শিরোনাম :
বস্তিবাসীদের ভাড়াবিহীন ফ্ল্যাট, বর্জ্য-বিদ্যুৎ, মোংলা বন্দরে— চীনের বিনিয়োগ কিশোররা দৈনিক সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে পারবে নেপালে হিমবাহ-বিপর্যয়ে লণ্ডভণ্ড উত্তরাঞ্চল, প্রাণহানি ছাড়াল ১৬০ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরুর আগে দলীয় এমপিদের বৈঠক চোখের সামনে ভেসে গেল পুরো পরিবার, নেপালে হাহাকার আইনশৃঙ্খলায় রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁদপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ হিন্দু পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ মৃত্যুর কারণ থেকে যৌন নির্যাতন, ফরেনসিক প্রতিবেদনে মিলল যেসব তথ্য হামের প্রকোপে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ সংস্কারে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ইউএনডিপি, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্যায়াম-স্বাস্থ্যকর খাবারেও রেহাই নেই, ঘুম কম হলেই ঝুঁকিতে হৃদযন্ত্র

সকালে হাঁটতে বের হওয়া, তেল-মশলা এড়িয়ে পাতে রাখা সবুজ শাকসবজি— নিয়ম মেনে সবই করছেন। কিন্তু তারপরও কি নিশ্চিত থাকা যায়, হৃদযন্ত্র সুস্থ আছে? চিকিৎসকদের মতে, উত্তরটা সব সময় হ্যাঁ নাও হতে পারে। কারণ, দিনভর যতই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলা হোক না কেন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে হৃৎপিণ্ড। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছেন ভারতের একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশুল কুমার জৈন। তাঁর ভাষায়, ঘুমের ঘাটতিকে অনেকেই সাধারণ বিষয় বলে এড়িয়ে যান, অথচ এটিই দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রক্তচাপে হেরফের
ঘুমের সময় সাধারণত হৃৎপিণ্ড বিশ্রাম নেয়। এই সময় রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে দশ থেকে বিশ শতাংশ কমে যায়, যাতে রক্তনালি শিথিল হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু ঘুম বারবার ভেঙে গেলে বা অসম্পূর্ণ থাকলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ যতটা কমা প্রয়োজন, ততটা কমে না। প্রতি রাতে এমনটা চলতে থাকলে হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়াই স্বাভাবিক।
মানসিক চাপের প্রভাব
নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এই হরমোনের আধিক্য হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
রক্তনালিতে প্রদাহের শঙ্কা
টানা কয়েক দিন ঘুম ঠিকমতো না হলে শরীরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই প্রদাহ রক্তনালির ক্ষতি করে এবং ধমনীতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এতে ধমনী সরু হয়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
বিপাকীয় স্বাস্থ্যেও আঘাত
ঘুমের ঘাটতি ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে হৃদযন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর। এ ছাড়া হজমপ্রক্রিয়া ও হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম যতটা জরুরি, ঠিক ততটাই প্রয়োজন প্রতি রাতে টানা ছয় থেকে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম। বাংলাদেশেও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে একই পরামর্শ দিয়ে আসছেন— জীবনযাপনে শৃঙ্খলা আনতে হলে খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার পাশাপাশি ঘুমের মানকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ভাঙা ভাঙা ঘুম কিংবা রাতে মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা বিশ্রাম— দুটোই দীর্ঘমেয়াদে নিঃশব্দে চাপ ফেলতে পারে হৃদযন্ত্রের ওপর। তাই শুধু খাদ্যতালিকা আর ব্যায়ামের রুটিনেই সীমাবদ্ধ না থেকে, ঘুমের সময়সূচি ঠিক রাখাকেও দৈনন্দিন স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

বস্তিবাসীদের ভাড়াবিহীন ফ্ল্যাট, বর্জ্য-বিদ্যুৎ, মোংলা বন্দরে— চীনের বিনিয়োগ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সংস্কারে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ইউএনডিপি, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ব্যায়াম-স্বাস্থ্যকর খাবারেও রেহাই নেই, ঘুম কম হলেই ঝুঁকিতে হৃদযন্ত্র

আপডেট সময় ০২:০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সকালে হাঁটতে বের হওয়া, তেল-মশলা এড়িয়ে পাতে রাখা সবুজ শাকসবজি— নিয়ম মেনে সবই করছেন। কিন্তু তারপরও কি নিশ্চিত থাকা যায়, হৃদযন্ত্র সুস্থ আছে? চিকিৎসকদের মতে, উত্তরটা সব সময় হ্যাঁ নাও হতে পারে। কারণ, দিনভর যতই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলা হোক না কেন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে হৃৎপিণ্ড। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছেন ভারতের একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশুল কুমার জৈন। তাঁর ভাষায়, ঘুমের ঘাটতিকে অনেকেই সাধারণ বিষয় বলে এড়িয়ে যান, অথচ এটিই দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রক্তচাপে হেরফের
ঘুমের সময় সাধারণত হৃৎপিণ্ড বিশ্রাম নেয়। এই সময় রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে দশ থেকে বিশ শতাংশ কমে যায়, যাতে রক্তনালি শিথিল হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু ঘুম বারবার ভেঙে গেলে বা অসম্পূর্ণ থাকলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ যতটা কমা প্রয়োজন, ততটা কমে না। প্রতি রাতে এমনটা চলতে থাকলে হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়াই স্বাভাবিক।
মানসিক চাপের প্রভাব
নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এই হরমোনের আধিক্য হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
রক্তনালিতে প্রদাহের শঙ্কা
টানা কয়েক দিন ঘুম ঠিকমতো না হলে শরীরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই প্রদাহ রক্তনালির ক্ষতি করে এবং ধমনীতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এতে ধমনী সরু হয়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
বিপাকীয় স্বাস্থ্যেও আঘাত
ঘুমের ঘাটতি ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে হৃদযন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর। এ ছাড়া হজমপ্রক্রিয়া ও হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম যতটা জরুরি, ঠিক ততটাই প্রয়োজন প্রতি রাতে টানা ছয় থেকে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম। বাংলাদেশেও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে একই পরামর্শ দিয়ে আসছেন— জীবনযাপনে শৃঙ্খলা আনতে হলে খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার পাশাপাশি ঘুমের মানকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ভাঙা ভাঙা ঘুম কিংবা রাতে মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা বিশ্রাম— দুটোই দীর্ঘমেয়াদে নিঃশব্দে চাপ ফেলতে পারে হৃদযন্ত্রের ওপর। তাই শুধু খাদ্যতালিকা আর ব্যায়ামের রুটিনেই সীমাবদ্ধ না থেকে, ঘুমের সময়সূচি ঠিক রাখাকেও দৈনন্দিন স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card