ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী আসনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র জোটের সবার মনোনয়নপত্র বৈধ

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ৩৬ জনকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে স্বতন্ত্র জোটের একমাত্র প্রার্থীও বৈধ হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান।

মঈন উদ্দীন খান বলেন, “বিএনপি জোটের ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্বতন্ত্র জোটের একজনের মনোনয়নপত্রও গ্রহণ করা হয়েছে।”

এসময় সহকারী রিটার্নিং অফিসার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, কোনো দল বা জোটের সমর্থন না থাকায় আলাদাভাবে জমা দেওয়া তিনজনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল করা হয়েছে।

সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। জোটের বরাদ্দ পাওয়া আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র মঙ্গলবার জমা পড়ে। এর মধ্যে বিএনপি জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেন ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন, আর স্বতন্ত্র জোটের একজন।

বাছাইয়ের প্রথম দিন বুধবার জামায়াত জোটের ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হলেও শরিক দল এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আটকে গেছে।

সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় বাছাইয়ে বাদ পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে এ প্রার্থীর; বৃহস্পতিবার দুপুরে এনসিপির এ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বিএনপি জোটের ৩৬ জন
বিএনপি ও তার মিত্রদের জন্য বরাদ্দ আসনে দলটির নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য যেমন রয়েছেন, তেমনই সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি নেতাদের স্ত্রী-কন্যা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেত্রী ও সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরাও রয়েছেন।

বিএনপির বৈধ প্রার্থীরা হলেন—সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোছাম্মৎ ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা।

স্বতন্ত্র জোটের একজনের মনোনয়নপত্র বৈধ, বাকি তিনজন বাদ
ক্ষমতাসীন বিএনপি, বিরোধী দল জামায়াত ও স্বতন্ত্র জোটের ৫০ জন মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর বাইরে আরও তিনজনের মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

স্বতন্ত্র জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন ছাত্রদলের সাবেক (শ্রাবণ-জুয়েল কমিটির) সহ সভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই। বৃহস্পতিবার বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

তফসিল অনুযায়ী, বুধ ও বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র বাছাই হয়। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় রয়েছে। ১২ মে ভোটের তারিখ ঠিক করা আছে।

মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে আসন সংখ্যার সমান সংখ্যক বৈধ প্রার্থী হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন তারা। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটাভুটির নজির নেই। আইন অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে ভোটে জয়ী দল বা জোটের আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী বিএনপি ও তার মিত্ররা ৩৬, জামায়াত জোট ১৩ ও স্বতন্ত্র জোট একটি আসনে পেয়েছে এবার।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

নারী আসনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র জোটের সবার মনোনয়নপত্র বৈধ

আপডেট সময় ০১:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ৩৬ জনকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে স্বতন্ত্র জোটের একমাত্র প্রার্থীও বৈধ হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান।

মঈন উদ্দীন খান বলেন, “বিএনপি জোটের ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্বতন্ত্র জোটের একজনের মনোনয়নপত্রও গ্রহণ করা হয়েছে।”

এসময় সহকারী রিটার্নিং অফিসার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, কোনো দল বা জোটের সমর্থন না থাকায় আলাদাভাবে জমা দেওয়া তিনজনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল করা হয়েছে।

সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। জোটের বরাদ্দ পাওয়া আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র মঙ্গলবার জমা পড়ে। এর মধ্যে বিএনপি জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেন ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন, আর স্বতন্ত্র জোটের একজন।

বাছাইয়ের প্রথম দিন বুধবার জামায়াত জোটের ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হলেও শরিক দল এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আটকে গেছে।

সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় বাছাইয়ে বাদ পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে এ প্রার্থীর; বৃহস্পতিবার দুপুরে এনসিপির এ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বিএনপি জোটের ৩৬ জন
বিএনপি ও তার মিত্রদের জন্য বরাদ্দ আসনে দলটির নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য যেমন রয়েছেন, তেমনই সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি নেতাদের স্ত্রী-কন্যা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেত্রী ও সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরাও রয়েছেন।

বিএনপির বৈধ প্রার্থীরা হলেন—সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোছাম্মৎ ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা।

স্বতন্ত্র জোটের একজনের মনোনয়নপত্র বৈধ, বাকি তিনজন বাদ
ক্ষমতাসীন বিএনপি, বিরোধী দল জামায়াত ও স্বতন্ত্র জোটের ৫০ জন মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর বাইরে আরও তিনজনের মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

স্বতন্ত্র জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন ছাত্রদলের সাবেক (শ্রাবণ-জুয়েল কমিটির) সহ সভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই। বৃহস্পতিবার বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

তফসিল অনুযায়ী, বুধ ও বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র বাছাই হয়। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় রয়েছে। ১২ মে ভোটের তারিখ ঠিক করা আছে।

মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে আসন সংখ্যার সমান সংখ্যক বৈধ প্রার্থী হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন তারা। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটাভুটির নজির নেই। আইন অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে ভোটে জয়ী দল বা জোটের আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী বিএনপি ও তার মিত্ররা ৩৬, জামায়াত জোট ১৩ ও স্বতন্ত্র জোট একটি আসনে পেয়েছে এবার।