শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত আর লিটন দাস। তাদের ব্যাটে ভর করে লঁড়াকু পুঁজি পায় টাইগাররা। বাকি কাজটা সারেন বোলাররা। চট্টগ্রামের ব্যাটিং স্বর্গেও আগুন ঝড়ালেন নাহিদ রানা, স্লোয়ার-কাটারে পরাস্ত করলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এতেই পথ হারাল নিউজিল্যান্ড।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ৪৪.৫ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২১০ রান তুলতে পারে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ জয় পায় ৫৫ রানে।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে এগিয়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ জয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। এবার তৃতীয় ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল টাইগাররা।
রান তাড়ায় নেমে ধীরস্থির শুরু করে নিউজিল্যান্ড। ব্যাটাররা সময় নিয়ে উইকেটে থিতু হয়েছেন, এরপরই আঘাত হেনেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। এতে বেড়েছে প্রয়োজনীয় রানরেট। শেষদিকে সেটিই চাপ তৈরি করেছে কিউইদের ওপর।
ম্যাচের তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ফিজের বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন হেনরি নিকোলস। ১০ বলে ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
পাওয়ার-প্লেতে বাংলাদেশ আর উইকেট না পেলেও ইকোনমিকাল বোলিংয়ে চেপে ধরে রাখে কিউইদের। তিন নম্বরে নেমে উইকেটে থিতু হচ্ছিলেন উইল ইয়াং। তবে তাকে সেই সুযোগ দেননি নাহিদ রানা। তার অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইয়াং (২৫ বলে ১৯)।
চার নম্বরে নেমে বেশি সময় উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি কিউই অধিনায়ক টম লাথাম। ১৩ বলে ৫ রান করে ফেরেন তিনি।
নিক কেলি আর মোহাম্মদ আব্বাসের ব্যাটে চতুর্থ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে নিউজিল্যান্ড। হাফসেঞ্চুরি তুলে নেওয়া কেলিকে ফিরিয়ে ৪৭ রানের জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। ৮০ বলে ৫৯ রান করে ফেরেন কেলি।
এরপর ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। দ্রুতই উইকেট তুলে নিতে থাকে বাংলাদেশ। কিউইদের লেজ কেটে দিয়ে ফাইফার তুলে নেন মুস্তাফিজুর রহমান।
চার নম্বরে নামা ডিন ফক্সক্রফট একপ্রান্ত আগলে রেখে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শেষদিকে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভয় ধরিয়েছিলেন তিনি। তবে তার ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেস ব্যাটার হিসেবে ফেরার আগে ৭১ বলে ৭৫ রান করেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থেমেছে ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্রুতই বিদায় নেন সাইফ হাসান (২ বলে ০), তানজিদ হাসান তামিম (৫ বলে ১) আর সৌম্য সরকার (২৬ বলে ১৮)। পাওয়ার-প্লেতেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন শান্ত আর লিটন। তাদের জুটি থেকে আসে ১৭৮ বলে ১৬০ রান। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির পথে ছুটছিলেন লিটন। এর আগেই অবশ্য তাকে থামিয়েছেন জেডেন লিনক্স। ৯১ বলে ৭৬ রান করে লিটন ফিরলে ভাঙে এই জুটি।
লিটন ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। এরপর হাত খুলে খেলতে গিয়ে উইকেট দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১৯ বলে ১০৫ রান করে ফেরেন তিনি।
শেষদিকে তাওহিদ হৃদয় ২৯ বলে ৩৩ আর মেহেদী হাসান মিরাজের ১৮ বলে ২২ রানে লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (সাইফ ০, তামিম ১, সৌম্য ১৮, শান্ত ১০৫, লিটন ৭৬, মিরাজ ২২, শরিফুল ১, তানভীর ০, হৃদয় ৩৩*, মুস্তাফিজ ৩*; ও’রোর্ক ৭-১-৩২-৩, স্মিথ ৯-০-৫০-০, লিস্টার ১০-০-৬২-২, আব্বাস ৫-০-১৬-০, ক্লার্কসন ৩-০-১৯-০, লিনক্স ১০-০-৫০-২, ফক্সক্রফট ৬-০-৩৫-১
নিউজিল্যান্ড : ৪৪.৫ ওভারে ২১০/১০ (নিকোলস ৪, কেলি ৫৯, ইয়ং ১৯, লাথাম ৫, আব্বাস ২৫, ফক্সক্রফট ৭৫, ক্লার্কসন ৬, স্মিথ ২, লিনক্স ২, ও’রোর্ক ২, লিস্টার ২*; শরিফুল ৭-০-১৯-১, মুস্তাফিজ ৯-২-৪৩-৫, নাহিদ ১০-১-৩৭-২, তানভীর ১০-০-৭-০, মিরাজ ৮.৫-০-৩৬-২)
ফলাফল : বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।
সিরিজ : বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















