শিরোনাম :
ইসরায়েলে ভোট: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা বড় ধরনের যুদ্ধে বিদ্যুৎ ছাড়াই ৯০ দিন টিকবে মার্কিন ঘাঁটি মহাসংকটে দেশীয় চলচ্চিত্র, উত্তরণের পথ খুঁজলেন নির্মাতারা ‘ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব’, তারেক রহমানকে নিয়ে এক্স পোস্টে তাকাইচি মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার কাজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি দেশে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ সরকারের, মিলবে পাঁচ হাজার টাকায় ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ মৃত্যু, হামে ঝরল ৭ শিশুর প্রাণ দুই দিন পিছিয়ে শনিবার প্রকাশ হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের ফল হাসিনা ফিরতে চাইলে বাধা নেই : তথ্য উপদেষ্টা ইসরায়েলে নির্বাচন: হাড়তে পারেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী

বড় ধরনের যুদ্ধে বিদ্যুৎ ছাড়াই ৯০ দিন টিকবে মার্কিন ঘাঁটি

বিদ্যুৎ ছাড়াই ৯০ দিন টিকে থাকার প্রস্তুতি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির

বড় ধরনের যুদ্ধে দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড, সরবরাহ ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো অন্তত ৯০ দিন বাইরের সহায়তা ছাড়া চলতে পারে, সেই লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। বর্তমান প্রশাসনের আমলে এই দপ্তরের নতুন নাম ‘যুদ্ধ দফতর’।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি ‘ফোর্ট্রেস’ নামের একটি বড় উদ্যোগের অংশ। ইংরেজি এই শব্দের বাংলা অর্থ দুর্গ। উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, যে পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল বেসামরিক ব্যবস্থাগুলো অকার্যকর হয়ে পড়বে, তখনো যেন যুদ্ধ কার্যক্রম থেমে না যায়।

মুখপাত্রের বক্তব্য

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিচালনায় সাধারণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ভরসা করা যায় না। তাঁর ভাষায়, এটি একটি ভয়ংকর ঝুঁকি। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ এখন যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি। বিদ্যুৎ না থাকলে যোগাযোগ, পানি সরবরাহ, লজিস্টিকস, উৎপাদন, এমনকি সামরিক কমান্ড কাঠামোও অচল হয়ে পড়ে।

পরিকল্পনার আওতায় মূল ভূখণ্ডের বড় ঘাঁটিগুলোকে এমনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে সেগুলো অন্তত ৯০ দিন বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম স্বাধীনভাবে চালাতে পারে।

বিকল্প বিদ্যুতের ভাবনা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক গ্রিডের ওপর সামরিক বাহিনীর নির্ভরতা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ। যোগাযোগ ও লজিস্টিকস থেকে অস্ত্র উৎপাদন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এই নির্ভরতা রয়েছে। তাই বহনযোগ্য পরমাণু চুল্লি, বড় আকারের ব্যাটারি স্টোরেজ ও মাইক্রোগ্রিড ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঘাঁটিগুলোকে বেসামরিক গ্রিড থেকে আলাদা রাখা যাবে।

পার্নেল বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে অবশ্যই স্বাধীন, সুরক্ষিত এবং বিকল্প ব্যবস্থাসম্পন্ন হতে হবে। বড় ঘাঁটিগুলোর ওপর বেসামরিক বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা পেন্টাগন আগেই ঘোষণা করেছিল। ৯০ দিন টিকে থাকার শর্ত সেই উদ্যোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।

সরবরাহ ও মজুতের প্রস্তুতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংকটের সময় বেসামরিক কারখানাকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে ব্যবহারের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। অস্ত্র, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করতে বিকল্প সাপ্লাই চেন এবং কৌশলগত মজুতও গড়ে তোলা হচ্ছে।

পার্নেলের মতে, ভবিষ্যতের সংঘাত সম্ভবত একাধিক ফ্রন্টে লড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তাই গোলাবারুদ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইলেকট্রনিক যন্ত্র, খুচরা যন্ত্রাংশ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের কৌশলগত মজুত গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মজুতের পরিমাণ নির্ভর করবে সামরিক বাহিনী কত দ্রুত এসব সামগ্রী ব্যবহার করছে এবং উৎপাদকদের পুনরায় জোগান দিতে কত সময় লাগছে, তার ওপর।

নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

পার্নেল বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ধারণার বড় অংশ গড়ে উঠেছিল একটি সেকেলে অনুমানের ওপর। সেই অনুমান হলো, দুই মহাসাগর যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেবে। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোঝেন যে সেই পুরোনো পৃথিবী আর নেই। ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্প, পশ্চিম গোলার্ধে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া এবং গ্রিনল্যান্ড ও পানামার মতো অঞ্চলের দিকে নজর দেওয়াকে তিনি এই নতুন চিন্তার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রেক্ষাপট

পেন্টাগনের এই উদ্যোগ প্রকাশ্যে এসেছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আট মাসে পা দিতে চলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় কোনো সংঘাত আন্তর্জাতিক সরবরাহপথে বিঘ্ন ঘটালে মার্কিন বাহিনী গোলাবারুদ, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে সংকটে পড়তে পারে।

