ডেসটিনি-২০০০ লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রফিকুল আমীন বলেছেন, আমি আমার ৪৫ লক্ষ বিনিয়োগকারীদের টাকা লাভসহ ফেরত দিতে চাই। মুক্তি দিতে চাই তাদের মানবেতর জীবন যাপন থেকে। এজন্য সরকারকে আমার ব্যাংক হিসাব ফেরত দিতে হবে, এবং আমার যে সকল প্রতিষ্ঠান আদালতের নির্দেশে আমার হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করেছে সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। সেই সাথে দিতে হবে বৈধভাবে ব্যবসার করার সুযোগ। এটা হলে আগামী ত্রিশ দিন পর থেকেই আমি আমার বিনিয়োগকারীদের সমুদয় টাকা লভাংশসহ ফেরত দিতে শুরু করতে পারবো।
গতকাল শনিবার মহাখালীস্থ বৈশাখী টিভি ভবনের চতুর্থ তলায় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল আমীন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমার সাথে অন্যায় আচরণ করেছে। তাদের হিংসার রোষানলে পড়ে আমাকে বার বছর পাঁচ মাস তিনদিন কারাগারের অন্ধকার প্রোকোষ্টে থাকতে হয়েছে। অন্যায়ভাবে বিভিন্ন বাহিনী দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি নাকি বাইশ হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিং করেছি। কিন্তু দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে তা প্রমাণিত হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমাকে বৈশাখী টিভিতে ঢুকতে দেওয়া হয়না। অথচ আমি এ প্রতিষ্ঠানের ৯৮ শতাংশ শেয়ারের বৈধ মালিক। এক অদৃশ্য ইশারায় আমাকে আমার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও অবাঞ্ছিত করে রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
রফিকুল আমীন বলেন, আমি সাধারণ মানুষকে স্বপ্ন দেখাই, এবং সেই পূরণে সহযোগিতা করি। বড়লোক স্বপ্ন দেখে স্বপ্ন বড় করার। আর আমি স্বপ্ন দেখাই গরীব মানুষকে, একজন সাধারণ মানুষকে, সে কীভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।
ডেসটিনি প্রতিষ্ঠার অতীতের বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরে স্বপ্নবাজ এ মানুষটি বলেন, যে ডেসটিনি নিয়ে এতো প্রবাকান্ডা সেই প্রতিষ্ঠান একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ নয় বছরের ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টায় এটি মহিরূহতে পরিণত হয়েছিল। এজন্য আমাকে দেশের প্রায় চারশত উপজেলা ঘুরতে হয়েছে। যেখানে আমার সময় লেগেছে চার বছরের বেশি। এছাড়া আজকে যারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তারা এক সময় জিজিয়ান নামক একটি এমএলএম প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলো। এ পর্যায়ে যখন জিজিয়ান দেওলিয়া হয়ে পড়ে, তখন আমি তাদেরকে ডেসটিনিতে এনে পুণর্বাসন করি। তারা প্রত্যেকেই আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। আজ তারাই আমাকে বৈশাখী টিভিতে ঢুকতে দিচ্ছে না।
বিগত বিএনপি আমলের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে রফিকুল আমীন বলেন, বিএনপি’র শাসনামলে সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন। বর্তমানে সেই বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। দেশের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অনুগ্রহ করে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিন, ব্যাংক হিসাবগুলো আমার এখতিয়ারভূক্ত করার ব্যবস্থা করেন।
দেশের বেকার সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে বৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দিন, আমি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দুই কোটি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিবো। এদেশে কোনো বেকার থাকবে না। না পারলে আমার সকল ব্যবসা বাজেয়াপ্ত করে নিয়েন।
কিছু সাংবাদিকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত দিনে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক অনৈতিকভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসূত সংবাদ ছাপায়। একটি দৈনিক পত্রিকা সংবাদের শিরোনাম করে, ‘উধাও হয়ে যেতে পারে ডেসটিনি’। এভাবে ৪১২টি নিউজ করে আমার বিরুদ্ধে। আর এসব নিউজের উপর ভিত্তি করে আমার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করা হয়। আমাকে করা হয় কারারুদ্ধ। আমার সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়। আমার সকল ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়। এর ফলে আমার আমদানী করা আশি কোটি টাকার ষাট কন্টেইনার পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিলাম করে বিক্রি করে দেয়। চট্টগ্রামে ট্রি প্ল্যাটেশনের গাছগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। আমার বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য একটি চক্র কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
বিনিয়োগকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে একটি কুচক্রী মহল। আমার কোনো বিনিয়োগকারী আমার বিরুদ্ধে মামলা করেনি। অনেকে মানবেতর জীবন যাপন করলেও কেউ-ই আমার বিরুদ্ধাচরণ করেনি। আমি চাই প্রত্যেকটি মানুষকে আবারো স্বাবলম্বী করতে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমার ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আমাকে ব্যবসা করার সুযোগ দেন। তাহলে আমি আগামী এক মাস পর আমি সকল বিনিযোগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করবো।
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেন। সঠিক তথ্য তুলে ধরেন। যাতে করে আমি সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আবারো দেশের কল্যাণে, জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারি।
টাকা পাচার করার অভিযোগ প্রসঙ্গে রফিকুল আমীন বলেন, আমি যখন জেলে যাই, তখন আমার নয়টি একাউন্টে টাকা ছিলো এক কোটি চল্লিশ লাখ। অথচ আমি চার বছরে চার’শ কোটি কুড়ি লাখ টাকা সরকারকে ট্যাক্স দিয়েছি।
এসকল ঘটনার অন্তরালে কী হয়েছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি একটি ডকুমেন্টরী করছি। সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
এস. এম. মাহমুদ, ঢাকা 















