে এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা, যাতে সমস্যা জটিল আকার নেওয়ার আগেই তা শনাক্ত করা যায়।
শিরোনাম :
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ, নারীরাই কি বেশি ঝুঁকিতে?
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০১:৩০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- 4
জনপ্রিয় সংবাদ


