যে বিষয়গুলো নিশ্চিত নয়: পরিকল্পনাটি মূলত ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদননির্ভর। এর বাইরে স্বাধীন সূত্রে যাচাই করা যায়নি। কোন কোন ঘাঁটি এর আওতায় আসবে, বাস্তবায়নের সময়সীমা বা ব্যয় কত, কিংবা কী পরিমাণ সামগ্রী মজুত হবে, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

সূত্র: আনন্দবাজার ডট কম; ফক্স নিউজ ডিজিটাল

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলে ভোট: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইসরায়েলে নির্বাচন: হাড়তে পারেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী

২৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বড় ধরনের যুদ্ধে বিদ্যুৎ ছাড়াই ৯০ দিন টিকবে মার্কিন ঘাঁটি

আপডেট সময় ১১:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিদ্যুৎ ছাড়াই ৯০ দিন টিকে থাকার প্রস্তুতি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির

বড় ধরনের যুদ্ধে দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড, সরবরাহ ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো অন্তত ৯০ দিন বাইরের সহায়তা ছাড়া চলতে পারে, সেই লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। বর্তমান প্রশাসনের আমলে এই দপ্তরের নতুন নাম ‘যুদ্ধ দফতর’।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি ‘ফোর্ট্রেস’ নামের একটি বড় উদ্যোগের অংশ। ইংরেজি এই শব্দের বাংলা অর্থ দুর্গ। উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, যে পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল বেসামরিক ব্যবস্থাগুলো অকার্যকর হয়ে পড়বে, তখনো যেন যুদ্ধ কার্যক্রম থেমে না যায়।

মুখপাত্রের বক্তব্য

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিচালনায় সাধারণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ভরসা করা যায় না। তাঁর ভাষায়, এটি একটি ভয়ংকর ঝুঁকি। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ এখন যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি। বিদ্যুৎ না থাকলে যোগাযোগ, পানি সরবরাহ, লজিস্টিকস, উৎপাদন, এমনকি সামরিক কমান্ড কাঠামোও অচল হয়ে পড়ে।

পরিকল্পনার আওতায় মূল ভূখণ্ডের বড় ঘাঁটিগুলোকে এমনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে সেগুলো অন্তত ৯০ দিন বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম স্বাধীনভাবে চালাতে পারে।

বিকল্প বিদ্যুতের ভাবনা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক গ্রিডের ওপর সামরিক বাহিনীর নির্ভরতা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ। যোগাযোগ ও লজিস্টিকস থেকে অস্ত্র উৎপাদন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এই নির্ভরতা রয়েছে। তাই বহনযোগ্য পরমাণু চুল্লি, বড় আকারের ব্যাটারি স্টোরেজ ও মাইক্রোগ্রিড ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঘাঁটিগুলোকে বেসামরিক গ্রিড থেকে আলাদা রাখা যাবে।

পার্নেল বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে অবশ্যই স্বাধীন, সুরক্ষিত এবং বিকল্প ব্যবস্থাসম্পন্ন হতে হবে। বড় ঘাঁটিগুলোর ওপর বেসামরিক বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা পেন্টাগন আগেই ঘোষণা করেছিল। ৯০ দিন টিকে থাকার শর্ত সেই উদ্যোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।

সরবরাহ ও মজুতের প্রস্তুতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংকটের সময় বেসামরিক কারখানাকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে ব্যবহারের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। অস্ত্র, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করতে বিকল্প সাপ্লাই চেন এবং কৌশলগত মজুতও গড়ে তোলা হচ্ছে।

পার্নেলের মতে, ভবিষ্যতের সংঘাত সম্ভবত একাধিক ফ্রন্টে লড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তাই গোলাবারুদ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইলেকট্রনিক যন্ত্র, খুচরা যন্ত্রাংশ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের কৌশলগত মজুত গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মজুতের পরিমাণ নির্ভর করবে সামরিক বাহিনী কত দ্রুত এসব সামগ্রী ব্যবহার করছে এবং উৎপাদকদের পুনরায় জোগান দিতে কত সময় লাগছে, তার ওপর।

নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

পার্নেল বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ধারণার বড় অংশ গড়ে উঠেছিল একটি সেকেলে অনুমানের ওপর। সেই অনুমান হলো, দুই মহাসাগর যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেবে। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোঝেন যে সেই পুরোনো পৃথিবী আর নেই। ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্প, পশ্চিম গোলার্ধে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া এবং গ্রিনল্যান্ড ও পানামার মতো অঞ্চলের দিকে নজর দেওয়াকে তিনি এই নতুন চিন্তার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রেক্ষাপট

পেন্টাগনের এই উদ্যোগ প্রকাশ্যে এসেছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আট মাসে পা দিতে চলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় কোনো সংঘাত আন্তর্জাতিক সরবরাহপথে বিঘ্ন ঘটালে মার্কিন বাহিনী গোলাবারুদ, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে সংকটে পড়তে পারে।

যে বিষয়গুলো নিশ্চিত নয়: পরিকল্পনাটি মূলত ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদননির্ভর। এর বাইরে স্বাধীন সূত্রে যাচাই করা যায়নি। কোন কোন ঘাঁটি এর আওতায় আসবে, বাস্তবায়নের সময়সীমা বা ব্যয় কত, কিংবা কী পরিমাণ সামগ্রী মজুত হবে, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

সূত্র: আনন্দবাজার ডট কম; ফক্স নিউজ ডিজিটাল

Share this news as a Photo Card