শিরোনাম :
আগামী গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য: বিদ্যুৎমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে : প্রধানমন্ত্রী এআই যেন বেকারত্ব আরও জটিল না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারিয়ে ইরান যুদ্ধের দায় আংশিক মানলেন ট্রাম্প মোংলায় নতুন শিল্পকারখানা গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ‘ফিউচার মেকার্স’ জিতে নিল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর শিল্পমালিক ও সাবেক মন্ত্রীরা পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় ঢাকা ও আশপাশে মোতায়েন ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মাল্টা পাইকারিতে ১৮৫, খুচরায় ৩৯০ টাকা: দামে এত ফারাক কেন

প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো জাপান

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ১৫ এপ্রিল টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন। ছবি: এএফপি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতিতে বড় পরিবর্তন এনে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বিদেশে বিক্রির পথ উন্মুক্ত হলো।

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাকাইচি জানান, এই পরিবর্তনের ফলে ‘প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সব ধরনের স্থানান্তর নীতিগতভাবে সম্ভব হবে।’ তবে তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি, কোন কোন অস্ত্র রপ্তানি করা হবে। খবর আল জাজিরার।

জাপানের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নীতির আওতায় যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তাকাইচি আরও বলেন, অস্ত্র ক্রয়কারী দেশগুলোকে অবশ্যই জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলো ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান কঠিন নিরাপত্তা পরিবেশে কোনো একটি দেশের পক্ষে একা নিজেদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

জাপানের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৭টি দেশ নতুন নীতির আওতায় জাপানের তৈরি অস্ত্র কিনতে পারবে। ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাড়লে এই তালিকা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

এর আগে ১৯৬৭ সালে প্রণীত এবং ১৯৭৬ সালে কার্যকর হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, জাপান কেবল অ-প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম- যেমন নজরদারি বা মাইন অপসারণে ব্যবহৃত উপকরণ রপ্তানি করতে পারত। নতুন নীতিতে সেই সীমাবদ্ধতা উঠে গেলেও, যেখানে সক্রিয় সংঘাত চলছে এমন দেশে অস্ত্র রপ্তানিতে এখনও কিছু বিধিনিষেধ থাকবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনায় ছাড় দেওয়া হতে পারে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় জাপানের কোম্পানি মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর জন্য ১১টি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে প্রথম তিনটি নির্মাণ করবে। যার মূল্য প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার।

নীতিগত এই পরিবর্তনের পাশাপাশি তাকাইচি টোকিওর ইয়াসুকুনি শ্রাইনে বসন্ত উৎসব উপলক্ষে একটি ধর্মীয় উৎসর্গ পাঠিয়েছেন বলে খবর এসেছে। উনিশ শতকে নির্মিত এই মন্দিরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের স্মরণ করা হয়, তবে সেখানে এক হাজারের বেশি দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীর নামও রয়েছে, যার মধ্যে ‘ক্লাস-এ’ অপরাধে দোষী ১৪ জনও অন্তর্ভুক্ত।

এ কারণে চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কাছে জাপানি নেতাদের এই মন্দিরে যাওয়া বা উৎসর্গ পাঠানো দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে, বিশেষ করে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার পর জাপান যে শান্তিবাদী সংবিধান গ্রহণ করেছিল, সাম্প্রতিক এই নীতিগত পরিবর্তন সেই অবস্থান থেকে বড় সরে আসা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে জেলা শিল্পী কল্যাণ সোসাইটির যাত্রা শুরু

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মাল্টা পাইকারিতে ১৮৫, খুচরায় ৩৯০ টাকা: দামে এত ফারাক কেন

০৫ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো জাপান

আপডেট সময় ১২:৪৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতিতে বড় পরিবর্তন এনে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বিদেশে বিক্রির পথ উন্মুক্ত হলো।

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাকাইচি জানান, এই পরিবর্তনের ফলে ‘প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সব ধরনের স্থানান্তর নীতিগতভাবে সম্ভব হবে।’ তবে তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি, কোন কোন অস্ত্র রপ্তানি করা হবে। খবর আল জাজিরার।

জাপানের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নীতির আওতায় যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তাকাইচি আরও বলেন, অস্ত্র ক্রয়কারী দেশগুলোকে অবশ্যই জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলো ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান কঠিন নিরাপত্তা পরিবেশে কোনো একটি দেশের পক্ষে একা নিজেদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

জাপানের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৭টি দেশ নতুন নীতির আওতায় জাপানের তৈরি অস্ত্র কিনতে পারবে। ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাড়লে এই তালিকা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

এর আগে ১৯৬৭ সালে প্রণীত এবং ১৯৭৬ সালে কার্যকর হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, জাপান কেবল অ-প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম- যেমন নজরদারি বা মাইন অপসারণে ব্যবহৃত উপকরণ রপ্তানি করতে পারত। নতুন নীতিতে সেই সীমাবদ্ধতা উঠে গেলেও, যেখানে সক্রিয় সংঘাত চলছে এমন দেশে অস্ত্র রপ্তানিতে এখনও কিছু বিধিনিষেধ থাকবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনায় ছাড় দেওয়া হতে পারে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় জাপানের কোম্পানি মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর জন্য ১১টি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে প্রথম তিনটি নির্মাণ করবে। যার মূল্য প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার।

নীতিগত এই পরিবর্তনের পাশাপাশি তাকাইচি টোকিওর ইয়াসুকুনি শ্রাইনে বসন্ত উৎসব উপলক্ষে একটি ধর্মীয় উৎসর্গ পাঠিয়েছেন বলে খবর এসেছে। উনিশ শতকে নির্মিত এই মন্দিরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের স্মরণ করা হয়, তবে সেখানে এক হাজারের বেশি দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীর নামও রয়েছে, যার মধ্যে ‘ক্লাস-এ’ অপরাধে দোষী ১৪ জনও অন্তর্ভুক্ত।

এ কারণে চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কাছে জাপানি নেতাদের এই মন্দিরে যাওয়া বা উৎসর্গ পাঠানো দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে, বিশেষ করে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার পর জাপান যে শান্তিবাদী সংবিধান গ্রহণ করেছিল, সাম্প্রতিক এই নীতিগত পরিবর্তন সেই অবস্থান থেকে বড় সরে আসা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card